kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জানা-অজানা

হিউমাস

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে ‘হিউমাস’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হিউমাস

মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থকে হিউমাস (Humus) বলে। হিউমাসে প্রায় ৫০ শতাংশ কার্বন, ৫ শতাংশ নাইট্রোজেন, কিছু অক্সিজেন এবং তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে সালফার, ফসফরাস ও অন্যান্য মৌল থাকে। এটি কালচে রঙের হয়। মৃত গাছপালা ও প্রাণীর দেহাবশেষ পচনের মাধ্যমে হিউমাস তৈরি হয়।

জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে হিউমাসের অবদান অপরিসীম। ফসল উৎপাদনের সঙ্গে মাটির উর্বরতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মাটিকে তখনই উর্বর বলা হয়, যখন তাতে কোনো উদ্ভিদের পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যোপাদান সঠিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। মাটির অত্যাবশ্যকীয় সব পুষ্টি উপাদান বজায় রেখে গাছের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  হিউমাস।

হিউমাস রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। পানির ধারণক্ষমতা বাড়ায়, ফলে সহজেই গাছ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে পানি ও সারের অপচয় হ্রাস করে এবং এঁটেল মাটি ঝুরঝুরা করে। এটি গাছের বৃদ্ধিকারক হরমোন সরবরাহ করে, ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গরমকালে মাটির তাপমাত্রা কমাতে এবং শীতকালে গরম রাখতে সাহায্য করে অর্থাৎ মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব ঠিক রাখে। জমিতে গাছের অনুখাদ্য উপাদানের উৎস হিসেবেও এর ভূমিকা রয়েছে। এটি মাটির বুনট উন্নত করে ভূমিক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে কোনো বিষক্রিয়া সৃষ্টি হলে হিউমাস সেই বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।

আমরা মাটিতে জৈব সার, যেমন—গোবর, খামারজাত সার, কম্পোস্ট, বসতবাড়ির আশপাশে পচা আর্বজনা, সার, খৈল, সবুজ সার, ছাই, খড়-নাড়া, কচুরিপানা, পচা পাতা ইত্যাদি ব্যবহার করে হিউমাসের পরিমাণ বাড়াতে পারি। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং অল্প জমিতে বেশি ফলন পাওয়া যাবে।               

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা