kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

স্টেথোস্কোপ

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে স্টেথোস্কোপের কথা উল্লেখ আছে]

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্টেথোস্কোপ

ডাক্তারদের গলায় প্রায়ই পেঁচানো এক ধরনের যন্ত্র ঝুলতে দেখা যায়। যন্ত্রটির এক মাথা গোলমতো। অন্য মাথা দুই ভাগে বিভক্ত। ওই বিভক্ত ভাগের দুই মাথা ডাক্তার দুই কানে পুরে গোলমতো বস্তুটি দিয়ে রোগীর বুকে, পিঠে লাগিয়ে হৃদস্পন্দন শোনে। এই স্পন্দন শুনেই ডাক্তার রোগীর হৃদযন্ত্রের ও ফুসফুসের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন। আর এ যে যন্ত্রটি হৃদস্পন্দন শুনতে সাহায্য করে, এটিই স্টেথোস্কোপ। ১৮১৬ সালে ফরাসি ডাক্তার রেনে থিওফাইল হায়াসিন্থে লেনেক এটি উদ্ভাবন করেন।

যখন এই স্টেথোস্কোপ ছিল না, তখন রোগীর হাতের নাড়ি অনুভব করে বা বুকে কান পেতে হৃদস্পন্দন শুনে ডাক্তারকে সিদ্ধান্ত দিতে হতো। এতে প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন ডাক্তাররা। এমন একটি ঘটনাই ঘটেছিল ডাক্তার লেনেকের বেলায়। তিনি এক রোগীর হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করতে গিয়ে খুবই অসুবিধায় পড়েন। রোগী অত্যধিক স্থূল ও নারী হওয়ায় লেনেক তাঁর হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করতে পারছিলেন না। হঠাৎ তাঁর স্মৃতিতে বাচ্চাদের খেলার একটি ঘটনা মনে পড়ল। তিনি এক দিস্তা কাগজ হাতে নিলেন। কাগজগুলো রোল করলেন। এবার এর এক পাশ রোগীর বুকে রেখে অন্য পাশে নিজের কান লাগান। এতে রোগীর হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পান তিনি। রোগীর রোগ নির্ণয় হয়। রোগীও বিদায় নেন। পরে ডাক্তার লেনেক একে একে সব রোগীকে তাঁর বানানো চোঙা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে লাগলেন।

কাজের সুবিধার্থে ডাক্তার লেনেক পরে কাঠ দিয়ে একটি ফাঁপা নল তৈরি করেন। নতুন এই যন্ত্রটির নাম দেন স্টেথোস্কোপ। দুটি গ্রিক শব্দ, ‘স্টেথো’ অর্থ বুক এবং ‘স্কোপিন’ অর্থ পরীক্ষা করা, থেকেই ‘স্টেথোস্কোপ’ শব্দটি এসেছে।

১৮৪০ সালে গোল্ডিং বার্ড কাঠের পরিবর্তে নমনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার করেন। তখনো এর ব্যবহার এক কানেই সীমাবদ্ধ ছিল। দুই কানে ব্যবহারযোগ্য স্টেথোস্কোপ নিয়ে আসেন আরেক আইরিশ ডাক্তার আর্থার লিয়ার্ড ১৮৫১ সালে। এর এক বছর পর জর্জ ফিলিপ ক্যামান এই মডেলটিকে আরো উন্নত করেন। ১৮৬০ সালে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের শিক্ষক ডেভিড লিটম্যান একটি হালকা ও উন্নতমানের স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন। এটি আরো অধিক হালকা ও তুলনামূলক নিখুঁত শব্দ পরিবহন করত। ওই স্টেথোস্কোপই এখন পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে আছে। স্টেথোস্কোপ মূলত হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি অন্ত্র, ধমনি ও শিরায় রক্ত বয়ে চলার শব্দ শোনার জন্যও ব্যবহৃত হয়। স্টেথোস্কোপকে ডাক্তারি পেশার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।                                  

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা