kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

[ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ বইয়ের নীলনদ আর পিরামিডের দেশ প্রবন্ধে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কথা উল্লেখ আছে]

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি নাফ নদীর মোহনায়, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এই দ্বীপের আদি নাম জিনজিরা।

১৮৯০ সালের দিকে কিছু বাঙালি ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মত্স্যজীবী মানুষ এই দ্বীপে বাস করতে শুরু করে। জলকষ্ট ও ক্লান্তি দূরীকরণের জন্য তারা প্রচুর পরিমাণে নারকেলগাছ এই দ্বীপে রোপণ করে। কালক্রমে পুরো দ্বীপটি একসময় ‘নারকেলগাছ প্রধান’ দ্বীপে পরিণত হয়।

১৯০০ সালে খ্রিস্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম দেওয়া হয়। এই দ্বীপের আয়তন প্রায় আট বর্গকিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। এই দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশকে বলা হয় নারকেল জিনজিরা বা উত্তরপাড়া। দক্ষিণ অংশকে বলা হয় দক্ষিণপাড়া এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বদিকে বিস্তৃত একটি সংকীর্ণ লেজের মতো এলাকা। এর নাম গলাচিপা। দ্বীপের দক্ষিণে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের ছোট দ্বীপ আছে, যা স্থানীয়ভাবে ছেড়াদিয়া বা সিরাদিয়া দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি একটি জনশূন্য দ্বীপ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ভূপ্রকৃতি প্রধানত সমতল। এ দ্বীপটির প্রধান গঠন উপাদান হলো চুনাপাথর। দ্বীপটির উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়া দুই জায়গারই প্রায় মাঝখানে জলাভূমি আছে। এগুলো মিঠা পানিসমৃদ্ধ ও ফসল উত্পাদনে সহায়ক। দ্বীপটিতে কিছু কৃষিজ উত্পাদন হয়ে থাকে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।

এই দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ, ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এবং চার প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এই দ্বীপে প্রতিদিন পাঁচটি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা-যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বর্তমানে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটি সরকারি ডাকবাংলোও আছে। এই দ্বীপে বর্তমানে সাত হাজারেরও বেশি লোক বসবাস করে।

ইন্দ্রজিত্ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা