kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

এসএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান

ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহন

 

১। ফ্লোয়েমের পরিবহন গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর : ফ্লোয়েমে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্ট ফাইবার থাকে। সিভনল এক ধরনের নিউক্লিয়াসবিহীন ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত সজীব কোষ। লম্বালম্বিভাবে এরা একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জালের মতো গঠন সৃষ্টি করে। দুটি কোষের মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। শীতকালে এ রন্ধ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়। তাই খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায়, তাই খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়।

২। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলতে কী বোঝো?

উত্তর : পাতায়, কচি কাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। তাদের পত্ররন্ধ্র বলে। উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে যে প্রস্বেদন হয় তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫ শতাংশ হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে।

৩। কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলতে কী বোঝো?

উত্তর : উদ্ভিদের বহিঃত্বকে, বিশেষ করে পাতার ওপরে ও নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে। এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়। এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।

৪। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলতে কী বোঝো?

উত্তর : উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভেতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়। একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে।

৫। প্রস্বেদনকে কেন অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয়?

উত্তর : প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের অনেক  উপকার করলেও কিছু অপকারও করে। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়। শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদের জন্য পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি দেখা দেবে। এর ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য একে একটি অতি প্রয়োজনীয়  অমঙ্গল বলা হয়।

৬। অতিরিক্ত  পানি উদ্ভিদ দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক কেন?

উত্তর : উদ্ভিদের দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়। প্রস্বেদনের ফলে পাতার মেসোফিলে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যা পানি শোষণে সাহায্য করে। উদ্ভিদ প্রস্বেদনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পত্রফলক দিয়ে শোষিত তাপশক্তি হ্রাস করে পাতার কোষগুলোর তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখে। এ কারণে অতিরিক্ত পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বের হয়ে যায়।

৭। শীতকালে উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় কেন?

উত্তর : শীতকালে মাটিতে পানির ঘাটতি থাকায় শোষণ কম হয়; কিন্তু প্রস্বেদন আগের মতো চলতে থাকে। এ জন্য শীতকালে উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায়।

৮। দেহে রক্ত চলাচল কমে গেলে কী সমস্যা হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : দেহে রক্ত চলাচল কমে গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হৃৎপিণ্ড রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও খাদ্য দেহের বিভিন্ন অঙ্গে যায়। এসব রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের সূত্রপাত্র ঘটে।

৯। ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি কোনটি এবং কেন?

উত্তর : ফুসফুসীয় ধমনিকে ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি বলা হয়। যেসব রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে সারা দেহে বাহিত হয় তাকে ধমনি বলে। ফুসফুসীয় ধমনি এর ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে দেয়।

১০। ব্যতিক্রমধর্মী শিরা কোনটি এবং কেন?

উত্তর : ফুসফুসীয় শিরাকে ব্যতিক্রমধর্মী  শিরা বলা হয়। যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছে দেয়। এ জন্য ফুসফুসীয় শিরাকে ব্যতিক্রমধর্মী শিরা বলে।

১১। লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর : নিচে লোহিত রক্তকণিকা ও শ্বেত রক্তকণিকার পার্থক্য দেওয়া হলো।

১২। কৈশিক জালিকা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : পেশিতন্তুতে চুলের মতো অতি সূক্ষ্ম রক্তনালি দেখা যায়। একে কৈশিক জালিকা বলে। এদের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা। এই পাতলা প্রাচীর ভেদ করে রক্তে দ্রবীভূত সব বস্তু ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে।

১৩। ধমনি ও শিরার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর : নিচে ধমনি ও শিরার মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো :

ধমনি 

১। ধমনির উৎপত্তি স্থল হৃৎপিণ্ড।

২। ধমনি রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়।

৩। প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক।

৪। কপাটিকা নেই।  

শিরা

১। শিরার উৎপত্তিস্থল কৈশিক জালিকা।

২। শিরা রক্ত দেহের বিভিন্ন দিক থেকে হৃৎপিণ্ডে প্রবাহিত হয়।

৩। প্রাচীর কম পুরু ও অস্থিতিস্থাপক।

৪। কপাটিকা আছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা