kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সৃজনশীল প্রশ্ন

এইচএসসি প্রস্তুতি । ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এইচএসসি প্রস্তুতি । ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র

সপ্তম অধ্যায়

ব্যাংক তহবিলের উৎস ও ব্যবহার

১। বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে। কোনো একটি ব্যাংক বছরে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। এ থেকে ১০০ কোটি টাকা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে একটি তহবিলে জমা রাখে। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে ব্যাংকটির যে সংগৃহীত অর্থ তা থেকে গ্রাহকদের অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ প্রদান করে। গ্রাহকদের কাছে এই ঋণ স্থাবর সম্পত্তির বিনিময়ে প্রাপ্ত ঋণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। কারণ এতে সম্পূর্ণ টাকার ওপর প্রাথমিকভাবে কোনো সুদ ধার্য করা হয় না।

ক) পূর্বস্বত্ব কী?    

খ) ঋণ আদায়ে জামানতকে সর্বশেষ ব্যবস্থা বলা হয় কেন?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মুনাফার একটি অংশ ব্যাংকের কোন ধরনের উৎস হিসেবে বিবেচিত? ব্যাখ্যা করো।         

ঘ) উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ব্যাংক প্রদত্ত কোন ধরনের ঋণকে অধিক পছন্দনীয় বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।       

 

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) পূর্বস্বত্ব এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে ঋণ প্রদানের বিপক্ষে জামানতের ওপর ব্যাংকের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।

খ) জামানত বিক্রি করে ঋণের অর্থ আদায় করার সুযোগ থাকে বিধায় জামানতকে ঋণ আদায়ের সর্বশেষ ব্যবস্থা বলা হয়।

ব্যাংক ঋণদানের আগে এর বিপরীতে অবশ্যই জামানত রেখে থাকে। কোনো কারণে ঋণগ্রহীতা ঋণের অর্থ পরিশোধ না করলে আইনগত সহায়তা ছাড়া অন্য কোনো সহায়তা পাওয়া সম্ভব নয়। আইনগতভাবে জামানত বিক্রি করে ঋণ আদায়ের সুযোগ আছে বলেই একে ঋণ আদায়ের সর্বশেষ ব্যবস্থা বলা হয়।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মুনাফার একটি অংশ বিধিবদ্ধ রিজার্ভ, যা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে বিবেচিত।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংগৃহীত আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করে, যা বিধিবদ্ধ রিজার্ভ নামে পরিচিত। আইনানুযায়ী এরূপ তহবিল ব্যাংকের শেয়ার মূলধনের সমান না হওয়া পর্যন্ত অর্জিত মুনাফা থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে ২০ শতাংশ হারে মুনাফা ব্যাংকের এরূপ তহবিলে স্থানান্তর করতে হয়।

উদ্দীপকে উল্লেখ্য একটি ব্যাংক বছরে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা করে। এর ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১০০ কোটি টাকা ব্যাংকটি আইন অনুযায়ী একটি তহবিলে জমা রাখতে বাধ্য। অর্থাৎ ব্যাংকটি ১০০ কোটি টাকা সংরক্ষণ দ্বারা বিধিবদ্ধ তহবিল গড়ে তুলেছে। আর এ বিধিবদ্ধ তহবিলকে ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখ্য ব্যাংক প্রদত্ত নগদ ঋণকে অধিক পছন্দনীয় বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ের চলতি মূলধনজনিত অসুবিধা দূরীকরণে ব্যাংক তার গ্রাহকদের অস্থাবর সম্পত্তি জামানতের বিপরীতে নগদ ঋণ প্রদান করে।

উদ্দীপকে উল্লেখ্য ব্যাংকটি জামানত হিসাবসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। আর এ সংগৃহীত অর্থ ঋণ গ্রাহকদের অস্থাবর সম্পত্তির বিনিময়ে প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ ব্যাংকটি গ্রাহকদের নগদ ঋণ প্রদান করে।

গ্রাহকদের কাছে স্থাবর সম্পত্তির বিনিময়ে প্রাপ্ত ঋণের চেয়ে নগদ ঋণ অধিক পছন্দনীয়। কারণ নগদ ঋণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার স্থাবর সম্পত্তি জামানতের প্রয়োজন হয় না, যার ফলে স্থাবর সম্পত্তি অন্য কারো কাছে হস্তান্তর হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। আর এ মঞ্জুরকৃত ঋণের ক্ষেত্রে শুধু উত্তোলিত অর্থের ওপরই সুদ ধার্য করা হয়, সম্পূর্ণ মঞ্জুরকৃত অর্থের ওপর নয়।

 

২। মিডল্যান্ড ব্যাংক জনাব রাফিকে ২০,০০,০০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে এবং ঋণের টাকা নগদ না দিয়ে তাঁর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। জনাব রাফি তাঁর হিসাব থেকে ১০,০০,০০০ টাকা উত্তোলন করলেও সমস্ত টাকার ওপরই তাঁকে সুদ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জনাব নাবিল ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাচ্ছেন। এ জন্য তিনি ব্যক্তিগত জামানত দিলেও ব্যাংক সন্তুষ্ট না হওয়ায় অতিরিক্ত জামানত রাখতে হয়।

ক) পণ্য বন্ধক কী?        

খ) ঋণ মঞ্জুরে ব্যাংকের তারল্য বিবেচনা কেন প্রয়োজন?   

গ) মিডল্যান্ড ব্যাংক জনাব রাফিকে কোন ধরনের ঋণ মঞ্জুর করেছে? ব্যাখ্যা করো।           

ঘ) জনাব নাবিলের জামানতটি কোন ধরনের জামানত? এটি কী ব্যাংকের জন্য নিরাপদ? বিশ্লেষণ করো।    

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক) পণ্য জামানতের বিনিময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করাকে পণ্য বন্ধক বলে।

খ) ব্যাংকের তারল্য বলতে চেকের প্রাপককে চাহিবামাত্র নগদে অর্থ প্রদান করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

ব্যাংক অন্যের অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে এবং উক্ত অর্থ চাহিবামাত্র গ্রাহককে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই ঋণ মঞ্জুরের সময় যদি ব্যাংক পর্যাপ্ত তারল্য না রেখে বেশির ভাগ আমানতই ঋণ হিসেবে মঞ্জুর করে, তাহলে ব্যাংককে যেকোনো সময় তারল্য সংকটে পড়তে হতে পারে। তাই ঋণ মঞ্জুরে ব্যাংকের তারল্য বিবেচনা করা উচিত।

গ) উদ্দীপকে মিডল্যান্ড ব্যাংক জনাব রাফিকে সাধারণ ঋণ বা ধার মঞ্জুর করেছে।

গ্রাহকের স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ হিসাবের বিপক্ষে ব্যাংক সাধারণ ঋণ প্রদান করে থাকে। এ হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের দিন থেকে প্রদত্ত ঋণের ওপর সুদ প্রদান করা হয়।

উদ্দীপকে মিডল্যান্ড ব্যাংক জনাব রাফিকে স্থাবর সম্পত্তির জামানতের বিপরীতে ২০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। তবে ঋণের অর্থ ব্যাংকটি নগদে প্রদান করেনি। জনাব রাফির আমানত হিসাবের মাধ্যমে ব্যাংক এই অর্থ প্রদান করেছে। এ ক্ষেত্রে উত্তোলিত ঋণের অর্থ ১০ লাখ টাকা হলেও তাঁকে মঞ্জুরকৃত সমুদয় অর্থের ওপর সুদ দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ জনাব রাফির গৃহীত ঋণটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা, এখানে প্রদত্ত ঋণের সম্পূর্ণ টাকার ওপর সুদ ধার্য করায় নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটি সাধারণ ঋণ বা ধার।

ঘ) উদ্দীপকে জনাব নাবিলের জামানতটি অতিরিক্ত জামানত, যা ব্যাংকের জন্য নিরাপদ।

ব্যাংক তার ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিক নিশ্চয়তায় স্বাভাবিক জামানতের বাইরেও অতিরিক্ত জামানত হিসেবে স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করে থাকে।

উদ্দীপকে জনাব নাবিল ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত জামানত প্রদান করলেও ব্যাংক উক্ত জামানতকে যথেষ্ট মনে করছে না। পরবর্তী সময়ে ঋণ গ্রহণে তাঁকে অতিরিক্ত জামানত প্রদান করতে হয়েছে।

জনাব নাবিল ইউনিয়ন ব্যাংককে অতিরিক্ত জামানত প্রদান করেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি ঋণের মূল্য জামানত হিসেবে ব্যক্তিক জামানতকে উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়া সহযোগী জামানত হিসেবে স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক দিয়েছেন, যা অতিরিক্ত জামানতের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। আর এ ধরনের অতিরিক্ত জামানত ইউনিয়ন ব্যাংক গ্রহণ করায় তা তাদের প্রদত্ত ঋণ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বৃদ্ধি করেছে। সুতরাং অতিরিক্ত জামানত থাকায় বলা যায়, এটি ব্যাংকের জন্য অবশ্যই নিরাপদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা