kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

ইলিশ

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইলিশ

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ইলিশের কথা উল্লেখ আছে]

ইলিশ (Hilsa) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ধাতব রুপালি রঙের এই মাছের শরীর সুবিন্যস্ত মাঝারি আকারের আঁশে আবৃত এবং দেহ বেশ চাপা ও মাথার উপরিতল পুরু ত্বকে ঢাকা। ইলিশ Clupeidae পরিবারের অন্তর্গত এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha. এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় মাছ। স্বাদে অনন্য হওয়ায় এই মাছ বাঙালিদের কাছে খুব জনপ্রিয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

একটি ইলিশের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি। বড় আকারের ইলিশের ওজন হয় প্রায় ২.৫ কিলোগ্রাম। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সচরাচর পুরুষ ইলিশের চেয়ে আকারে বড় হয়। এ মাছ এক থেকে দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। বাংলাদেশে Tenualosa. ilisha, T. toli এবং T. kelee -এই তিন প্রজাতির ইলিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে T. ilisha অধিক পরিমাণে সংগৃহীত হয়।

ইলিশ লবণাক্ত জলের মাছ। তবে প্রজননের উদ্দেশ্যে স্বাদু পানির স্রোতের উজানে অগভীর পানিতে উঠে আসে এবং ডিম ছাড়ে। ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ব্যাপক এবং এদের সাধারণত দেখা যায় সমুদ্র, মোহনা ও নদীতে। সমুদ্রে এরা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, ভিয়েতনাম ও চীন সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সাধারণত বড় নদী ও মোহনায় সংযুক্ত খালে বর্ষাকালে এদের পাওয়া যায়। এ সময় ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে সমুদ্র থেকে বড় নদী এবং মোহনা সংযুক্ত খালে আসে। ইলিশ মাছ চাষ করা যায় না।

মুক্ত ভাসমান ডিম থেকে পোনা বেরোয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছ (জাটকা) নদীর ভাটিতে নেমে সমুদ্রে পৌঁছে বড় হয়। বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ইলিশ সারা বছর ডিম পাড়লেও সবচেয়ে কম পাড়ে ফেব্রুয়ারি-মার্চে এবং সবচেয়ে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।

ইলিশ মূলত প্লাঙ্কটনভোজী। নীল-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, ডেসমিড, কোপিপোড, রটিফার ইত্যাদিও খেয়ে থাকে। তবে এদের খাদ্যাভ্যাস বয়স ও ঋতুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ইলিশ বাংলাদেশের উন্মুক্ত জলাশয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও এককভাবে সর্বাধিক সংগৃহীত মাছ। অবশ্য সম্প্রতি ইলিশের উৎপাদন খুবই কমে গেছে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা