kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বেতগাছ

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধে বেতগাছের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেতগাছ

বেতগাছ লতানো বা সোজা বেয়ে ওঠা পামজাতীয় এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি অত্বপধপবধব পরিবারভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঈধষধসঁং ঃবহঁরং. এটি বাংলাদেশ, ভারত ভুটান, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের উদ্ভিদ।

এদের কাণ্ড দেখতে চিকন, লম্বা, কণ্টকময়, শক্ত ও শাখাহীন। বেত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ভেজা ও জংলা নিচু ভূমিতে ভালো জন্মে। বাংলাদেশে সাধারণত গ্রামের রাস্তার পাশে, বসতবাড়ির পেছনে, পতিত জমিতে ও বনে কিছুটা আর্দ্র জায়গায় বেত জন্মে। বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ছাড়াও হাওরের কান্দায় বেতগাছ জন্মে। চিরসবুজ এই উদ্ভিদ পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ৪৫ থেকে ৫৫ ফুট এবং কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি লম্বা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গোল্লা বেত, জালি বেত, ভূতুম বেত, বরা বেত ও লতা বেত—এ রকম পাঁচ-ছয় জাতের বেতগাছ পাওয়া যায়।

বেতগাছে ফুল ধরার আগে গাছ থেকে এক ধরনের মিষ্টি ঘ্রাণ আসে। তখন মৌমাছি, পিঁপড়া, মাছি ফুলের রস খেতে বেতগাছে ভিড় জমায়। বেতফল ছোট, গোলাকার বা একটু লম্বাটে গোলাকার। খেতে কষযুক্ত টক-মিষ্টি লাগে। এই ফলের খোসা শক্ত হলেও ভেতরটা নরম; কিন্তু বীজ শক্ত। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে সবুজাভ ঘিয়ে বা সাদা রঙের হয়। এই ফল থোকায় থোকায় থাকে এবং প্রতি থোকায় ২০০টি পর্যন্ত ফল থাকতে পারে। বেতগাছে ফুল আসে অক্টোবর মাসে আর ফল পাকে মার্চ-এপ্রিল মাসে।

শুকনো বেত দিয়ে চেয়ার, টেবিল, মোড়া, ডালা, কুলা, চাঙারি, ঢুষি, হাতপাখা, চালনি, টোকা, গোলা, ডোল, ডুলা, বই রাখার তাক, সোফা, দোলনা, খাট, ঝুড়ি, টেবিল ল্যাম্প, ল্যাম্পশেড প্রভৃতি হস্তশিল্প জাতীয় জিনিসপত্র তৈরি করা যায়। এই বেত গৃহনির্মাণ কাজেও ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া লম্বা বেত ফালা করে বাঁধার কাজেও ব্যবহার করা হয়। দেশের হাজার হাজার মানুষ বেতের আসবাব ও কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত।                                                         

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা