kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

ষষ্ঠ শ্রেণি ► বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৃজনশীল প্রশ্ন

 

আনন্দপাঠ

আয়না—জসীমউদ্্দীন

 

সৃজনশীল প্রশ্ন

এক বনে এক অত্যাচারী সিংহ ছিল। বনের এক খরগোশ ঠিক করল সিংহকে সে উচিত শিক্ষা দেবে। খরগোশ সিংহকে একটি কূপ দেখিয়ে দিয়ে বলল, ‘এই কূপে আরেকটি সিংহ আছে। সে দাবি করছে, সে এই বনের রাজা।’ এ কথা শুনে সিংহ রেগে আগুন! উঁকি দিয়ে সে কূপের পরিষ্কার পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তর্জন-গর্জন শুরু করল। কূপের সিংহের প্রতিচ্ছবিও ঠিক একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখাল। শেষ পর্যন্ত সিংহ খেপে গিয়ে কূপের গভীর পানিতে ঝাঁপ দিল।

ক) শিশুদের জন্য লেখা জসীমউদ্্দীনের অনবদ্য রচনা কোনটি?

উত্তর : শিশুদের জন্য লেখা জসীমউদ্্দীনের অনবদ্য রচনা ‘ডালিমকুমার’।

খ) চাষি কেন আয়নায় নিজের ছবিকে তার মৃত পিতা মনে করল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : চাষি আগে কোনো দিন আয়না দেখেনি বলে আয়নার ভেতরে নিজের ছবিকে তার মৃত পিতা মনে করল।

জসীমউদ্্দীনের ‘আয়না’ গল্পের চাষি ক্ষেতে ধান কাটতে কাটতে একটি আয়না কুড়িয়ে পায়। তখনো তাদের দেশে আয়নার প্রচলন হয়নি। কারো বাড়িতে একটা আয়নাও কেউ দেখেনি। এক কাবুলিওয়ালার ঝুলি থেকে কিভাবে যেন আয়নাটি মাঠের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। আয়নাটি কুড়িয়ে নিয়ে তার ওপর নজর দিতেই চাষি নিজের চেহারা দেখতে পায়। চাষির চেহারা বড় হয়ে তার বাবার মতো হয়ে গেছে। তাই আয়নায় নিজের ছবিকে যে মৃত পিতা মনে করল।

গ) উদ্দীপকের সিংহ ‘আয়না’ গল্পে চাষিবউয়ের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের সিংহ ‘আয়না’ গল্পের চাষিবউয়ের সঙ্গে যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো—নিজের প্রতিচ্ছবিকে দ্বিতীয় সিংহ বলে মনে করা।

‘আয়না’ গল্পের চাষি কুড়িয়ে পাওয়া আয়নাটি যত্নসহকারে পানির কলসিতে লুকিয়ে রাখে। মাঠ থেকে প্রায়ই এসে সে আয়নাটি দেখত আর ছবির সঙ্গে কথা বলত। ওসব কাণ্ড দেখে চাষির বউয়ের সন্দেহ হয়। সে কলসির ভেতর থেকে আয়নাটি বের করে তাতে নিজের চেহারা দেখে মনে করে, তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে এনে কলসির ভেতর বউকে লুকিয়ে রেখেছে। আয়নায় নিজের গলার হাঁসুলি, নাকের নথ আর কপালের টিপ দেখে মনে করে, চাষি সত্যি আরেকটা বিয়ে করেছে। তাই চাষি বাড়ি ফিরে এলে সে আরো জোরে চিৎকার করতে থাকে।

উদ্দীপকের সিংহও কূপের পরিষ্কার পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে দ্বিতীয় সিংহের অস্তিত্ব কল্পনা করে তর্জন-গর্জন করতে শুরু করে। উদ্দীপকের সিংহের স্বভাবের এই দিকটি ‘আয়না’ গল্পের চাষি-বউয়ের উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

 

ঘ) ‘‘উদ্দীপক ও ‘আয়না’ গল্পের মূল ভাব একই; কিন্তু পরিণতি ভিন্ন’’—এ বিষয়ে তোমার মত দাও।

উত্তর : আয়নার কার্যকারিতা বুঝতে পারার মধ্য দিয়েই ‘আয়না’ গল্পটি উদ্দীপক থেকে ভিন্নতা পেয়েছে।

‘আয়না’ গল্পের আয়নায় চাষিবউ আয়নায় নিজের প্রতিকৃতি দেখে ভাবে, চাষি আরেকটি বিয়ে করেছে। চাষি নিজের প্রতিচ্ছবিকে যতই ‘বাজান’ বলে, ততই চাষির বউ নিজে হাঁসুলি, নথ, টিপ দেখিয়ে তাকে চাষির বউ বলে জোরে চিৎকার করতে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম ঝগড়া শুরু হয়। পাড়া-প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসে। সবাই আয়নার দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন চেহারা দেখতে পায়। নিজের চেহারা কেউ বুঝতে না পারলেও অপরের চেহারা বুঝতে পারে। তারপর সবাই আয়নার তেলেসমাতি বুঝতে পারে।

কিন্তু উদ্দীপকের সিংহ কূপের মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বনের রাজা মনে করে কূপের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘আয়না’ গল্পের মূল ভাব এক হলেও পরিণতি ভিন্ন। কারণ আয়নার তেলেসমাতি সবাই বুঝতে পারলেও সিংহ নিজের প্রতিচ্ছবিকে প্রতিদ্বন্দ্বীই ভেবেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা