kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

সমন্বিত চাষ

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সমন্বিত চাষ

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে সমন্বিত চাষের কথা উল্লেখ আছে]

 

সমন্বিত চাষ হচ্ছে একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করা, যেমন—পুকুরে মাছ ও হাঁস-মুরগি চাষ এবং ধানক্ষেতে মাছ ও গলদা চিংড়ি চাষ।

ধারণা করা হয়, চীন সর্বপ্রথম সমন্বিত চাষ শুরু করে। ১৯৫০ সালে বিশ্বব্যাপী এ চাষব্যবস্থা আরো উন্নত হয়, বিশেষ করে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে। বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই সমন্বিত চাষ হচ্ছে। এ দেশের সমন্বিত চাষিরা পুকুরে একই সঙ্গে হাঁস-মুরগি, মাছ এবং কৃষিজমিতে ধান ও গলদা চিংড়ি বা অন্যান্য মাছ চাষ করে থাকে। এ ছাড়া অনেক উপায়ে সমন্বিত চাষ করা যায়।

সাধারণত পুকুরের ওপর ঘর তৈরি করে হাঁস-মুরগি রাখা হয়। এসব হাঁস-মুরগি পুকুরের মাছের খাদ্যের চাহিদা মেটায়। এতে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হয় না। হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা পুকুরে সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগির উচ্ছিষ্ট খাদ্য পুকুরের মাছের সম্পূরক খাদ্যের জোগান দেয়। অব্যবহৃত পুকুরপাড়ে ফলমূল এবং শাকসবজির চাষও করা যায়, সেখানে পুকুরের তলার অতিরিক্ত কাঁদা (পচা জৈব পদার্থসমৃদ্ধ) সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ফলমূল ও শাকসবজির ঝরাপাতা কম্পোস্ট সার হিসেবে পুকুরে ব্যবহার করা হয়।

পুকুর ছাড়াও কৃষকের ধানের জমিতে সমন্বিত চাষ করা যায়। কৃষকের ধানের জমিতে যে কয় মাস পানি থাকে সে সময় ধানের পাশাপাশি মাছ উৎপাদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে মাছের বিষ্ঠা ক্ষেতের উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই মাছ ধানের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে ফেলে এবং মাছের চলাচল জমিতে আগাছা জন্মাতে বাধা দেয়। সমন্বিত চাষের ফলে অল্প খরচে বাড়তি ফসল উৎপাদিত হয়। একটি ফসল অপর ফসলের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। সার ব্যবহারের খরচ কমে। শ্রমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অপচয় রোধ হয়। ঝুঁকি কম থাকে। 

►আব্দুর রাজ্জাক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা