kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

জানা-অজানা

টোপর

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ে আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধে ‘টোপর’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টোপর

শোলা দিয়ে নির্মিত বাঙালি হিন্দুদের ব্যবহৃত এক ধরনের মুকুট টোপর, যা সাধারণত বিয়ে উপলক্ষে বর পরে থাকে। এটি সাদা রঙের হয়। কারণ সাদা শুভ্রতা ও সাহসের প্রতীক। সংসারজীবনে বাধাবিঘ্ন ও সমস্যায় ভয় না পেয়ে নবদম্পতি যেন সাহসের সঙ্গে তা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারে, তারই প্রতীক সাদা টোপর। পাশাপাশি তাদের জীবন যেন মসৃণ, সুন্দর ও মধুময় হয়ে ওঠে সে জন্যও সাদা টোপরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সনাতন ধর্ম মতে, শিব তাঁর নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ মুকুট পরার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মাকে তা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেন; কিন্তু বিশ্বকর্মা ছিলেন ধাতুশিল্পী। তিনি শিবের চাহিদামতো মুকুট নির্মাণে ব্যর্থ হন। তখন মালাকার নামে এক ব্যক্তি জলা অঞ্চল থেকে শোলা সংগ্রহ করে শিবের জন্য এক বিশেষ মস্তকাবরণী প্রস্তুত করেন। এই মস্তকাবরণীই বর্তমানে টোপর নামে পরিচিত।

বিয়ে উপলক্ষে হিন্দুদের টোপর পরা একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রথা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, টোপর সৌভাগ্য এনে দেয়। সাধারণত কনের বাড়ি থেকে টোপর পাঠানো হয় বরের বাড়িতে। বিয়ে অনুষ্ঠানের আগে বর টোপর মাথায় দিয়ে ছাদনাতলায় উপস্থিত হয়।

টোপর অধিকতর দায়িত্বকে নির্দেশ করে। নতুন মুকুট পরিয়ে অভিষেকের মাধ্যমে রাজার হাতে যেমন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তেমনি বরকে টোপর পরিয়ে নতুন জীবনের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। টোপর খুব সাবধানে ব্যবহার করা হয়। এটি ভেঙে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যের লক্ষণ বলে ধরা হয়।

বিয়ে ছাড়াও অন্নপ্রাশনে (শিশুদের প্রথম মুখে অন্নগ্রহণের অনুষ্ঠান) টোপরের প্রচলন রয়েছে। অন্নপ্রাশন উপলক্ষে শিশুকে বরের সাজে সাজানো হয় এবং তার মাথায় টোপর পরানো হয়। এই টোপর শোলা নির্মিত হলেও স্বাভাবিক কারণেই বিয়ের টোপরের তুলনায় আকারে ছোট হয়।

        

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা