kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যপাঠ বইয়ের ‘পণ্ডিত সাহেব’ গল্পে মুসলিম সাহিত্য-সমাজের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুসলিম সাহিত্য-সমাজ

১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম সাহিত্য-সমাজ। সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠনটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ এফ এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদিরসহ আরো কয়েকজন। এঁরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল ‘বুদ্ধির মুক্তি’। বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। এ সংগঠনের লেখকরা তাঁদের চিন্তাধারাকে বাঙালি সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পত্রপত্রিকা প্রকাশ, সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের ব্যবস্থা এবং গ্রন্থরচনা ও প্রকাশ—এই তিনটি পথ অবলম্বন করেন। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালের মার্চ-এপ্রিলে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হতো। শিখার মুখবাণী ছিল—‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ১০ বছর (১৯২৬-১৯৩৬) সক্রিয় ছিল। নামের সঙ্গে মুসলিম শব্দটি ব্যবহার করলেও সমাজের সদস্যরা সামপ্রদায়িক ছিলেন না। এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অধিবেশনে অভ্যাগতজনের উপস্থিতির তালিকা পরীক্ষা করলেই এ কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্য সমালোচক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।            

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা