kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

মদনটাক

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘সুন্দরবনের প্রাণী’ প্রবন্ধে মদনটাকের কথা উল্লেখ আছে]

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মদনটাক

বিপন্ন প্রায় পাখিগুলোর একটি মদনটাক। অপ্রতুল বাসস্থান, জলবায়ুর পরিবর্তন, ইকো সিস্টেম ও ফুড চেইনে সমস্যা হওয়ায় এদের অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির পথে। আবাস মূলত দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই; তবে কয়েকটি দেশ থেকে এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বড় নদ-নদী ও সুন্দরবনে কদাচিৎ দেখা মেলে। এ দেশে টিকে থাকা পাখিগুলোর মধ্যে এ পাখিই সবচেয়ে বড়। বৈজ্ঞানিক নাম Lesser Adjutant। এটি জলচর পাখি হিসেবেও পরিচিত।   প্রাপ্তবয়স্ক মদনটাকের পিঠ উজ্জ্বল কালো। শরীর সাদা বর্ণের। ডানার গোড়ায় কালো রং থাকে। পালকহীন মুখের চামড়া ও ঘাড় লালচে। গলা হলদে বা লালচে। চোখ সাদা কিংবা ধূসর। পা লম্বা। পায়ের পাতা, নখর ও পা সবুজে ধূসর থেকে কালো। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড়ে বিক্ষিপ্ত ঘন পালক থাকে।                  মদনটাক পানির ধারে, ঘাসযুক্ত এলাকা অথবা নরম কাদায় খাবার খুঁজে খায়। প্রধান খাদ্য মাছ। এ ছাড়া ব্যাঙ, সরীসৃপ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী খায়। এরা কদাচিৎ গলিত পচা মাংসও খেয়ে থাকে। কখনো একাকী, কখনো জোড়ায় জোড়ায় আবার কখনো দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে উঁচু গাছের মগডালে ডালপালা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। স্ত্রীজাতীয় মদনটাক তিন থেকে চারটি পর্যন্ত ডিম দেয়। ২৮ থেকে ৩০ দিন পরই ডিম থেকে বাচ্চা হয়। মদনটাকের আরেক জাতের নাম হাড়গিলা। এরা বড় মদনটাক নামেও পরিচিত। মহাবিপন্ন পাখির তালিকায় থাকা হাড়গিলা এ দেশের প্রকৃতিতে এখন আর দেখা যায় না। মদনটাকও বিলুপ্তির পথে।

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা