kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

বসুন্ধরা খাতা | জানা-অজানা

নীলনদ

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলনদ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা চারুপাঠ বইয়ের ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’ প্রবন্ধে নীলনদের কথা উল্লেখ আছে] 

নীলনদ বিশ্বের দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬৫০ কিলোমিটার (৪১৩০ মাইল)। নীলনদের নামকরণ নিয়ে বহু বিবাদ আছে। নীল শব্দটি সেমেটিক শব্দ নাহাল থেকে এসেছে বলে ধারণা করেন অনেকে, যার অর্থ নদী। আবার অন্য ধারণা অনুযায়ী গ্রিক শব্দ নেলস থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা। আফ্রিকা মহাদেশের এই নদীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আছে মিসর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়াসহ ১১টি দেশ। দীর্ঘ এই নদীর শ্বেত নীলনদ ও নীলাভ নীলনদ নামে দুটি উপনদী আছে। শ্বেত নীলনদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল এবং নীলাভ নীলনদ ইথিওপিয়ার তানা হ্রদের সঙ্গে সংযুক্ত। দুটি উপনদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিকটে মিলিত হয়েছে। নীলের উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিসরের মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নীলনদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মিসরীয় সভ্যতা। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের মতে, ‘মিসর নীলনদের দান।’ ঐতিহাসিক বহু ঘটনার সঙ্গে নীলনদ জড়িত। প্রাচীন মিসরের ফারাও বা ফেরাউন শাসকদের নির্দেশে নীলনদের পশ্চিমে নির্মিত হয় পিরামিড।

নীলনদের কুমির কিংবদন্তিতুল্য। এখানকার বাসিন্দাদের জীবনাচরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কুমিরের কথা। এখানকার কুমিরগুলো চার মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদী তীরবর্তী এলাকায় আছে বেবুন, কাছিমসহ প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি। নীলনদের বদ্বীপে বাস করে প্রায় চার কোটি মানুষ। পিরামিডের পাথর নিয়ে আসার জন্য নীলনদকে মিসরীয়রা পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯৭০ সালে এই নদের ওপর আসওয়ান হাই নামের একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়, যার ফলে বন্যার পানি জমিয়ে রেখে পরবর্তীকালে কৃষিকাজের জন্য সুবিধা হয়। প্রাচীন মিসরের লোকজন দেবতা হাপিকে নীলনদের দেবতা হিসেবে ধারণা করত।                              

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা