kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা ► জানা-অজানা

কলিযুগ

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কলিযুগ

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যপাঠ বইয়ের অপরিচিতা গল্পে কলিযুগের কথা উল্লেখ আছে]

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী কলিযুগ হচ্ছে চার যুগের শেষ যুগ। অন্য যুগগুলো হলো সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ ও দ্বাপর যুগ।

কলিযুগকে পাপের যুগও বলা হয়। কারণ এই যুগে পুণ্য এক ভাগ এবং পাপ তিন ভাগ। বেদব্যাস রচিত বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে যে কৃষ্ণের পৃথিবী ত্যাগ করে স্বর্গারোহণের সময় থেকে পৃথিবীতে কলিযুগের সূচনা হয়। হিন্দু পণ্ডিতদের গবেষণা অনুযায়ী সময়টা ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩১০২ সাল। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে শুক্রবারে এই যুগের উৎপত্তি হয়। সনাতন ধর্ম অনুযায়ী কলিযুগের সময়কাল হলো চার লাখ ৩২ হাজার বছর। এ যুগে মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু ১২০ বছর প্রায়। দৈহিক উচ্চতা নিজের হাতে সাড়ে তিন হাত।

বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে—ব্রহ্মা সত্য যুগে সমস্ত সৃষ্টিকর্ম করেন এবং কলিতে সমস্ত সৃষ্টির উপসংহার টানেন। এই পুরাণ মতে, কম ধনের অধিকারী হয়ে মানুষ এ যুগে বেশি গর্ব করবে। ধর্মের জন্য অর্থ খরচ কম করবে। ধর্মগ্রন্থের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যাবে। মাতা-পিতাকে মানবে না। পুত্র পিতৃহত্যা বা পিতা পুত্রহত্যা করতে কুণ্ঠিত হবে না। ধর্মের জন্য ব্যয় না করে শুধু গৃহাদি নির্মাণের জন্য মানুষ অর্থ ব্যয় করবে। মানুষ পরকালের চিন্তা না করে শুধু অর্থ উপার্জনের চিন্তায়ই নিরন্তর নিমগ্ন থাকবে। এই যুগে নারীরা সাধারণত স্বেচ্ছাচারিণী ও বিলাস উপকরণে অতিশয় অনুরাগিণী হবে এবং পুরুষরা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করতে আগ্রহী থাকবে। সৎ মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি পাবে এবং দুষ্টের প্রভাব বাড়বে।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, ভগবান বিষ্ণু এই যুগের শেষের দিকে শম্ভল গ্রামে বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের বাড়িতে ব্রাহ্মণকন্যা সুমতির গর্ভে কল্কি অবতার হিসেবে জন্ম নেবেন। এটি বিষ্ণুর দশম অবতার। তিনি অসাধুদের বিনাশ করবেন। বেঁচে থাকবেন শুধু সৎ ও ধার্মিকরা। কল্কি অবতারের পর এই পৃথিবীতে আবার সত্য যুগ শুরু হবে।   

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা