kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ► ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ► ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র

তৃতীয় অধ্যায় : অর্থের সময়মূল্য

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। অর্থের সময়মূল্য কী?

উত্তর : সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থের মূল্যের যে পরিবর্তন হয় তাকে অর্থের সময়মূল্য বলে।

২। বার্ষিক বৃত্তি কী?

উত্তর : নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের জমা দেওয়া হলে বা পাওয়া গেলে তাকে বার্ষিক বৃত্তি বলে।

৩। কার্যকরী সুদের হার কী?

উত্তর : ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে ঋণদাতাকে যে হারে সুদ প্রদান করে তাই কার্যকরী সুদের হার।

৪। বাট্টাকরণ কী?

উত্তর : ভবিষ্যতে প্রাপ্ত অর্থের বর্তমান মূল্য নির্ণয়ের কৌশলই হলো বাট্টাকরণ।

৫। চক্রবৃদ্ধিকরণ কী?

উত্তর: চক্রবৃদ্ধিকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে সুদাসলের ওপর সুদ হিসাব করে ভবিষ্যৎ মূল্য বের করা যায়।

৬। বিধি ৭২ কী?

উত্তর : বিধি ৭২ হচ্ছে এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে একটি টাকা বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি সুদে কত সময়ে বা কত হারে দ্বিগুণ হবে তা বের করা হয়।

৭ । বিধি ৬৯ কী?

উত্তর : বিধি ৬৯ এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে একটি টাকা অর্ধবার্ষিক/অবিরত চক্রবৃদ্ধি সুদে কত সময়ে বা কত হারে দ্বিগুণ হবে তা বের করা হয়। 

৮। সুযোগ ব্যয় কী?

উত্তর : একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অন্য আরেকটি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ ত্যাগ করতে হয়, যা অর্থায়নে সুযোগ ব্যয় নামে পরিচিত। 

৯। চক্রবৃদ্ধি সুদ কী?

উত্তর:  নির্দিষ্ট সময় পর অর্জিত সুদাসলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাপ্ত সুদাসলের ওপর পরবর্তী সময়ে যে সুদ নির্ণয় করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে।

১০। বিলম্বিত বৃত্তি কী?

উত্তর :  যে বৃত্তি এখন বা বছর শেষে শুরু না হয়ে বিলম্বে শুরু হয় এবং ভবিষ্যতের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলতে থাকে তাকে বিলম্বিত বৃত্তি বলে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। অর্থের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী উপাদান কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : অর্থের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী উপাদান হলো সুদের হার বা বাট্টার হার।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন হয়। আজকের ১০০ টাকা এক বছর পরের ১০০ টাকার চেয়ে অধিক মূল্য বহন করে। আজকের ১০০ টাকা পাওয়াটা নিশ্চিত আর এক বছর পরের ১০০ টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বিদ্যমান। অর্থাৎ টাকা পেতেও পারি, নাও পেতে পারি। আর তাই সবাই ঝুঁকি গ্রহণের বিনিময়ে একটু বেশি পেতে চায়, যা অর্থের সময়মূল্যের মূল কারণ। অর্থাৎ বর্তমানে কোনো বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করার প্রবণতা থেকেই অর্থের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, যা সুদের হার বা প্রত্যাশিত আয়ের ওপর নির্ভর করে।

২। অর্থের সময় পছন্দের দুটি কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর :  অর্থের সময় পছন্দের দুটি কারণ হলো ভোগ অগ্রাধিকার ও মুদ্রাস্ফীতি।

কোনো দ্রব্য বা সেবার বর্তমান ভোগ জরুরি অথবা ভবিষ্যতে অসুস্থতা, মৃত্যু মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভোগ সম্ভব না হওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় বেশির ভাগ মানুষ ভবিষ্যতে কোনো দ্রব্য বা সেবা ভোগ অপেক্ষা বর্তমানকে বেশি প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে কোনো দ্রব্য বা সেবামূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। আর এই ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য বেশির ভাগ মানুষ বর্তমান নগদ অর্থ প্রাপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। 

৩। সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের পার্থক্য লেখো।

উত্তর :  সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো—

৪। ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ, বার্ষিক বা সরল সুদের চেয়ে অধিকবার গণনা করা হয়’—ব্যাখ্যা করো।    

উত্তর : চক্রবৃদ্ধি সুদ, বার্ষিক বা সরল সুদের চেয়ে অধিকবার গণনা করা হয়। কারণ চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষেত্রে বছরে একাধিকবার সুদ গণনা করা হয়ে থাকে। সাধারণত যত বেশিবার সুদ হিসাব করা হবে তত বেশি পরিমাণে গণনা কার্যসম্পাদন করা হবে। বার্ষিকীর ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ মূল্য একবারই প্রাপ্তি বা প্রদান ঘটে। এতে গণনাকার্য সীমিত থাকে। যদি বছরে একাধিকবার সুদ ধার্য করা হয়, তাহলে র কে স দ্বারা ভাগ করে সুদের হারকে ছোট করা হয়। আবার উক্ত স কে বছরের সঙ্গে গুণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় নেওয়া হয়। যে কাজটি বার্ষিকীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সুতরাং বলা যায়, চক্রবৃদ্ধি সুদ বার্ষিক সুদের চেয়ে একাধিকবার গণনা করা হয়।  

৫। ‘সুদ হলো অর্থের মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতিপূরণ’—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর :  সুদ হলো অর্থের মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতিপূরণ। কারণ আমরা জানি, ভবিষ্যতে প্রাপ্ত অর্থের মূল্য ও বর্তমানে প্রাপ্ত অর্থের মূল্য সমান নয়।

মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্তরের পরিবর্তনজনিত কারণে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই আজকের এক টাকা দিয়ে যা ক্রয় করা যাবে, ভবিষ্যতে সে পরিমাণ ক্রয় করা যাবে না। এ কারণে বর্তমানে বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে ভবিষ্যতে যে সুদ পাওয়া যায়, সেই সুদকে অর্থের মূল্যহ্রাসের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত বাজার চাহিদার কারণে মূল্যস্তরের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতির হার ইত্যাদির সমন্বয়েই সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। তাই সম্পূর্ণরূপে না হলেও সুদ বিনিয়োগকৃত অর্থকে মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতিপূরণ দেয়।  সুতরাং বলা যায়, সুদ হলো অর্থের মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতিপূরণ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা