kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ভাব-সম্প্রসারণ

এসএসসি প্রস্তুতি বাংলা দ্বিতীয় পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১. অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে

তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দহে

মূলভাব : অন্যায়কারী এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দানকারী, ন্যায়ের বিচারে উভয়েই সমান অপরাধী। এ জন্য তাকে বিবেক, সমাজ, দেশ ও জাতি এমনকি সৃষ্টিকর্তার কাছেও দায়ী থাকতে হবে।

সম্প্রসারিত ভাব : সমাজে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যেমন আছে, তেমনি আছে অন্যায়কারী আর পাশাপাশি অবস্থান করছে অন্যায় সহ্যকারী। সব কিছু জেনেশুনে অন্যায়কারীকে যিনি বাধা দেন না, প্রকারান্তরে অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেন, পরোক্ষভাবে তিনি দেশ ও সমাজের ক্ষতি করেন। এ ধরনের ব্যক্তিরা অন্যায় সহ্য করার জন্য অপরাধী বলে গণ্য হতে পারেন। ক্ষমা মানুষের একটি মহৎ গুণ হলেও অনেক সময় অপরাধী ক্ষমা পেলে তার অপরাধপ্রবণতা লোপ না পেয়ে বৃদ্ধি পায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষমা অপরাধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সামান্য অপরাধ ক্ষমা পেয়ে একসময় মহা অপরাধে রূপ নেয়। বস্তুত মানুষ শুধু করুণাবশতই অন্যায়কারীকে ক্ষমা করে না। তার এ ক্ষমার নেপথ্যে রয়েছে একধরনের পলায়নপর মনোভাব। নিজেকে অপরাধীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাকেই তিনি নিরাপদ বলে মনে করেন। এভাবেই সমাজে অপরাধপ্রবণতা প্রবল হয়ে ওঠে; কিন্তু মনে রাখতে হবে, অন্যায়কারী যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন তাদের মনোবল থাকে দুর্বল, ভীরু কাপুরুষের মতো। তাই সময়মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে অপরাধী দিন দিন সাহসী ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে সর্বক্ষেত্রেই তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়।

মন্তব্য : বিবেকবান মানুষকে তাই সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। তা না হলে সেও অন্যায়কারীর মতো সমান অপরাধে অপরাধী হবে।

 

২. স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন

মূলভাব : পরাধীনতার চারপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতা অর্জন দুরূহ কাজ হলেও অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে আরো বেশি ত্যাগ, সাধনা ও নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়।

 

সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকতে চায় না। সে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করে। অনেক ত্যাগ, রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা মানুষ অর্জন করে। পৃথিবীতে কোনো জাতিই বিনা কষ্টে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। তবে স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা কঠিন, বহুকষ্টে অর্জিত সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আরো কঠিন। কারণ স্বাধীনতার শত্রু কখনোই অর্জিত স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে দেয় না। তখন বিজয়ী জাতির সামনে আসে স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। সে সংগ্রাম আরো কঠিন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় শত্রু চিহ্নিত থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাও সহজ। কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রকৃত শত্রুদের চেনা যায় না। তাই দেশের পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও একে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করাও খুব কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাধীনতা লাভের পর যদি দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল থাকে, দেশের জনগণ সচেতন ও দেশপ্রেমিক না হয়, তবেই অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একতাবদ্ধ নাগরিকই শুধু দেশের যেকোনো বিপদ দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করতে পারে। প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও এরা দ্বিধাবোধ করে না। 

মন্তব্য : স্বাধীনতা অর্জন করলেই শুধু কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। একে মর্যাদার সঙ্গে রক্ষা করে পূর্ণতা দিতে পারলেই স্বাধীনতা লাভ অর্থবহ হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা