kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জানা-অজানা

গরুর গাড়ি

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে গরুর গাড়ির কথা উল্লেখ আছে]

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গরুর গাড়ি

দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা পুরনো বাহন গরুর গাড়ি। এটি নামে গরুর গাড়ি হলেও মহিষ দ্বারাও টানা হয়। সাধারণত মানুষের যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের কাজে এ গাড়ি ব্যবহৃত হয়। আগে গ্রামাঞ্চলে নৌকা বা গরুর গাড়িতে চড়েই বর-কনে যেত। তখন গরুর গাড়ি ছিল অন্যতম পরিবহন ব্যবস্থা। বরপক্ষের লোকজন ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ি সাজিয়ে বরযাত্রী যেত। যেসব পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল বেশি। কৃষকরা প্রতিদিন গরুর গাড়িতে জৈব সার, গরুর খাবার ও লাঙল-মই-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১৫০০ সালের দিকে সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয়।

এ গাড়িতে একটি দণ্ডের সঙ্গে দুটি চাকা যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে থাকে একটি জোয়াল, যা গরুর ঘাড়ে রাখা হয়। দুটি গরু মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। চালক গাড়ির সামনে বসে। তার পেছনে বসে যাত্রীরা। সবার পেছনে রাখা হয় মালপত্র।

গরুর গাড়ির বড় বড় চাকা সাধারণত কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। কিছু কিছু চাকায় লোহার বেড় পরানো হয়। সম্পূর্ণ লোহার তৈরি চাকার ব্যবহারও বিরল নয়। গরুর গাড়িতে যাত্রীদের বসার জন্য পাটাতন রাখা হয়। পাটাতন বানানো হয় বাঁশ বা কাঠ দিয়ে। যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে গাড়ির ওপরে বসানো হয় ‘ছই’। ছইটি বেতের বোনা। বাঁশ ও খড় দিয়েও বোনা যায়।

বর্তমানে নানা ধরনের মোটরচালিত যানবাহনের আধিক্যের কারণে গ্রামগঞ্জের আঁকাবাঁকা মেঠোপথে ধীরে বয়ে চলা গরুর গাড়ি আর চোখে পড়ে না। গরুর গাড়ি নিয়ে অনেক জনপ্রিয় গান আছে।         

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা