kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

এসএসসি প্রস্তুতি ► বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সেলিম মিয়া, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি ► বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রথম অধ্যায়

পূর্ব বাংলার আন্দোলন জাতীয়তাবাদের উত্থান

উদ্দীপক :

তথ্য-১ : ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে যোগদান করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান একটি কর্মসূচি পেশ করেন।

তথ্য-২ : সাধারণ নির্বাচনে জনগণ সুযোগ পেয়ে একটি বিশেষ দলকে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত করে।

ক) ১৯৬৫ সালের কত তারিখে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল?

খ) পূর্ব পাকিস্তানে কিভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে?

গ) তথ্য-১ : যে কর্মসূচিটির কথা বলা হয়েছে তার বর্ণনা দাও।

ঘ) তথ্য-২ : স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মের পেছনে উক্ত নির্বাচনের ভূমিকা কী ছিল? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর :

ক) ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

খ) বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে।

পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ) তথ্য-১ : যে কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে তাহলো পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি।

 

দফাগুলো হচ্ছে

১) যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠান।

২) কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে মাত্র দুটি বিষয় থাকবে, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্য সব বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

৩) সারা দেশে হয় অবাধে বিনিয়োগযোগ্য দুই ধরনের মুদ্রা, না হয় বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একই ধরনের মুদ্রা প্রচলন করা।

৪) সব ধরনের কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

৫) অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে, এর নির্ধারিত অংশ তারা কেন্দ্রকে দেবে।

৬) অঙ্গরাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা সামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে যোগদান করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান একটি কর্মসূচি পেশ করেন। পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি ছিল তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ, যা পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফা স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামাকে নির্দেশ করে।

ঘ) তথ্য-২ : স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উক্ত নির্বাচন তথা ১৯৭০ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত হয়।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালিদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যবহ ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ছিল তাদের স্বাধিকার ও মুক্তিলাভের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় প্রমাণ করে ছয় দফার প্রতি ছিল জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন। এ নির্বাচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যে আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এবং পিপলস পার্টি পূর্ব পাকিস্তান থেকে কোনো আসন লাভ করেনি। দুই দলেরই ছিল আঞ্চলিক প্রাধান্য।

এ নির্বাচন প্রমাণ করে যে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আগ্রহী।

১৯৭০-এর নির্বাচনে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ব বাংলার জনগণের আস্থা শেষ হয়ে যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। তাই বলা যায়, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে এ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা