kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

এসএসসি বিশেষ প্রস্তুতি ► জীববিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসএসসি বিশেষ প্রস্তুতি ► জীববিজ্ঞান

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। প্রতিবর্তী ক্রিয়া (Reflex action) কী?

উত্তর : যেসব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।

২। স্নায়ুতাড়না বা উদ্দীপনা কী?

উত্তর : পরিবেশ থেকে যে সংবাদ স্নায়ুর ভেতর দিয়ে তরঙ্গাকারে প্রবাহিত হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে তাকে স্নায়ুতাড়না বা উদ্দীপনা বলে।

৩। স্ট্রোক কী?

উত্তর : মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়াকে স্ট্রোক বলে।

৪। প্যারালিসিস কী?

উত্তর : শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কার্যাবলি নষ্ট হওয়াকে প্যারালিসিস বলে।

৫। এপিলেপসি কী?

উত্তর : এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে।

৬। ডোপামিন কী?

উত্তর : স্নায়ুকোষ এক ধরনের নির্যাস তৈরি করে যাকে ডোপামিন বলে।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। ধানগাছের অতিবৃদ্ধি ঘটার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ধানের বাকানি রোগের জীবাণু এক প্রকার ছত্রাক, যা ধানগাছের অতিবৃদ্ধি ঘটায়। এ ছত্রাক থেকে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ নিষ্কাশিত হয়, যার প্রভাবেই ধানগাছের অতিবৃদ্ধি হয়ে থাকে।

২। দিবা দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি উদ্ভিদের ফুল, ফল ধারণকে প্রভাবিত করে—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : অনেক উদ্ভিদের ফুল ফোটা দিনের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে। ছোট দিনের উদ্ভিদের পুষ্পায়নের জন্য দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। আলোর দৈর্ঘ্য বাড়লে ছোট দিনের উদ্ভিদের ফুল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। বড় দিনের উদ্ভিদের পুষ্পায়নের জন্য দৈনিক ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। আলোর দৈর্ঘ্য কমলে বড় দিনের উদ্ভিদের ফুল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। সুতরাং দিবা দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি উদ্ভিদের ফল ও ফল ধারণকে প্রভাবিত করে।

৩। দিনের বেলায় উদ্ভিদের কাণ্ড সূর্যালোকের দিকে বেঁকে যায় কেন?

উত্তর : দিনের বেলায় উদ্ভিদের কাণ্ড সূর্যালোকের দিকে বেঁকে যাওয়ার কারণ হলো উদ্ভিদের বক্রচলন। ফটোট্রপিক চলন এক ধরনের বক্রচলন। উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা সব সময় আলোর দিকে চলন ঘটে। একে পজিটিভ ফটোট্রপিজম বলে। এ কারণেই দিনের বেলায় উদ্ভিদের কাণ্ড সূর্যালোকের দিকে বেঁকে যায়।

৪। অনিষ্টকারী পোকা দমনে ফেরোমনের ব্যবহার ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কোনো পিঁপড়া খাদ্যের খোঁজ পেলে খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। যাকে ফেরোমন বলে।

কোনো কোনো পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্ব-প্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে পেতে পারে। কোনো কোনো পতঙ্গ বাতাসে ফেরোমন নিঃসৃত করলে ২-৪ কিলোমিটার দূর থেকে তার সঙ্গীরা আকৃষ্ট হয়। ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়। তাই অনিষ্টকারী পোকা দমনে ফেরোমন ব্যবহার খুবই পরিবেশবান্ধব।

৫। হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা হয় কেন?

উত্তর : অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বলে। হরমোন অতি অল্প পরিমাণে বিশেষ বিশেষ শারীরবৃত্তীয় কাজ সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এরা উত্তেজক বা রোধক হিসেবে দেহের পরস্ফুিটন, বৃদ্ধি ও বিভিন্ন টিস্যুর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যক্তির আচরণ, স্বভাব ও আবেগপ্রবণতার ওপরও হরমোনের প্রভাব অপরিসীম। এগুলো রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে দেহের দূরবর্তী কোনো কোষ বা অঙ্গকে উদ্দীপিত করে। এ জন্য হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা হয়।

৭। সেরিব্রামকে দেহের সঞ্চালন কেন্দ্র বলা হয় কেন?

উত্তর : মস্তিষ্কের মধ্যে সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রাম হলো প্রত্যেক অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না গ্রহণের এবং প্রত্যেক অঙ্গে স্নায়ুতাড়না প্রেরণের উচ্চতর অঙ্গ। দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজের ও অনুভূতির কেন্দ্র হলো সেরিব্রাম। ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সেরিব্রামকে দেহের সঞ্চালন কেন্দ্র বলা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা