kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

সপ্তম শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

মোহাম্মদ অংকন, সিএসই, বিইউবিটি, ঢাকা

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

পাখি : লীলা মজুমদার

সৃজনশীল প্রশ্ন

একটি দুর্ঘটনায় মিঠুর একটি পা প্রায় অকেজো হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর মিঠুর সুস্থতার জন্য মা তাকে ওর মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ওর মামাতো ভাইও আছে। এবং সেখানে ওর কিছুদিন অনেক ভালো কাটে। এরই মধ্যে গাড়ির আঘাতে মিঠুর মামাতো ভাইয়ের পোষা কুকুরের এক পা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর মিঠু ও ওর মামাতো ভাই কুকুরটিকে সেবাযত্ন করে। ফলে কিছুদিনের মধ্যে কুকুরটি সুস্থ হয়ে ওঠে। কুকুরের সুস্থ হয়ে ওঠা দেখে সে-ও অনুপ্রাণিত হয় এবং যথেষ্ট সুস্থ হয়ে ওঠে, বাড়ি ফেরে।

(ক) কুমুর কোন পায়ে সমস্যা ছিল?                            ১

(খ) বুনোহাঁসরা কখন আসত এবং কখন চলে যেত?                ২

(গ) মিঠু ও কুমুর সঙ্গে সাদৃশ্যতা ‘পাখি’ গল্পের আলোকে বর্ণনা করো।                          ৩

(ঘ) কুমু ও মিঠুর সুস্থ হওয়ার দিক থেকে কারা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে? বিশ্লেষণ করো।  ৪

 

উত্তর :

(ক) কুমুর ডান পায়ে সমস্যা ছিল।

 

(খ) বুনোহাঁসরা যখন শীতকাল পড়ে তখন উত্তরের ঠাণ্ডা দেশ থেকে ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসে। বাঁধের কাছে দু-তিন দিন বিশ্রাম করে। উত্তরের ঠাণ্ডা চলে গেলে তারা আবার উড়ে যায়। সমুদ্রের ওপর দিয়ে আন্দামান অবধি উড়ে যায় কেউ কেউ।

 

(গ) উদ্দীপকের মিঠু ও ‘পাখি’ গল্পের কুমুর ঘটনার অনেক সাদৃশ্যতা রয়েছে। ‘পাখি’ গল্পের কুমুর পায়ে সমস্যা আছে। সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। ওর সুস্থতার জন্য মাসির কথায় দিম্মার বাড়িতে পাঠাতে বলে। এর পরে ওর পরিবার ওকে সেখানে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে এক ছেলে থাকত, যার সঙ্গে কুমুর সময় ভালোভাবে কেটে যায়। সে আরামচেয়ারে আরাম করে, খেলে। এরই মধ্যে এক দিন সকালে সে ওর ঘরের জানালার পাশে লেবুগাছের কাছে একটি ছোট্ট বুনোহাঁস দেখতে পায়। বুনোহাঁসটি কুমুর দিকে ছলছল নয়নে তাকিয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে ওর মায়া হয়। পরে লাটুর মাধ্যমে বুনোহাঁসটিকে সেখান থেকে তুলে এনে দেখে একটি ডানা বন্দুকের গুলির আঘাত ঝুলে আছে। ভীষণ কাঁপছে। তারপর বুনোহাঁসটিকে তারা সেবাযত্ন করে এবং আস্তে আস্তে সুস্থ করে তোলে। এ থেকে কুমুও সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট অনুপ্রেরণা পায়।

অন্যদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত মিঠুর দুর্ঘটনায় একটি পা অকেজো হয়ে যায়। এবং তাকে ওর মা মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ওর মামাতো ভাইকে পেয়ে ভালোই দিন কাটতে থাকে। হঠাৎ একদিন মিঠুর মামাতো ভাইয়ের পোষা কুকুরটির একটি পা গাড়ির আঘাতে নষ্ট হয়ে যায়। তখন মিঠু ও ওর মামাতো ভাই মিলে কুকুরটিকে সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তোলে। এ থেকে মিঠুও সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।

অতএব, দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, মিঠু ও কুমুর প্রাণীর প্রতি সেবার ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা ও ভ্রমণ উভয়ই সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

(ঘ) ‘পাখি’ গল্পের কুমু ও উদ্দীপকের মিঠুর সুস্থ হওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে বুনোহাঁস ও কুকুর। ‘পাখি’ গল্পের কুমু একটি অসুস্থ শিশু, সে লেখাপড়ায় অত্যন্ত ভালো এবং ওর পায়ের ক্ষতর জন্য ওকে অনেক দিন বাসায় অবসর কাটাতে হয়। দিনগুলো ভালো না কাটায় পরে ওকে ওর দিম্মার বাড়িতে বেড়ানোর জন্য এবং একই সঙ্গে সুস্থতার জন্যও পাঠানো হয়। সেখানে ওর অনেক ভালো সময় কাটতে লাগে। সবার সঙ্গে খেলত, কথা বলত।

এক দিন দেখে জানালার কাছে লেবুগাছের ওপরে একটি ছোট্ট বুনোহাঁস ওর দিকে চেয়ে আছে। সে গুলির আঘাত পেয়ে থরথর করে কাঁপছিল। তখন লাটু ও কুমু

হাঁসটিকে তুলে আনে এবং সেবাযত্ন করে। কয়েক দিনের মধ্যে পাখিটি আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠে। এ দেখে কুমুও ওর সুস্থতা অনুভব করতে থাকে। পাখিটি একসময় সঙ্গীদের সঙ্গে উড়ে যেতে সক্ষম হয়। তারপর কুমুও সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।

অন্যদিকে উদ্দীপকের মিঠু ওর মামার বাড়িতে যায় সুস্থ হওয়ার জন্য এবং একাকিত্ব দূর করতে। একদিন দেখে ওর মামাতো ভাইয়ের কুকুর গাড়ির আঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পায়ে ক্ষত দেখা দেয়। এরপর মিঠু ও ওর মামাতো ভাই কুকুরটিকে সেবাযত্ন করে। ফলে কুকুরটি সুস্থ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। এ দেখে মিঠুও সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা পায় এবং সে একসময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মিঠু ও ‘পাখি’ গল্পের কুমুর সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে যথাক্রমে কুকুর ও বুনোহাঁস অবদান রাখে। পশুপাখির সুস্থতা দেখে যে কেউই সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা পেতে পারে—এ যেন তারই প্রমাণ।

মন্তব্য