kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সৃজনশীল প্রশ্ন

এইচএসসি বিশেষ প্রস্তুতি । বাংলা প্রথম পত্র

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিড়াল - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রার্থনা বেশি কিছু নয়

আমার ঘামের দাম।

তা’য়ো দেবে না কি?

তবে শোন, ধান কাটা শেষ

কাস্তের অবকাশ।

সুতরাং সময় কাটাতে

তোমার কণ্ঠনালী

এবার সে ছোঁবে।

ক) ‘মার্জার’ শব্দের অর্থ কী?  

খ) ‘সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধোনির ধনবৃদ্ধি’—ব্যাখ্যা করো।

গ) দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্চনার কথা কতটা প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।

 ঘ) উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত অধিকার বোধের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) ‘মার্জার’ শব্দের অর্থ বিড়াল।

খ) ‘সমাজের ধনবৃদ্ধির অর্থ ধোনির ধন বৃদ্ধি’—কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, সমাজের ধন বৃদ্ধি ঘটলে তা মূলত ধনীর হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।

অর্থনৈতিকভাবে সমাজের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নির্ভর করে সামাজিক সম্পদের গতিশীলতার ওপর। কারণ সম্পদের যত হাতবদল হয়, সমাজের মানুষের জীবনযাপনের মান তত বৃদ্ধি পায়। সেই সম্পদ যখন গুটিকয়েক ধনীর হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়ে, তখন সমাজের নির্ধন গরিব মানুষের জীবনযাপনের মান অনেক নিচে নেমে যায়। অথচ সমাজের উন্নতির প্রয়োজনে সমাজের ধন বৃদ্ধির নামে মূলত ধনীর ধন বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলে।

গ) উদ্দীপকে বিড়াল প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্চনার কথা পুরোপরি প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সাধারণ দরিদ্র শ্রেণির লোকেরা স্বাভাবিক খাবারের নিশ্চয়তা পেতে চায়। ধনিক শ্রেণির বঞ্চনা ও বিলাসিতার কারণে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং তারা নিগৃহীত জীবনযাপন করে। একসময় তারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং ধনীদের সাবধান করে দেয় যেন তারা দরিদ্রদের আর শোষণ না করে এবং তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়। যদি তা না দেয় তাহলে তারা ধনীদের শাসিয়ে দেয় এবং তাতেও কাজ না হলে তারা বাধ্য হয়ে ধনীদের বাসায় চুরি করে।

অন্যদিকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়ালের বক্তব্যের আড়ালে লেখক মূলত নিম্নশ্রেণির অসহায় দরিদ্র মানুষের অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন। বিড়াল বলে, ‘খাইতে পাইলে কে চুরি করে খায়?’ মাছের কাটা, এঁটেকুটো ভাত যা কিছু দিয়ে ইচ্ছা করলেই বিড়ালের ক্ষুধা দূর করা যায়। অথচ সেগুলো তারা ফেলে দেয়। বিড়াল তখন অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়ে চুরি করে খায়। বিড়ালকে খেতে দিলে সে চুরি করে খায় না; কিন্তু তাকে খেতে না দিয়ে যখন সমাজের ধনিক শ্রেণির লোকদের বেশি বেশি খাওয়ানো হয়, তখন এই দরিদ্ররা সুবিধাবঞ্চিত হয়।

উদ্দীপকে বঞ্চনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রমিক শ্রেণি বেশি কিছু নয়, শুধু তাদের প্রাপ্য সামান্য আহার চায়; কিন্তু তা-ও যখন ধনিক শ্রেণি কুক্ষিগত করে রাখে তখন গরিবরা বঞ্চিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত বঞ্চনার কথা প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ) ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বর্ণিত অধিকার বোধের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

সবল মানুষ সব সময় দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার করে। কৃপণ ধনীরা দরিদ্রদের সম্পদ কুক্ষিগত করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। এ শোষণ ও বঞ্চনার কারণে একসময় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় এই দরিদ্র মানুষদের এবং তারা ঘুরে দাঁড়ায় ও প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে তারা অধিকারসচেতন হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে বিড়াল প্রবন্ধের লেখক সমাজের দরিদ্র শ্রেণির শোষিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কমলাকান্তের রেখে যাওয়া দুধ যখন বিড়াল চুরি করে খায়, তখন তাকে শাস্তি দিতে চাইলে বিড়াল তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। কমলাকান্তকে বিড়াল যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেয় তার চুরির জন্য ধনীরা দায়ী। যেটা তার প্রাপ্য অধিকার তা সে পায় না বলে চুরি করতে বাধ্য হয়। বিড়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যদি পরবর্তী সময়ে সে খাবার না পায়, তবে আবার চুরি করবে। প্রয়োজনীয় খাদ্য সে ছিনিয়ে নেবে। না খেয়ে মরতে সে পৃথিবীতে আসেনি। উদ্দীপকে এই অধিকারের সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে।

উদ্দীপকে আরো বলা হয়েছে—শ্রমিকরা শুধু ধানের দাম চায়, যদি সেটা না পায় তবে যে কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হয় সেই কাস্তে দিয়েই তারা মালিকের কণ্ঠ ছিন্ন করতে চায়। বিড়াল প্রবন্ধে বিড়াল যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মানুষের অধিকারের কথা বলেছে। আর সে যে অধিকার আদায় করতে চেয়েছে উদ্দীপকে তার সশস্ত্র প্রকাশ ঘটেছে। এই বিচারে উদ্দীপকের মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা