kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

পারদ

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘পারদ’-এর কথা উল্লেখ আছে]

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পারদ

পারদ রুপালি সাদা রঙের একটি ভারী মৌলিক পদার্থ। এটি একমাত্র ধাতু, যা আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে তরল অবস্থায় থাকে। এর প্রতীক Hg এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৮০। পারদকে ইংরেজিতে বলে মার্কারি। পর্যায় সারণিতে এর অবস্থান ষষ্ঠ পর্যায়ের দ্বাদশ গ্রুপে। এটি একটি ডি-ব্লক মৌল এবং এর ভর ২০০.৫৯২ গ্রাম। অন্যান্য ধাতুর তুলনায় এর তাপ পরিবাহিতা কম; কিন্তু তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি। ডি-ব্লক মৌল হওয়া সত্ত্বেও এর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে কম। পারদের ধর্মের সঙ্গে মৌলিক গ্যাসগুলোর সামঞ্জস্য দেখা যায়।

পারদের অধিক ব্যবহার দেখা যায় থার্মোমিটারে। এ ছাড়া ম্যানোমিটার ও ব্যারোমিটারেও ব্যবহূত হয়। ডেন্টিস্টরা রোগীর দাঁতের ফাঁকা জায়গা ভরাট করতে পারদের ধাতু সংকর বা অ্যামালগাম ব্যবহার করে থাকেন। প্রকৃতি থেকে সোনা উদ্ধারের কাজেও পারদ ব্যবহৃত হয়।

পারদ অনেক কাজে ব্যবহৃত হলেও এটি একটি বিষাক্ত ধাতু। মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)’ মতে প্রধান ১০টি রাসায়নিক উপাদানের একটি হলো পারদ। এটি প্রধানত ‘নিউরোটক্সিন’। এটি নিউরনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। মানুষের পুরো মস্তিষ্ক জুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য নিউরন। পারদ নিউরন ধ্বংস করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে এবং স্নায়ুগুলোকে ভুল সংকেত প্রদানের দিকে ধাবিত করে।

মানবদেহে এসব যৌগ ঢোকার একটি প্রধান মাধ্যম মাছ। পারদ এবং এর যৌগ বিভিন্ন প্রাণীর দেহে ঢুকে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বিনষ্ট করে। এর ফলে দেখা দিতে পারে দীর্ঘ ও গুরুতর রোগ। গর্ভবতী মহিলাদের ভ্রূণের বিকাশ কমে যেতে পারে এসব যৌগের আক্রমণে, ধ্বংস হতে পারে ভ্রূণ, জন্ম হতে পারে বিকলাঙ্গ শিশুর। এ ছাড়া ফুসফুস, বৃক্ক, ত্বক এবং চোখও এসব যৌগ দ্বারা প্রভাবিত হয়। পারদ বা মার্কারির যৌগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিষাক্ত হচ্ছে ‘মিথাইল মার্কারি’।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা