kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

এসএসসি প্রস্তুতি ♦ জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি ♦ জীববিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহন

 

উদ্দীপক

আরিফ সাহেব হঠাৎ বুকে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করেন এবং প্রচণ্ডভাবে ঘামতে থাকেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, ব্যথা গলা ও বাঁ হাতে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এরপর আরিফ সাহেব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। চিকিৎসক তাঁকে কিছু পরামর্শ দিলেন।

ক) ব্যাপন কী?

ক) রক্তচাপ বলতে কী বোঝো?

গ) আরিফের সমস্যাটি কী? এর কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ) হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শগুলো মূল্যায়ন করো।

 

উত্তর :

ক) যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন বলে।

 

খ) রক্ত প্রবাহের সময় ধমনির প্রাচীরে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার বলে। রক্তচাপকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা—

i. সিস্টোলিক প্রেসার : এর আদর্শ মান ১২০ মিলিমিটার বা এর নিচে।

ii. ডায়াস্টোলিক প্রেসার : এর আদর্শ মান ৮০ মিলিমিটার বা এর নিচে।

 

গ) উদ্দীপকে আলোচিত আরিফ সাহেবের সমস্যাটি হলো—হার্ট অ্যাটাক। নিচে হার্ট অ্যাটাকের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো— 

আরিফ সাহেবের হার্ট অ্যাটাক বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে দেহের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, রক্তে গ্লুুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন—অধিক তেলযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড খাওয়া, অলস ইত্যাদি জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে আরিফ সাহেবের এ রোগ হয়। এ ছাড়া আরিফ সাহেবের উচ্চ রক্তচাপ, সর্বদা হতাশা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিমর্ষ থাকার কারণেও এ রোগ হতে পারে।

 

ঘ) উদ্দীপকে আরিফ সাহেবের রোগটি হলো হার্ট অ্যাটাক। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য চিকিৎসক আরিফ সাহেবকে ধূমপান না করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা ও হাঁটা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা, সবজি খাওয়া, ভাজা খাবার ও ফাস্ট ফুড পরিহার করার পরামর্শ দেন। তাঁর এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধগুলো নিয়মিত খেতে হবে। পাশাপাশি সঠিক জীবনধারা ও খাদ্য নির্বাচন করতে হবে। তাঁকে চর্বিযুক্ত খাবার যেমন—ফাস্ট ফুড, খাসির মাংস, ভাজা খাবার, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে; যাতে তাঁর শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল LDL বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতি না হয়। সিগারেট, জর্দাসহ নানা রকম মাদক ও নেশাজাতীয় বস্তু হৃৎপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাঁকে প্রতিদিন পরিমিত ব্যায়াম ও হাঁটা-চলার অভ্যাস করতে হবে। তাহলে তাঁর শরীরে অতিরিক্ত চর্বি পরিশ্রমের ফলে কমে যাবে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে সব সময় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে এবং কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। তাঁকে কাঁচা ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খেতে হবে। যেমন—রসুন, তেঁতুল ও ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফল। সুতরাং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথার্থ ছিল।

 

সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়

 

উদ্দীপক

জারিফের দাদির অনেক দিন ধরে খুসখুসে কাশি এবং প্রতিদিন বিকেলের দিকে জ্বর আসে। ক্রমেই শুকিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, সহজে এ রোগ প্রকাশ পায় না। জীবাণুগুলো শ্বেত রক্ত কণিকাকে পরাস্ত করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।

ক) ব্রংকাল কাকে বলে?

খ) রাত্রিবেলা গাছের নিচে ঘুমানো বিপজ্জনক কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ) জারিফের দাদির রোগ, রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো উল্লেখ করো।

ঘ) ওই রোগের জন্য দায়ী জীবাণুকে কিভাবে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সমাজে এ রোগ নির্মূল করা যায়? সে ক্ষেত্রে তোমার ভূমিকা উল্লেখ করো।

উত্তর :

ক) শ্বাসনালির শেষ অংশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যে শাখা নালি গঠন করে, তাদের ব্রংকাস বলে।

 

খ) রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসনপ্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। ফলে শ্বসনপ্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস পাতার স্টোমাটার মাধ্যমে পরিবেশে বের হয়ে যায়। পরিণত কাণ্ডের বাকলে যে লেন্টিসেল তৈরি হয় তার মাধ্যমেও এসব গ্যাসের বিনিময় হয়। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাতে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

 

গ) জারিফের দাদি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।

 

লক্ষণ

দীর্ঘদিন ধরে খুসখুসে কাশি ও বুকে ব্যথা হয়।

ভগ্ন স্বর, ওজন হ্রাস এবং ক্ষুধামান্দ্য।

হাঁপানি, ঘন ঘন জ্বর আসা।

বারবার ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া দ্বারা সংক্রামিত হওয়া।

হাড়ে ব্যথা অনুভব, দুর্বলতা, কোনো গ্রন্থি অবশ হয়ে যাওয়া, জন্ডিস দেখা দেওয়া।

 

ঘ) উদ্দীপকের রোগটি হলো যক্ষ্মা। সমাজ থেকে যক্ষ্মা বিতাড়িত করতে নিম্নলিখিত প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে রোগটি নির্মূলে কাজ করতে গেলে তা ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করতে হবে।

 

প্রতিকার ব্যবস্থা

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

এ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠিনভাবে মেনে চলতে হবে। এ জন্য পরিবার ও সমাজের সবাইকে সহযোগী হতে হবে।

রোগীকে হাসপাতালে বা স্যানোটেরিয়ামে পাঠানো বেশি নিরাপদ।

রোগীর ব্যবহারের সব কিছু পৃথক রাখতে হবে।

রোগীর কফ বা থুথু মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

এই মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে গেলে শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দেওয়া উচিত। শিশুদের জন্মের পর থেকে এক বছরের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আর টিকার প্রয়োজনীয়তা টিভি, যোগাযোগমাধ্যম বা মাইকিং ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে সবাইকে অবহিত করতে হবে।

বর্তমানে দেশের সব টিকাদান কেন্দ্রে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তা ছাড়া নিয়মিত ক্যাম্পেইন করেও আমরা রোগটি নির্মূল করতে পারি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা