kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা ► জানা-অজানা

সিজিয়াম

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিজিয়াম

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে সিজিয়ামের কথা উল্লেখ আছে]

 

সিজিয়াম একটি নরম রুপালি-স্বর্ণালি বর্ণের ক্ষার ধাতু। এর রাসায়নিক সংকেত Cs। ৫৫ পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট এই ধাতুর গলনাঙ্ক ২৮.৫০ সেলসিয়াস বা ৮৩.৩০ ফারেনহাইট। অর্থাৎ কক্ষ তাপমাত্রায় বা কক্ষ তাপমাত্রার খুব কাছাকাছি তাপমাত্রায় এটি তরল অবস্থায় থাকে।

১৮৬০ সালে জার্মান রসায়নবিদ রবার্ট বুনসেন (Robert Bunsen) ও পদার্থবিজ্ঞানী গুস্তাভ কির্চহফ (Gustav Kirchhoff) শিখা বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সর্বপ্রথম সিজিয়াম আবিষ্কার করেন। এর ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য রুবিডিয়াম ও পটাসিয়ামের মতো। এটি সব ধাতুর মধ্যে সর্বাধিক প্রতিক্রিয়াশীল ও পাইরোফোরিক। পাইরোফোরিক অর্থ হচ্ছে এটি এমনই এক দাহ্য বস্তু, যার সামান্য পরিমাণ বাতাসের সংস্পর্শে আসার পাঁচ মিনিটের মধ্যে জ্বলে উঠবে। আগুনের উেসর প্রয়োজন হয় না।

এই ধাতু -১১৬০ সে. (-১৭৭০ ফা.) তাপমাত্রায়ও পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করতে সক্ষম। এতে সর্বনিম্ন ইলেকট্রোনেগেটিভ উপাদান রয়েছে। এর শুধু একটি স্থিতিশীল আইসোটোপ রয়েছে, তা হলো সিজিয়াম-১৩৩।

আইনস্টাইনের প্রমাণ করেন আলোর গতি মহাবিশ্বের সবচেয়ে ধ্রুবক মাত্রা। ১৯৬৭ সালে এই ধ্রুবক মাত্রাকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি সেকেন্ড ও মিটারকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সে কাজের জন্য সিজিয়াম-১৩৩ এর একটি নির্গমন বর্ণালি থেকে দুটি নির্দিষ্ট ভিন্ন তরঙ্গ গণনা করা হয়। তখন থেকে অত্যন্ত নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়িগুলোতে ব্যাপকভাবে সিজিয়াম ব্যবহার হয়ে আসছে।

বর্তমানে সেকেন্ড মাপা হয় সিজিয়াম পরমাণু দিয়ে তৈরি ঘড়িতে। সিজিয়াম পরমাণু নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলো শুষে নিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই শক্তি তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ আকারে ছেড়ে দেয়। ঠিক যেমন আদর্শ অবস্থায় একটি পেন্ডুলাম নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশেষ একটি স্থানে পৌঁছায়। সিজিয়ামের ঘড়িতে আলোর ৯১৯,২৬,৩১,৭৭০ বার স্পন্দন বা দোলনের কালকে এক সেকেন্ড ধরা হয়। 

ইন্দ্রজিৎমণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা