kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা | জানা - অজানা

ঘাম

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘাম

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে হামের কথা উল্লেখ আছে]

হাম ভাইরাসজনিত একটি রোগ। হাম রোগের জন্য মোরবিল্লিভাইরাস (Morbillivirus) দায়ী, যা এক ধরনের আরএনএ প্যারামিক্সো ভাইরাস। এই ভাইরাস রক্তকণিকা গলিয়ে দেয় বা ভেঙে ফেলে, কোষ নষ্ট করে ইত্যাদি। লক্ষণ প্রকাশের আগে ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত এর জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সময় বেশিও হতে পারে।

এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। ঠিকমতো এ রোগের চিকিৎসা না করা হলে রোগী নানা জটিলতায় পড়তে পারে। তবে হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। শিশুরাই হামে বেশি আক্রান্ত হয় বলে এক বছর থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

হাম হলে প্রথমে জ্বর হয় এবং শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন অনেক তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে যেতে পারে। চোখ লাল হয় এবং চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে, হাঁচি হয়। শরীরে র‌্যাশ বা ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

সাধারণত তিন দিনের চিকিৎসায়ই এ রোগের জ্বর ভালো হয় এবং সাত দিনের মধ্যেই হামে আক্রান্ত রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। হামে আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত গোসল করাতে হয়। আর একটু পর পর ভেজা তোয়ালে বা গামছা বা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হয়। রোগীর বেশি জ্বর হলে বমিও হতে পারে।

হাম হলে রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হয়। এ সময় বাসা থেকে বের না হওয়াই ভালো। অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আর স্বাভাবিক খাবারদাবারের পাশাপাশি রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবারও দিতে হবে।

সময়মতো চিকিৎসা করানো না হলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন এমনকি মস্তিষ্কে ম্যালিডাইসিস রোগ হতে পারে। তাই হামের নিরাপদ চিকিৎসা করানো খুবই জরুরি।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা