kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

শঙ্খ

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের লাইব্রেরি প্রবন্ধে ‘শঙ্খ’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শঙ্খ

শঙ্খ হলো একজাতীয় বড় আকৃতির সামুদ্রিক শামুক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Turbinella pzrum। এর খোল দিয়ে অলংকার, বাদ্যযন্ত্র, ওষুধ ইত্যাদি তৈরি হয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শঙ্খ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শঙ্খ ভগবান বিষ্ণুর চিহ্ন। এর ধ্বনি হিন্দু ধর্মে পবিত্র বলে গণ্য করা হয়। পূজা-অর্চনা, পুত্রসন্তানের জন্ম, অন্নপ্রাশন, শ্মশানযাত্রা ইত্যাদি সময়ে শঙ্খধ্বনি করা হয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পঞ্চপাণ্ডব ও শ্রীকৃষ্ণের ঠোঁটে শঙ্খধ্বনি ধ্বনিত হয়। দেবী দুর্গার হাতেও শঙ্খ দেখা যায়।

হিন্দু বিবাহিত সধবা মেয়েরা হাতে শঙ্খ দিয়ে তৈরি শাখা পরে। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও শুভ কাজের শুরুতে বিশেষভাবে কাটা শঙ্খের বাঁশি বাজানো হয়। হিন্দুশাস্ত্র মতে নিত্য পূজার পরে যদি নিয়ম করে তিনবার শঙ্খ বাজানো যায়, তাহলে গৃহস্থের অন্দরে অশুভ শক্তির প্রভাব কমতে থাকে এবং শুভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি ভাগ্যও ফিরে যায়। হিন্দুধর্ম মতে, তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজানো উচিত নয়। তিনবার শঙ্খ বাজালে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর (মহাদেব)—এই তিন দেবতার সঙ্গে সব দেব-দেবী আমন্ত্রিত হন; কিন্তু তিনবারের বেশি বাজালে দেবতাদের সঙ্গে দানব বা অসুরকে নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়। দেবতার পাশাপাশি অসুরকে নিমন্ত্রণের ফলস্বরূপ পরিবারের ওপর নেমে আসতে পারে দেবতাদের অভিশাপ। তাই শাস্ত্রে তিনবারই শঙ্খ বাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

            

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা