kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

জানা-অজানা

হাম্মুরাবি

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হাম্মুরাবি

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘হাম্মুরাবি’র কথা উল্লেখ আছে]

খ্রিস্টপূর্ব ১৮১০ অব্দে জন্ম নেওয়া হাম্মুরাবি ছিলেন আইনের জনক এবং ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের ষষ্ঠ রাজা। পিতা সিন-মুবাল্লিতের মৃত্যুর পর মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্যাবিলন নগররাষ্ট্রের সিংহাসনে বসেছিলেন তিনি। তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ অব্দ পর্যন্ত। হাম্মুরাবি যখন সিংহাসনে বসেন তখন ব্যাবিলন রাজ্যের ক্ষেত্রফল মাত্র ৫০ বর্গ মাইল ছিল। তাঁর রাজত্বে শেষের দিকে এর আয়তন দাঁড়ায় দৈর্ঘ্যে ৮০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৫৬০ কিলোমিটার।

হাম্মুরাবি একজন প্রজাবৎসল রাজা ছিলেন। তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো ব্যাবিলনের দক্ষিণে মরু অঞ্চলের মধ্য দিয়ে একটি বৃহৎ খাল খনন করে জনগণের জলকষ্ট দূর করা। তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন এবং দূত বিনিময় প্রথা চালু করেন। হাম্মুরাবি প্রাচীন ব্যাবিলনকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশাল নগরীতে পরিণত করেন।

হাম্মুরাবির সময়ে ব্যাবিলন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত অনেক ছোট ছোট রাজ্য ছিল। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্ত রাজ্য একক সাম্রাজ্যের অধীনে আনতে সমর্থ হন। সবার ঐক্যবদ্ধ শক্তির ফলে সেই সময় তাঁর সামরিক জোটের সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজারে। তিনি নিজেও ছিলেন বীরযোদ্ধা। অনেক যুদ্ধ তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন। তবে তিনি যুদ্ধ থেকে আইন প্রণেতা হিসেবে বেশি খ্যাতি অর্জন করেন। হাম্মুরাবির কোড নামে বিখ্যাত আইন সংকলনই পৃথিবীজোড়া পরিচিতি এনে দিয়েছে তাঁকে। ১৯০১ সালে এলামিদের প্রাচীন রাজধানী সুসা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে অমূল্য এই সংকলন। মোট ১২টি পাথরের টুকরায় খোদাই করে লেখা ২৮২টি আইনের এই সংকলন পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন লিখিত আইন সংকলন হিসেবে পরিচিত। ব্যাবিলনের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আক্কাদিয়ান ভাষায় এবং কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা হয়েছিল এই আইনগুলো। বর্তমানে প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো। খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালে তিনি মারা যান।            

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা