kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ

বিজ্ঞান মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর পর্যন্ত গতকাল ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা পিলখানার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের সিনিয়র শিক্ষক চিন্ময় ভুঁইয়া

 

৫। ক) এসডি ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় যে নিরপেক্ষ যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে।

খ) ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইটকে ক্ষারক বলে। যেমন—Na2O, NaOH, CuO, Cu (OH)2, Al2O3, Al(OH)3 ইত্যাদি। আবার যেসব ক্ষারক পানিতে দ্রবণীয় তাদের ক্ষার বলে। যেমন—NaOH, ROH, Mg(OH)2. এগুলো পানিতে দ্রবণীয়। তাই এগুলো ক্ষারক হলেও ক্ষার; অন্যদিকে Cu(OH)2, Al(OH)2 পানিতে দ্রবণীয় নয়। তাই এগুলো ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়। কাজেই বলা যায় যে ‘সব ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সব ক্ষারক ক্ষার নয়।’

গ) A এসিডের উৎস হলো ফলমূল ও শাকসবজি—তথা জৈব পদার্থ। তাই A এসিড হলো জৈব এসিড; অন্যদিকে B এসিডের উৎস হলো খনিজ পদার্থ। তাই এগুলো হলো খনিজ এসিড। নিচে A ও B এসিড তথা জৈব ও অজৈব এসিডের পার্থক্য দেওয়া হলো :

ঘ) উদ্দীপকের B এসিডগুলো খনিজ পদার্থ থেকে পাওয়া যায়। আর যেসব এসিড খনিজ পদার্থ থেকে পাওয়া যায় তাদের খনিজ এসিড বলে। খনিজ এসিডের অন্য নাম অজৈব এসিড।

সাধারণত অজৈব বা খনিজ এসিডগুলো তীব্র হয়ে থাকে। অর্থাৎ এগুলো কোনো পদার্থের সংস্পর্শে এলে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এগুলো ত্বকে লাগলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এগুলো খাওয়া যায় না। ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে, যারা এই এসিড মানুষের গায়ে ছুড়ে মারে, যাতে তাদের ত্বক পুড়ে যায় বা আরো বড় ক্ষতি হয়। তারা একদিকে যেমন এসিডের অপচয় ঘটায়, অন্যদিকে তেমনি অন্যকে আহত করে গুরুতর অপরাধ করে। তাই এসিড বিক্রেতারা যাতে সাধারণ্যে এসিড বিক্রি না করেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার খনিজ এসিড যেমন—H2SO4, HCI, HNO3—এগুলো শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এত গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর যাতে কোনো প্রকার অপচয় না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কাজেই সার্বিক আলোচনায় এটি প্রতিষ্ঠিত যে B এসিড তথা খনিজ এসিডগুলো ব্যবহারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

৬। ক) উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ, যারা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তাদের উৎপাদক বলে।

খ) খাদ্যজাল : একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের সংযুক্তিকে খাদ্যজাল বলে। অর্থাৎ একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্র হয়ে যখন একটি জালের মতো তৈরি করে তখন তাকে খাদ্যজাল বলে।

যেমন—কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খল হলো—

(i) ঘাস ফড়িং টকটিকি ইগল

(ii) ঘাস ফড়িংইগল

(iii) ঘাসখরগোশ ইগল

(iv) ঘাসইঁদুরইগল

(v) ঘাসইঁদুরসাপইগল

এগুলো একত্রে নিচের অবস্থা তৈরি করে—

একে খাদ্যজাল বলে।

গ) উদ্দীপকের খাদ্যশৃঙ্খলটি তৈরি  হয়েছে ব্যাঙ, সবুজ উদ্ভিদ, সাপ, ঘাস, ফড়িং ও ইগল নিয়ে। এদের নিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো : সবুজ উদ্ভিদঘাস ফড়িংব্যাংকসাপইগল।

ব্যাখ্যা :  খাদ্যশৃঙ্খলটি লক্ষ করলে দেখা যায়, সবুজ উদ্ভিদ হলো উৎপাদক। সে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। তাকে খায় হলো ঘাসফড়িং। অর্থাৎ ঘাসফড়িং তার প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টিদ্রব্য পায় সবুজ উদ্ভিদ থেকে। আবার ব্যাঙ খায় এই ঘাসফড়িংদের, ব্যাঙকে খায় সাপ। আর সাপকে খায় ইগল—এভাবে পুষ্টি প্রবাহ চলে ইগল পর্যন্ত।

আবার যেহেতু ঘাসফড়িং সবুজ উদ্ভিদ তথা উৎপাদকদের খায়, তাই এরা প্রথম স্তরের খাদক। আবার এই প্রথম স্তরের খাদক ফড়িংকে খায় ব্যাঙ। তাই ব্যাঙ হলো দ্বিতীয় স্তরের খাদক। দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙকে খায় সাপ। তাই সাপ হলো তৃতীয় স্তরের খাদক, সাপকে খায় ইগল। আবার কখনো কখনো ইগল ফড়িং আর ব্যাঙকেও খেয়ে থাকে। তাই ইগলকে সর্বভুক্তও বলা যেতে পারে।

ঘ) ইমনের শিক্ষক  বলেছিলেন, ‘খাদ্যশৃঙ্খল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ খাদ্যশৃঙ্খল আছে বলেই পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এটির আলোচনায় আমরা কোনো একটি তৃণভূমি এলাকার একটি খাদ্যশৃঙ্খল বিবেচনা করি—

ঘাসহরিণবাঘ

অর্থাৎ তৃণভূমি এলাকাটিতে হরিণ ও বাঘের বসবাস। হরিণ বেঁচে থাকার জন্য ঘাস খায় আর বাঘ হরিণকে খায়। কোনো কারণে ঘাসের উৎপাদন বেশি হলে হরিণের জন্য পর্যাপ্ত খাবার থাকবে। সে যথেষ্ট খাবার পেয়ে বেশি প্রজনন ঘটিয়ে দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটাবে। এতে বাঘেরও খাদ্য প্রাপ্তি বেশি হবে। অর্থাৎ বাঘ বেশি হরিণ পাবে খাওয়ার জন্য; ফলে বাঘেরও সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটবে। বাঘের সংখ্যা বেড়ে গেলে তারা বেশি বেশি হরিণ খাবে। ফলে হরিণের সংখ্যা হ্রাস পাবে। এতে খাদ্যাভাবে কিছু বাঘ মারা যাবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে খাদ্যশৃঙ্খলের কোনো একটি জায়গায় পরিবর্তন ঘটলে অন্য উপাদানগুলোও সে অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। একটি উপাদান খুব বাড়তে পারে না বা খুব কমে যেতে বা নিঃশেষ হতে পারে না। এভাবেই খাদ্যশৃঙ্খল পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৭। ক) রেচন : যে প্রক্রিয়ায় জীব তার দেহ থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশন করে তাকে রেচন বলে।

খ) খাটো উদ্ভিদে জিব্বেরেলিন প্রয়োগে উদ্ভিদের বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। এর প্রভাবে উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে এটি বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিক উদ্ভিদের চেয়েও বেশি লম্বা হয়ে যায়।

গ) A অঙ্গ চর্ম, যাতে সুচ ফোটায় মাংসপেশি সংকুচিত হওয়ার ঘটনাটি প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

আমরা জানি, কোনো অঙ্গের তাত্ক্ষণিক আত্মরক্ষার জন্য তড়িৎ ক্রিয়ার নাম প্রতিবর্ত ক্রিয়া। প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটে স্নায়ু তাড়নার তাত্ক্ষণিক কার্যকারিতার জন্য। প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটে অজ্ঞাতসারে, এটি মস্তিষ্কে না পৌঁছে মেরুরজ্জুর মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পাঁচটি অঙ্গ। যেহেতু চর্ম আমাদের দেহের বহিরাবরণ; তাই সুচ ফোটা মাত্র এই যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্তু গ্রহণ করে। এই একই তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে পৌঁছায়। ওই একই তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুকোষ থেকে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুতে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তাড়না এরপর পেশিতে প্রেরণ করেও চর্ম সুচ ফোটামাত্র যন্ত্রণাদায়ক উৎস থেকে হাত সরিয়ে আনবে, যা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়।

ঘ) B অঙ্গটি হলো বৃক্ক, যা তিনটি প্রধান রেচন অঙ্গের একটি। এটি প্রাণীদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

বৃক্কের মাধ্যমেই মানবদেহের নাইট্রোজেনযুক্ত তরল পদার্থ, দূষিত পদার্থ  পরিত্যক্ত হয়। বৃক্ককে মূত্র তৈরির কারখানা হিসেবে অভিহিত করা হয়। দেহের পেছনের দিকে মেরুদণ্ডের দুই পাশে দুটি বৃক্ক থাকে। বৃক্ক ছাঁকনির মতো কাজ করে। যকৃত আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। এগুলো দেহের জন্য ক্ষতিকর। বৃক্ক রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নেয়। এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো পানির সঙ্গে মিশে হালকা হলুদ বর্ণের মূত্র তৈরি করে এবং ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্রথলিতে জমা করে। মূত্রের মাধ্যমেই দেহের ৮০ শতাংশ নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। তাই বৃক্কই প্রধান রেচন অঙ্গ নামে বিবেচিত।

৮। ক) যেসব খাদ্যবস্তু দেহের ক্যালরি চাহিদা পূরণ করে, টিস্যু কোষের বৃদ্ধি ও গঠন বজায় রাখে এবং দেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাকে সুষম খাদ্য বলে।

খ) দেহ গঠনসহ নানা শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পানি দেহ গঠনের পাশাপাশি দেহের সব অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। পানি ছাড়া দেহের ভেতরে কোনো রাসায়নিক ক্রিয়া হতে পারে না। পানি দ্রাবকরূপে কাজ করে যাতে খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে। পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় খাদ্যের পরিপাক ক্রিয়া চলে এবং খাদ্য উপাদান শোষিত হয়।

গ) স্বর্ণার দৈনিক কতটুকু কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন তা তার ওজনের ওপর নির্ভরশীল। এটি বয়স, দেহের ওজন, উচ্চতা, পরিশ্রমের মাত্রার ওপর নির্ভর করে। একজন মানুষের দৈনিক শর্করার চাহিদা তার দেহের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের ৪.৬ গ্রাম।

স্বর্ণার ওজন ৪৮ কেজি। তার গড়ে দৈনিক শর্করার চাহিদা (৪৮–৪.৬) গ্রাম বা ২২০.৮ গ্রাম।

ঘ) নাফিসার খাদ্য উপাদানগুলো দেহের জন্য স্বর্ণার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নাফিসা মাছ, মাংস, দুধ ও ফলমূল খেতে পছন্দ করে। তন্মধ্যে মাছ, মাংস হলো আমিষ, যা ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে। ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ লবণ, যা রোগ প্রতিরোধ, শক্তিবৃদ্ধি ও জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। দুধ হলো মিশ্র খাদ্য এবং এটি একটি আদর্শ খাদ্য। অন্যদিকে স্বর্ণা ভাত, আলু ও রুটি খেতে পছন্দ করে। এসব খাদ্যোপাদান শর্করার অন্তর্ভুক্ত, যা শক্তি উৎপাদন করে।

আলোচ্য বিষয় দ্বারা বোঝা যায় যে নাফিসার গৃহীত খাদ্যে অধিক খাদ্যোপাদান বিদ্যমান। এ খাদ্যের পাশাপাশি সে যদি একটু ভাত গ্রহণ করে কিংবা খাদ্য তৈরিতে তেলের ব্যবহার করে, তাহলে তার খাদ্য সুষম খাদ্যে পরিণত হবে। অন্যদিকে স্বর্ণা শুধু শর্করা গ্রহণ করে।

যেসব খাদ্যবস্তু দেহের ক্যালরি চাহিদা পূরণ করে, টিস্যু কোষের বৃদ্ধি ও গঠন বজায় রাখে এবং দেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাকে সুষম খাদ্য বলে। খাদ্যের সব উপাদান সুষম খাদ্যে বিদ্যমান থাকে। নাফিসার খাদ্যোপাদানগুলো সহজেই সুষম খাদ্যে পরিণত করা সম্ভব; কিন্তু স্বর্ণার খাদ্যে একটি মাত্র খাদ্য উপাদান বিদ্যমান, যা হলো শর্করা। তাই বলতে পারি, নাফিসার খাদ্য সুষম খাদ্য হলেও স্বর্ণার খাদ্য অসুষম।

 

৯। ক) সহজে ও সুশৃঙ্খলভাবে বিশাল প্রাণিজগেক ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

খ) ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি থাকায় পাখি সহজে উড়তে পারে।

পাখি কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বের পক্ষিকুল শ্রেণির প্রাণী। এই শ্রেণির প্রাণীদের দুটি ডানা আছে এবং এদের ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি আছে। এদের হাড় শক্ত, হালকা ও ফাঁপা। তাই পাখি সহজে উড়তে পারে।

গ) চিত্র-২-এ উল্লিখিত রুই মাছ হলো অস্টিকথিস শ্রেণির প্রাণী।

ভার্টিব্রাটা উপপর্বের অস্টিকথিস শ্রেণির প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য হলো :

১. বেশির ভাগই স্বাদু পানির মাছ

২. দেহ সাইক্লোয়েড, গ্যানয়েড বা টিনয়েড ধরনের আঁইশ দ্বারা আবৃত।

৩. মাথার দুই পাশে চার জোড়া ফুলকা থাকে। ফুলকাগুলো কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে। ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।

এই শ্রেণির প্রাণীদের উদাহরণ হলো ইলিশ মাছ, সি-হর্স। রুই মাছেরও উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। তাই রুই মাছ অস্টিকথিস শ্রেণির প্রাণী।

ঘ) উদ্দীপকের অ হলো প্রজাপতি, যা আর্থ্রোপোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

আর্থ্রোপোডা হলো প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃপরজীবী বা বহিঃপরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্থলে, স্বাদু পানি ও সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাইটিনসমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত। এই পর্বের প্রাণীর উদাহরণ হলো—প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি।

আর্থ্রোপোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী হলো প্রজাপতি। যে পরিবেশে প্রজাপতি থাকে তাকে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বলে বিবেচনা করা হয়। প্রজাপতি পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরাগায়ণেও সাহায্য করে। বর্তমানে প্রজাপতি চাষ করা হয় এবং এর দ্বারা বিভিন্ন শৌখিন সামগ্রী তৈরি করা হয়। আর্থ্রোপোডা পর্বের আরেকটি প্রাণী হলো মশা, যা বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায়। যেমন—ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে সরকারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।

মাছি : ময়লা-আবর্জনায় উড়ে বেড়ায়।

সেখান থেকে রোগ-জীবাণু তার গায়ে লেগে যায়। মাছি খাদ্যে বসলে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায়।

চিংড়ি : আমরা খাদ্য হিসেবে চিংড়ি গ্রহণ করি, যা আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। এ ছাড়া প্রতিবছর চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়।

এ ছাড়া কাঁকড়াও আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।

 

  জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল টেস্টের বাকি অংশ ছাপা হবে আগামী সংখ্যায়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা