kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

ইলেকট্রিক শক

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দশম অধ্যায়ে ইলেকট্রিক শকের কথা উল্লেখ আছে]

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলেকট্রিক শক

পরিবাহী ও অপরিবাহী শব্দ দুটির সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। সিলভার, কপার ও অ্যালুমিনিয়াম বিদ্যুৎ পরিবাহী। প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার বিদ্যুৎ অপরিবাহী। পরিবাহী তারের চতুর্দিকে অপরিবাহী বস্তু ব্যবহৃত হয়। অনেক দিন ব্যবহারের ফলে এই অপরিবাহী বস্তু নষ্ট হয়ে ফেটে যায় এবং পরিবাহী তার বাইরে বের হয়ে আসে। এই ত্রুটিপূর্ণ তারের সঙ্গে মানবদেহের সংস্পর্শ হলে বৈদ্যুতিক শক লাগে। বৈদ্যুতিক শক তখনই অনুভূত হয়, যখন বিদ্যুৎ মানবদেহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ মানবদেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অনুভূতিকে ইলেকট্রিক শক বলে। অল্প পরিমাণ প্রবাহ খুব একটা অনুভূতি সৃষ্টি করতে না পারলেও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। বিদ্যুৎ প্রবাহ দুই ধরনের হয়। এসি (AC) বিদ্যুৎ প্রবাহ ও ডিসি (DC) বিদ্যুৎ প্রবাহ। এসি বিদ্যুৎ প্রবাহ আকর্ষণ করে টেনে নেয়। ডিসি বিদ্যুৎ প্রবাহ শুধু ধাক্কা মারে। সে জন্য এসি বিদ্যুৎ প্রবাহ বেশি মারাত্মক। ইলেকট্রিক শক লাগার জন্য সর্বনিম্ন যে বিদ্যুৎ প্রবাহ দরকার তা নির্ভর করে বিদ্যুতের ধরন ও কম্পাঙ্কের ওপর। শরীরের ভেতর দিয়ে ৬০ হার্জ (কম্পাকের এসআই একক) কম্পাঙ্কের এসি বিদ্যুৎ প্রবাহ ১ মিলি অ্যাম্পিয়ার (আরএমএস) হলেই একজন ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারে; কিন্তু ডিসি হলে কমপক্ষে ৫ মিলি অ্যাম্পিয়ার লাগে অনুভূতি সৃষ্টি করতে। মানবদেহে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে দেহের রোধের জন্য তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ দেহের বাইরের বা ভেতরের অংশ পুড়ে ফেলতে সক্ষম। ৪ অ্যাম্পিয়ারের বেশি প্রবাহ টিস্যু পুড়ে ফেলে, হৃৎপিণ্ড বন্ধ করে দেয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। ইলেকট্রিক শকের ক্ষতিকর প্রভাব—পুড়ে যাওয়া, পেশির নিয়ন্ত্রণ হারানো, স্নায়ুুতন্ত্রের ক্ষতি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। কারো শরীরে বিদ্যুেতর তার জড়িয়ে গেলে বা কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনো কাঠ হাতে নিয়ে বা শুকনো কাপড় হাতে জড়িয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। হালকা শক লাগলে একটু বিশ্রাম নিলে এবং গরুর দুধ খেলে দুর্বলতা কেটে যাবে। বেশি শক লাগলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

বৈদ্যুতিক শক এড়াতে সতর্কতা—                                 

►বৈদ্যুতিক শক এড়াতে চাইলে ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক সুইচে হাত দেওয়া যাবে না।                 

►বিদ্যুতের কাজ করার আগেই মেইন সুইচ বন্ধ করে নিতে হবে।                                             

►রাবারের জুতা পরে বিদ্যুতের কাজ করতে হবে।       

►বাড়ি-ঘর বা অফিসের সব বৈদ্যুতিক তার ও আর্থিং ঠিক আছে কি না তা দেখে নিতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা