kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা | জানা-অজানা

টাইফয়েড

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টাইফয়েড

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে টাইফয়েডের কথা উল্লেখ আছে]

 

টাইফয়েড হচ্ছে একধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ, যা সালমোনেলা টাইফি ও প্যারাটাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এর জীবাণু দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে প্রধানত দেহে ছড়ায় এবং নানা ধরনের উপসর্গ অর্থাৎ লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত জীবাণু প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। জ্বর এ রোগের প্রধান লক্ষণ। জ্বর কখনো বাড়ে, কখনো কমে; তবে কোনো সময় সম্পূর্ণ ছেড়ে যায় না। টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হচ্ছে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেটব্যথা, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৪ ফারেনহাইট, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, চামড়ায় লালচে দানা দেখা দেওয়া প্রভৃতি। লক্ষণ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে।

যেকোনো বয়সেই টাইফয়েড হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ছাড়া কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সহজেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেসব জায়গায় ভ্রমণ করলেও এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। টাইফয়েড হলে রক্তক্ষরণ, অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ, মেরুদণ্ডে সংক্রমণ এমনকি কিডনিতেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টাইফয়েড দ্রুত শনাক্ত করার জন্য ব্লাড কালচার নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। যদি নমুনায় সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় রোগীর টাইফয়েড হয়েছে। প্রধানত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে ডাক্তাররা টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা করে থাকেন। নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর পরও জ্বর কমতে পাঁচ দিনও লেগে যেতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে অধিক পরিমাণে তরল খাবার দিতে হবে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং ডায়রিয়ার কারণে রোগীর শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর বেশি থাকলে পুরো শরীর ভেজা গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে হবে। অসুস্থতাকালীন হারানো পুষ্টি পুনরুদ্ধারে উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই টাইফয়েড থেকে বাঁচার মূল মন্ত্র। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর হাত পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

বর্তমানে বাজারে টাইফয়েড জ্বরের জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন এবং মুখে খাওয়ার, উভয় ধরনের টিকা পাওয়া যায়।          

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা