kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

লালন শাহ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে লালন শাহর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লালন শাহ

বাউলসম্রাট লালন শাহ বা লালন ফকির ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধক। তিনি একাধারে বাউল সাধক, গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। ১৭৭২ সালে বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কথিত আছে, লালন শাহ যৌবনকালে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন সঙ্গীরা তাঁকে রাস্তায় ছেড়ে চলে যায়। এ অবস্থায় সিরাজ সাঁই নামের একজন মুসলমান ফকির তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে এসে সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলেন। পরে লালন তাঁর কাছে বাউলধর্মে দীক্ষিত হন এবং ছেঁউড়িয়ায় একটি আখড়া নির্মাণ করে স্ত্রী, শিষ্যসহ বসবাস করেন। তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। তাঁর শিষ্যের সংখ্যা ছিল অনেক।

লালন শাহর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেন। তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। তাঁর সহজ-সরল শব্দচয়ন অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী গানে মানবজীবনের আদর্শ, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।

কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ এবং মীর মশাররফ হোসেন লালন শাহ ও তাঁর গানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। হরিনাথ তাঁর অতি প্রিয় শিষ্য ছিলেন। ছেঁউড়িয়া থেকে ছয় মাইল দূরে শিলাইদহে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো থেকে ২০টি গান তিনি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করেন। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় নিজ আখড়ায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজও সারা দেশ থেকে বাউলরা অক্টোবর মাসে ছেঁউড়িয়ায় মিলিত হয়ে লালন শাহর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তাঁর মৃত্যুর ১২ দিন পর মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা ‘হিতকরী’তে প্রকাশিত লেখক রাইচরণের একটি রচনায় সর্বপ্রথম লালন শাহকে ‘মহাত্মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।           

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা