kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

চিপস

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে চিপস-এর কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিপস

ছোটবড় প্রায় সবার কাছেই প্রিয় একটি খাবার চিপস। এটি খুবই সুস্বাদু ও মজাদার। চিপস মূলত আলু দিয়ে তৈরি হলেও ভুট্টা, যব ও টাপিওকা দিয়েও বানানো যায়। সর্বপ্রথম চিপসের রেসিপি পাওয়া যায় ১৮২২ সালে ব্রিটিশ ডাক্তার উইলিয়াম কিচেনারের ‘দ্য কুক’স ওরাকল’ বইয়ে। সেই রেসিপি অনুযায়ী আলুর খোসা ছাড়িয়ে সিকি ইঞ্চি পুরুত্বে কেটে শূকর অথবা গরুর চর্বিতে ভাজা হতো। আলু ভাজার পর ঠাণ্ডা হলে তা লবণ দিয়ে পরিবেশন করা হতো। এরপর চিপস তৈরি করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক শেফ। জর্জ ক্রাম নামের সেই শেফ কাজ করতেন মুন’স লেক হাউস নামের এক রেস্তোরাঁয়। ১৮৫৩ সালে একদিন এক ক্রেতা এসে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের অর্ডার দিলেন। জর্জ ক্রাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই প্রস্তুত করে পাঠালেন। কিন্তু ওই ক্রেতা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ফেরত দিলেন এবং অভিযোগ করলেন যে আলুগুলো খুব মোটা হয়েছে। এমন অভিযোগ শুনে ক্রাম বিরক্ত হয়ে আলুর টুকরাগুলো একদম পাতলা কাগজের মতো করে কাটলেন। তারপর সেগুলো মচমচে করে ভেজে বেশি করে লবণ মাখিয়ে সেই ক্রেতার সামনে পরিবেশন করলেন। আর ক্রেতাও সেগুলো খুব পছন্দ করে খেলেন। ক্রামের সেই কাণ্ড থেকেই তৈরি হয় চিপস, যা বর্তমানে পটেটো বা আলুর চিপস নামেই পরিচিত। এরপর দিনে দিনে ক্রামের তৈরি সেই চিপস বেশ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১৮৬০ সালে ক্রাম নিজেই রেস্টুরেন্ট খুলে বসেন।  প্রথমবারের মতো মুদি দোকানে চিপস বিক্রি শুরু হয় ১৮৯৫ সালে। বিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকটা ছিল পটেটো চিপসের বাণিজ্যিকীকরণের সময়। এ সময় চিপস তৈরির অনেক প্রতিষ্ঠান চালু হয়। ১৯১০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম চিপস তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরই অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি হয়ে সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই পৌঁছে যায় জর্জ ক্রামের আলুর চিপস। বাংলাদেশেও আলুর চিপসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ দেশের জনপ্রিয় চিপস ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—মি. টুইস্ট, রিং চিপস, সান চিপস ও পটেটো ক্র্যাকার্স। চিপস খেতে মজাদার হলেও এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে এমন মতই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ চিপস এক ধরনের জাংক ফুড। এর মধ্যে লবণ থেকে উচ্চ মাত্রায় সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করে। প্রচুর ক্যালরি থাকে, যা শরীরের ওজন বাড়ায়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই চিপস তৈরিতে বাজে মানের তেল ও আলুর ব্যবহার করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুরা এর শিকার হয় বেশি। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব জাংক ফুড থেকে বিরত থাকাই ভালো। 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা