kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জানা-অজানা

মাদুর

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধে ‘মাদুর’-এর কথা উল্লেখ আছে]

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদুর

মাদুর পাটি বিশেষ একধরনের বসার আসন। মাদুর তৈরিতে ব্যবহার করা হয় মারাথা গাছ। স্থানীয়ভাবে একে আবার মুর্তাবেত, মোড়াবেত, পাটিবেত প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করা হয়। সিলেট, ময়মনসিংহ, পটয়াখালী, নোয়াখালী এবং টাঙ্গাইলে এ গাছ প্রচুর পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাদুর তৈরি করা হয়। তবে সিলেটের রাজনগর, বালাগঞ্জ, বড়লেখা ও মোল্লাবাজার, বরিশালের সোনাগাজী ও রামপুর, পটুয়াখালীর স্বরূপকাঠি, ফরিদপুরের সালাইর এবং মোহনগঞ্জের জৈনপুর এ স্থানগুলো মাদুর তৈরির জন্য বিখ্যাত।

সিন্ধু সভ্যতার সময় মাদুর ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া যায়। অথর্ব বেদে মাদুরের কথা বলা হয়েছে। মহাভারতে শুকনা ঘাসের ওপর মাদুর পেতে বসার কথা উল্লেখ আছে।

বুননের ওপর ভিত্তি করে মাদুর এক রোখা, দুই রোখা এবং মসলন্দ—এই তিন ধরনের হয়। এক রোখা মাদুর একবার বুনন দেওয়া হালকা মাদুর। এর গুণগত মান সব থেকে কম। দুই রোখা এক রোখা থেকে উন্নত মানের মাদুর। মসলন্দ সব থেকে উন্নত মানের মাদুর। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার রামনগরের খোলাবাড়িয়া গ্রাম মসলন্দ মাদুরের জন্য বিখ্যাত। মসলন্দ মাদুরে বুননের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নকশা করা হয়। সাজসজ্জা দ্বারা সজ্জিত মাদুরকে নকশি পাটিও বলা হয়।

আমাদের এ দেশে মাদুরের গুরুত্ব অনেক। একে মাটিতে বা মেঝেতে পেতে বসার জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় বিছানায়ও ব্যবহার করা হয়। তাপের অপরিবাহিতা ও জলীয়বাষ্প শোষণক্ষমতা এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এ ছাড়া বিয়ে, ভাইফোঁটা ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাদুর ব্যবহার করা হয়।

২০১৮ সালের ২৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকার হস্তশিল্প হিসেবে মাদুরকে জি আই (ভৌগোলিক স্বীকৃতি) ট্যাগ দিয়েছে।                 

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা