kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জানা-অজানা

তিল

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে তিলের কথা উল্লেখ আছে]

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিল

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান তৈলবীজ ফসল তিল। এটি ক্ষুদ্র শস্যজাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। তেলের জন্যই মূলত তিলের চাষ হয়। খাজার জন্যও বেশ জনপ্রিয়। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষ ও চীনে এর চাষ হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে শীর্ষ তিল উৎপাদনকারী দেশ ভারত ও চীন। রপ্তানিতে শীর্ষে ভারত। আমদানিতে চীন ও জাপান।      

তিলগাছ প্রায় এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ছোট ছোট শাখায় বিস্তার লাভ করে। এর ফুল সাধারণত নীল রঙের হয়। সাদা বা হলুদ রঙেরও হতে পারে। প্রতি ফুলে একটি করে ফল অর্থাৎ বীজ থাকে। এই বীজ দেখতে অনেকটা ক্যাপসুলের মতো। বীজ পাকলে ফেটে বহু ক্ষুদ্র বীজ বের হয়। ভেতরের বীজগুলো দেখতে হয় কালো। এই বীজ থেকেই তেল পাওয়া যায়। আগে তিল ভাঙানো হতো দেশীয় তেলকল বা ঘানির মাধ্যমে। বর্তমানে আধুনিক মেশিনে ভাঙানো হয়। তবে এখনো কিছু কিছু গ্রামাঞ্চলে পুরনো দেশীয় যন্ত্রের মাধ্যমে তিলবীজ থেকে তেল বের করা হয়।

রবি ও খরিফ মৌসুম তিল চাষের উপযোগী। তবে খরিফ মৌসুমেই চাষ বেশি হয়। তিল চাষ করা হয় একক কিংবা মিশ্রভাবে। এর জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি ভালো। তিল দেশের সর্বত্রই জন্মায়। এর বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ ভাগ। রান্নার কাজ ছাড়াও এই তেল, কেশতেল ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া তিলের বীজ বিভিন্ন ধরনের মোয়া, খাজা, পিঠা, বিস্কুট ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এর শুকনা গাছ ও পাতা জ্বালানি এবং খৈল গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিলের অনেক ভেষজগুণ রয়েছে। কবিরাজি শাস্ত্রে কেশতেল হিসেবে তিলের তেল ব্যবহার করা হয়।

প্রতিদিন ৮০ গ্রাম তিল বেটে সকালে খেয়ে ৫ মিনিট পরে এক গ্লাস পানি খেলে দাঁত শক্ত হয়।

তিল রক্ত আমাশয় ও সাধারণ আমাশয় ভালো করতে উপকারী। এ ছাড়া ফোড়া দূর করতে, পচা ক্ষত দূর করতে, দাঁত ও মাড়ির রোগ দূর করতে সহায়ক।          

          ►  আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা