kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

মাছ ধরার ট্রলার

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাছ ধরার ট্রলার

মাছ ধরার বিভিন্ন ধরনের ট্রলার

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের দশম অধ্যায়ে মাছ ধরার ট্রলারের কথা উল্লেখ আছে]

 

মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত নৌকা, জাহাজ বা অন্যান্য নৌযানকে মাছ ধরার ট্রলার বলে। বাংলাদেশের স্বাদু পানির জলাশয়, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার কাজে নানা ধরন, আকার ও নকশার ট্রলার ব্যবহার করা হয়। এগুলো মূলত কাঠের তৈরি মাঝারি থেকে বৃহদাকার নৌকা। ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে চলাচল করে, তাই পাল থাকে না; তবে দাঁড় থাকে। চলাচলের দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য হাল থাকে।

মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের ব্রিক্সহাম ছিল বৃহত্তম মত্স্য বন্দর। এই ব্রিক্সহামেই উনিশ শতকে ট্রলারের উদ্ভাবন হয়। সেই সময়ের ট্রলার ছিল কাঠের তৈরি পালতোলা নৌকাবিশেষ। উদ্ভাবনের কিছুদিনের মধ্যেই মাছ ধরার নৌকা হিসেবে ট্রলার ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।

ব্যবহৃত সাজসরঞ্জাম ও কাজের ভিত্তিতে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মাছ ধরার ট্রলারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ প্রবর্তন করেছে। যেমন—ট্রলার, সাইড ট্রলার, স্টার্ন ট্রলার, বিম ট্রলার, ওয়েট-ফিশ ট্রলার, ফ্রিজার ট্রলার প্রভৃতি। ট্রলার ছাঁকি বা ট্রল জাল টানার মতো শক্তিশালী ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি সংযুক্ত নৌযান। সাইড ট্রলার দিয়ে ছাঁকিজাল ফেলা ও টানা হয়। স্টার্ন ট্রলার আধুনিক ট্রলার। এই ট্রলারের হালের দিক দিয়ে ছাঁকিজাল ফেলা ও টানা হয়। বিম ট্রলারের কেন্দ্রীয় মাস্তুল থেকে দুদিকে বাড়ানো বিমের দুই পাশে ছাঁকিজাল বাঁধা থাকে। মাছ ধরা ও মজুতের বিশেষ পদ্ধতিই ওয়েট-ফিশ ট্রলারের বৈশিষ্ট্য। ফ্রিজার ট্রলার হিমায়নের সুবিধাযুক্ত ট্রলার। এতে এক বা একাধিক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রে মাছ ধরে তা হিমকক্ষে জমা রাখা যায়। বাংলাদেশে সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলারগুলোর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত। ১৯৯২ সাল থেকেই করপোরেশন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত।

ট্রলার মূলত জেলে নৌকা হলেও যাত্রী ও মালামাল বহনেও এসব নৌকা ব্যবহার করা হয়।     

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা