kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

জানা-অজানা

বালাইনাশক

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বালাইনাশক

[সপ্তম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে বালাইনাশকের কথা উল্লেখ আছে]

ফসলের ক্ষতিকর উদ্ভিদ বা প্রাণী, যেমন— পোকা-মাকড়, জীবাণু, আগাছা, ইঁদুর ইত্যাদি দমন বা তাদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য যে দ্রব্য বা দ্রব্যের মিশ্রণ বা কৌশল ব্যবহার করা হয়, তাই বালাইনাশক।

সুমেরীয়রা প্রায় ৪৫০০ বছর আগে প্রথম বালাইনাশক উদ্ভাবন করে। তারা সালফার যৌগ ব্যবহার করে পোকা-মাকড় দমন করত। আধুনিককালে প্রথম রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩০ সালে। বাংলাদেশে ১৯৫৬ সাল থেকে বালাইনাশক ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বালাইনাশক সাধারণত তিন ধরনের হয়; যথা—জৈব, অরাসায়নিক ও রাসায়নিক। যেসব বালাইনাশক বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের রস/নির্যাস, প্রাণিজ উপজাত থেকে তৈরি হয়; তাই জৈব বালাইনাশক। জৈব বালাইনাশক প্রকৃতির উপাদান থেকে তৈরি করা হয়, যেমন— অ্যালামান্ডার নির্যাস, রসুন, নিমগাছের ডাল, পাতা ও রস, তামাক, মুরগির পচনশীল বিষ্ঠা, সরিষার খৈল, লাইমো ব্যাকটেরিয়া, বিভিন্ন ধরনের অণুজীব ও জীবাণু। বিভিন্ন কলাকৌশল থেকে তৈরি প্রক্রিয়াকে অরাসায়নিক বালাইনাশক বলে। যেমন—আলোর ফাঁদ পেতে পূর্ণবয়স্ক পোকা মেরে ফেলা, জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পাখি বসিয়ে পোকা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা, ধানক্ষেতে মাছের চাষ করা। আর কৃত্রিমভাবে তৈরি বালাইনাশককে রাসায়নিক বালাইনাশক বলে। জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ফসলের জন্য অত্যন্ত উপকারী; কিন্তু ব্যাপকভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষিতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হয়। রাসায়নিক বালাইনাশক একটি নীরব ঘাতক। এটিকে বিষের সঙ্গে তুলনা করা হয়। রাসায়নিক বালাইনাশক অতিরিক্ত প্রয়োগে যেসব ফসল উৎপাদিত হয় তা-ও বিষযুক্ত হয়। কাজেই পরিবেশকে বাঁচাতে এবং বিষমুক্ত ফসল ফলানোর জন্য জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত।  

 

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা