kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

পানামনগর

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃৎতীয় অধ্যায়ে পানামনগরের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পানামনগর

পানামনগর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানামনগর। এখানে কয়েক শতাব্দীর পুরনো অনেক ভবন আছে, যা বাংলার বারোভুঁইয়াদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আজ থেকে প্রায় ৪৫০ বছর আগে বারোভুঁইয়াদের দলপতি ঈশা খাঁ  বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনারগাঁয়। তখন সোনারগাঁয় বড়নগর, খাসনগর ও পানামনগর নামে তিনটি নগর ছিল। নগর তিনটির মধ্যে পানামনগরই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগর গড়ে ওঠে।

পানামনগরে মূলত ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজা, আমির-ওমরাহদের জন্য পানামনগর ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুণ কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি। পানাম ও এর আশপাশ ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছিল মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, দরবার কক্ষ, সরাইখানা, প্রমোদালয় ইত্যাদি। ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির নীলচাষের নির্মম ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে পানামের নীলকুঠি। এ ছাড়া পানামনগরে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খিরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালী নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। পানামনগরে ছিল মসলিনের বিশাল আড়ং। পানামকে ঘিরে বিকশিত চারুকারু কলাজাত শিল্পের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে পাশ্চাত্যে। পানামনগর থেকে নদীপথে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় মসলিনের কাপড় যেত।

বর্তমানে দর্শনার্থীরা যে পানামনগর দেখতে যান, সেখানে একটি মাত্রই পাকা রাস্তা। ৬০০ মিটার দীর্ঘ আর ৫ মিটার প্রস্থ এ রাস্তার দুই পাশে আছে সব মিলিয়ে ৫২টি ভবন। ভবনগুলোতে স্থানীয় নির্মাণশিল্পের ছোঁয়া থাকলেও মূলত নির্মিত হয়েছে ইউরোপীয় ও মোগল স্থাপত্যরীতির মিশ্রণে।           

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা