kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

মধু

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের অভাগীর স্বর্গ গল্পে ‘মধু’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধু

ফুলের মিষ্টি নির্যাস থেকে মৌমাছি যে তরল, আঠালো, মিষ্টিজাতীয় খাদ্যসামগ্রী মৌচাকে সঞ্চিত করে তাকে মধু বলে। এটি উচ্চ ওষধিগুণসম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মল্টোজ। আরো থাকে অ্যামাইনো এসিড, খনিজ লবণ ও এনজাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ‘বি১’, ‘বি২’, ‘বি৩’, ‘বি৫’, ‘বি৬’, আয়োডিন, জিংক, কপারসহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা আমাদের দেহের শুধু বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায়ও কাজ করে। মধুর বড় গুণ হচ্ছে এটি কখনো নষ্ট হয় না। হাজার বছরেও মধুর গুণাগুণ একই রকম থাকে।

বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ ও ওষধি গুণাবলির জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশির ভাগ মধু কেওড়াগাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মৌয়াল সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করে।

নিউজিল্যান্ডের মানুকা নামক এক প্রকার ঝোপজাতীয় উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন মধু ‘মানুকা হানি’ নামে পরিচিত। এ মধু অন্য সব মধুর চেয়ে বেশি ওষধিগুণসম্পন্ন বলে গণ্য করা হয়। প্রাচীন গ্রিসের খেলোয়াড়রা মধু খেয়ে মাঠে নামতেন। মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ, যা যকৃতে গ্লাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে। মধু খেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতা ভালো থাকে। নিয়মিত মধু পানে রোগ-বালাই হ্রাস পায়। কেননা মধু মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঠাণ্ডায় মধু ভালো কাজ করে; পেনসিলভানিয়া স্টেট কলেজের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে যত ওষুধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এক চামচ মধু। মধুর ভাইরাস প্রতিরোধী-ক্ষমতা উচ্চ। মধু হজমে সাহায্য করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। প্রাচীনকাল থেকে গ্রিস ও মিসরে দেহের ক্ষত সারাতে মধু ব্যবহার করে আসছে। ২০০৭ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষত ও জখমের উপশমে মধু ডাক্তারি ড্রেসিংয়ের চেয়েও বেশি কার্যকর। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের জন্যও মধু খুব উপকারী।

পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত ভারতীয় মৌমাছি লালন-পালন করা হয়। এ দেশে ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত মৌমাছির মধু সংগ্রহের মৌসুম, তবে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি মধু সংগৃহীত হয়।                

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা