kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

জানা-অজানা

মোম

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে মোমের কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মোম

জলে অদ্রাব্য মিশ্র দাহ্য পদার্থ মোম।

এটি সাধারণত মৌমাছির শরীর থেকে নিঃসৃত হয়। কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণীর চর্বি থেকেও পাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম খনিজ তেল থেকেও মোম উৎপাদিত হয়। তিমি মাছের পেটে এক ধরনের মোমজাতীয় পদার্থ রয়েছে। তিমি এ পদার্থ শুক্রাণু অন্ত্র থেকে নির্গত করে। মোমের রাসায়নিক সংকেত C15H31COOC30H61.

মোমের গলনাঙ্ক তেলের থেকে বেশি।

মৌমাছির পেটে এক ধরনের মোম উৎপাদক গ্রন্থি রয়েছে। সেই গ্রন্থি থেকে তারা মোম নিঃসরণ করে। প্রাথমিক অবস্থায় মোম কাচের মতো স্পষ্ট ও বর্ণহীন থাকে। মৌমাছির দ্বারা নিঃসরণের পর পরাগের সঙ্গে মিশ্রণের ফলে অস্বচ্ছ হয়ে যায় এবং একপর্যায় হলুদ বা বাদামি রং ধারণ করে।

মোম মূলত তিন ধরনের—হলুদ, সাদা ও বিশুদ্ধ। মৌচাক থেকে প্রাপ্ত অপরিশোধিত মোম হচ্ছে হলুদ মোম। সাদা মোম পরিশোধিত। আর অ্যালকোহলে পরিশোধিত হলুদ মোমকে বিশুদ্ধ মোম ধরা হয়।

মৌমাছি মূলত মৌচাক নির্মাণের জন্য মোম ব্যবহার করে। এরা মোম দিয়ে মৌচাকের কোষ বানায়। এই কোষে মৌমাছি নিজেরা থাকে এবং একটি অংশে মধু সংরক্ষণ করে। মানুষ মোম দিয়ে মোমবাতি বানায়, যা আলোর অন্যতম একটি উৎস। খাদ্য, প্রসাধনী ও ওষুধ উৎপাদনে মোম ব্যবহার করে। মোম দিয়ে পুতুল, সুগন্ধি, জুতা পলিশ, মুভ জাতীয় মালিশসহ বিভিন্ন শোপিসও বানানো হয়। এ ছাড়া খাবার ও বিভিন্ন ফলমূল পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে মোমের ব্যবহার হয়। মুচিরা সুতা শক্ত ও টেকসই করতে মোম ব্যবহার করে। তারা সুতার ওপর মোম মাখায়। এরপর এই মোমের ভেতর দিয়ে বিশেষ কায়দায় সুতা টেনে নেয়। মোমের প্রলেপ মাখিয়ে পানিনিরোধক কাগজও তৈরি করা হয়, যার নাম মোম-কাগজ। মোম ব্যবহার করে অনেক বস্তু চকচকে করারও প্রচলন রয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা