kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এসএসসি প্রস্তুতি ♦ জীববিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি ♦ জীববিজ্ঞান

পঞ্চম অধ্যায়

খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। মানবদেহের অন্ত অঙ্গসমূহের ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে পানির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : পানি ছাড়া দেহাভ্যন্তরে কোনো রাসায়নিক ক্রিয়া চলতে পারে না। দেহে পানি দ্রাবকরূপে কাজ করে। পানির জন্যই দেহে রক্তসঞ্চালন সম্ভব। রক্তে পরিবাহিত খাদ্যোপাদান এবং অক্সিজেন পানির মাধ্যমে দেহকোষে যায়। পরিপাককৃত খাদ্যোপাদান পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে রক্তে বিশোষিত হয়।

২। রাফেজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : শস্যদানা, ফলমূল, সবজির অপাচ্য অংশকে রাফেজ বলে। রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং বৃহদান্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সার, স্থূলতা, ক্ষুধাপ্রবণতা ও চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাস করে।

৩। সুষম খাদ্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : দেহের পরিপুষ্টির জন্য ছয় উপাদানবিশিষ্ট খাদ্যকে সুষম খাদ্য বলে। একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে। সুষম খাদ্য সহজ পাচ্য হতে হবে।

৪। বিশুদ্ধ খাদ্য বলতে কী বোঝো?

উত্তর : যে খাদ্যে শুধু একটি উপাদান থাকে তাকে বিশুদ্ধ খাদ্য বলে। যেমন—চিনি, গ্লুকোজ। এতে শর্করা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না।

৫। যকৃতকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় কেন?

উত্তর : যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। তাই যকৃতকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

৬। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয় কেন?

উত্তর : অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।

অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন ও লাইপেজ নামক এনজাইম থাকে। এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় গ্লুকাগন ও ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এই হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।

৭। মুখগহ্বরে কোন খাদ্য পরিপাক হয়—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মুখগহ্বরে দাঁত ও জিবের সাহায্যে খাদ্য চিবানোর ফলে খাদ্যবস্তু ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয়। এ সময় লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়ে খাদ্যের সঙ্গে মিশে যায়। লালা খাদ্যবস্তুকে গলাধঃকরণে সাহায্য করে। লালায় টায়ালিন শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।

৮। কোষ্ঠকাঠিন্য হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : কারো শক্ত পায়খানা হয় কিংবা দুই বা তারও বেশিদিন পায়খানা হয় না, এ অবস্থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। পায়খানার বেগ চেপে রাখলে, বৃহদান্ত্রে অপাচ্য খাদ্যাংশ থেকে অতিমাত্রায় পানি শোষিত হলে, পরিশ্রম না করলে, আন্ত্রিক গোলযোগে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, প্রচুর পানি পান করা, নিয়মিত শাকসবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা