kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

হেপাটাইটিস বি

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হেপাটাইটিস বি

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘হেপাটাইটিস বি’-এর কথা উল্লেখ আছে]

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণে হয়। এ রোগ যকৃতে মারাত্মক সংক্রামক ঘটায়। রক্ত, লালা অথবা শরীরের অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। হেপাটাইটিস বি-এর সংক্রমণ অ্যাকিউট বা তীব্র এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী, এই দুই ধরনের হয়। কোনো ব্যক্তি যখন প্রথমবার আক্রান্ত হয় তখন তাকে অ্যাকিউট হেপাটাইটিস বলে; কিন্তু যদি এ ভাইরাসটি ছয় মাসেরও বেশি সময় রক্তে অবস্থান করে, তখন তাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলা হয়। ক্রনিক হেপাটাইটিস শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায় (প্রায় ৯০ শতাংশ)।

এ দেশের প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বাহক। তাদের বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ জটিল লিভারের রোগ হয়ে থাকে। এ দেশের প্রায় ৩.৫ শতাংশ গর্ভবতী মা হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এই ভাইরাস তাঁদের নবজাতকের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস  এইডস রোগের চেয়ে ১০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। দিনকে দিন হেপাটাইটিস বি আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো খাদ্যে অরুচি, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, শরীর ব্যথা, হালকা জ্বর, প্রস্রাব গাঢ় এবং হলুদ বর্ণের হওয়া ইত্যাদি। এ লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে জন্ডিসে রূপ নিতে থাকে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ক্রনিক সংক্রমণে যকৃতে ক্যান্সার হতে পারে।

যেসব জায়গায় এ রোগের প্রকোপ বেশি সেসব জায়গায় শিশুরা জন্মের সময় বেশি আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া শিরায় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, রক্ত আদান-প্রদান, ডায়ালিসিস, ট্যাটু, আকুপাংচার, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস, সংক্রমণের হার বেশি এমন স্থানে ভ্রমণ প্রভৃতির মাধ্যমেও এ রোগ ছড়ায়।

প্রাথমিকভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তকরণের জন্য রক্তে এইচবিএসএজি স্ক্রিনিং টেস্ট করতে হয়। সাধারণত সংক্রমণের পর ৩০ থেকে ৬০ দিন পর এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়মিত তরল বা পানীয় যেমন—ডাব, লেবুর রস ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন গ্রহণ এবং পরিমিত মাত্রায় বিশ্রাম নিতে হবে।

 

►ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা