kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সৃজনশীল প্রশ্ন

নবম-দশম শ্রেণি - জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি - জীববিজ্ঞান

পঞ্চম অধ্যায়

খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

১। ফারিহা ও জারিফ দুই ভাই-বোন। সকালের নাশতায় ফারিহা পরোটা ও মাংস পছন্দ করে। জারিফ রুটির সঙ্গে চিনি খেতে পছন্দ করে।

ক) ক্যালরি কী?

খ) সম্পূরক আমিষ বলতে কী বোঝো?

গ) ফারিহা যে খাবার খেতে পছন্দ করে তার পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ভাই-বোনের মধ্যে খাবার হজমের জন্য কার বেশি এনজাইমের প্রয়োজন? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক) এক কিলোগ্রাম পানির উষ্ণতা ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে যে তাপের প্রয়োজন তাকে কিলোক্যালরি বলে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা একে সাধারণভাবে ক্যালরি বলে থাকেন।

খ) দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করে খাদ্যমান বাড়ানোর ফলে আট রকম অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। বিভিন্ন আমিষের সংমিশ্রণে তৈরি এরূপ মিশ্র আমিষকে সম্পূরক আমিষ বলে। যেমন—চালের সঙ্গে দুধ দিয়ে পায়েস, ক্ষীর, ফিরনি তৈরি ইত্যাদি সম্পূরক আমিষ।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ফারিহা পরোটা ও মাংস খেতে পছন্দ করে। পরোটায় ময়দা ও তেল থাকে। তাই ফারিহার পছন্দনীয় খাবার মূলত শর্করা, চর্বি ও আমিষের পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো :

খাদ্য গ্রহণের পর মুখগহ্বর থেকে যে লালারস নিঃসৃত হয়, সেখানে টায়ালিন থাকে। ওই টায়ালিন শর্করাকে মলটোজে পরিণত করে। মুখগহ্বরে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছালে হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের জীবাণুকে মেরে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। এখানে পেপসিন আমিষকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে। পাকস্থলীতে শর্করা ও স্নেহের পরিপাক ঘটে না। পাকস্থলীতে খাদ্যগুলো মিশে পাকমণ্ড তৈরি করে। পাকমণ্ড পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছালে সেখানে অগ্নাশয় থেকে পাচক রস নিঃসৃত হয়। পাচক রসে এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে শর্করা ও আমিষের পরিপাক কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহ পদার্থের পরিপাক শুরু হয়। এখানে পিত্তরসের পিত্তলবণ স্নেহ পদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে। অগ্নাশয়ের লাইপেজ এনজাইম স্নেহকে বিশ্লেষিত করে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসের মলটেজ এনজাইম মলটোজকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে। আবার আন্ত্রিক রসের টিপসিন আমিষের আংশিক পরিপাককৃত পেপটাইড ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।

এভাবে মানবদেহে শর্করা, স্নেহ ও আমিষের পরিপাক ঘটে।

ঘ) উদ্দীপকের উল্লিখিত ফারিহার পছন্দনীয় খাবার হলো পরোটা ও মাংস, যাতে শর্করা, স্নেহ ও আমিষ রয়েছে। আর জারিফের পছন্দনীয় খাবার হলো রুটি ও চিনি, যাতে শুধু শর্করা থাকে।

শর্করা পরিপাকে এনজাইম

টায়ালিন শর্করাকে মলটোজে পরিণত করে।

মলটেজ মলটোজকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আমিষ পরিপাকে এনজাইম

পেপসিন আমিষকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে।

ট্রিপসিন পেপটাইডকে ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।

স্নেহ পরিপাকের এনজাইম

লাইপেজ স্নেহ পদার্থকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। এসব আলোচনা থেকে দেখা যায়, শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পরিপাকে মোট পাঁচটি এনজাইম যথাক্রমে টায়ালিন, মলটেজ, পেপসিন, ট্রিপসিন ও লাইপেজ কাজ করে। আর শুধু শর্করা পরিপাকে টায়ালিন ও মলটোজ—এ দুটি এনজাইম কাজ করে। অতএব, উদ্দীপকে জারিফের খাদ্য পরিপাকে পাঁচটি এনজাইম কাজ করে।

সুতরাং ফারিহা ও জারিফের মধ্যে খাবার হজমের জন্য ফারিহার বেশি এনজাইম প্রয়োজন।

২। বিশ্বজিৎ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড়। তাঁর উচ্চতা ১৮০ সেমি, ওজন ৭০ কেজি এবং বয়স ২৫ বছর।

ক) ভিলাই কী?

খ) ধমনি ও শিরার পার্থক্য করো।

গ) বিশ্বজিতের BMI নির্ণয় করো।

ঘ) উদ্দীপকের উল্লিখিত খেলোয়াড়ের প্রতিদিনের ক্যালরি চাহিদার মান বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

ক) ক্ষুুদ্রান্ত্রের মিউকাস থেকে আঙুলের মতো যে অভিক্ষেপ বের হয় তাকে ভিলাই বলে।

খ) ধমনি ও শিরা মূলত রক্তনালি। নিচে ধমনি ও শিরার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হলো :

গ) উদ্দীপকের বিশ্বজিতের শারীরিক উচ্চতা ১৮০ সেমি বা ১.৮ মিটার এবং ওজন ৭০ কেজি।

আমরা জানি,

সুতরাং বিশ্বজিতের BMI ২১.৬০।

ঘ) BMR এর মান থেকে একজন সুস্থ ব্যক্তির কতটুকু ক্যালরি প্রয়োজন তা নির্ণয় করা যায়।

এখানে,

বিশ্বজিতের উচ্চতা ১৮০ সেমি, ওজন ৭০ কেজি, বয়স ২৫ বছর।

সুতরাং বিশ্বজিতের BMR=৬৬+(১৩. ৭×৭০)+(৫×১৮০)-(৬.৮×২৫)

= ৬৬+৯৫৯+৯০০-১৭০ = ১৯২৫-১৭০

১৭৫৫ ক্যালরি

বিশ্বজিৎ একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় অর্থাৎ অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাই বিশ্বজিতের দৈনিক ক্যালরি চাহিদা = BMR মান ×১.৯ = ১৭৫৫–১.৯ =৩৩৩৪.৫ ক্যালরি।

সুতরাং বিশ্বজিতের প্রতিদিনের ক্যালরি চাহিদার মান ৩৩৩৪.৫ ক্যালরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা