kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

জন ডাল্টন

বিজ্ঞান মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর আগে ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা পিলখানার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের সিনিয়র শিক্ষক চিন্ময় ভুঁইয়া

 

২। ক) কোনো মৌলের ভিন্ন ধরনের পরমাণু, যাদের পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদের ওই মৌলের আইসোটোপ বলে।

খ) ভরসংখ্যা : কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ওই মৌলের ভরসংখ্যা বলে। একে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

অর্থাৎ

ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা

  বা, A   =    P    +    n

গ) দেওয়া আছে,

A মৌলের পারমাণবিক

     এবং ভরসংখ্যা

আমরা জানি,

পারমাণবিক সংখ্যা Z =  প্রোটন সংখ্যা P

 ∴ প্রোটন সংখ্যা P = ১৭

আবার প্রোটন সংখ্যা P = ইলেকট্রন সংখ্যা ব

  ∴ P=e = ১৭

আবার ভরসংখ্যা A=প্রোটন সংখ্যা P+

                 নিউট্রন সংখ্যা n.

বা, A= p+n.

বা, ৩৫ = ১৭+n.

বা, n  = ৩৫-১৭

∴ n = ১৮

∴ মৌলটির প্রোটন সংখ্যা = ১৭

          ইলেকট্রন সংখ্যা = ১৭

       এবং নিউট্রন সংখ্যা = ১৮

ঘ) অ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা = ১৭।

    ∴ মৌলটির ক্লোরিন (Cl)

        এবং এর ইলেকট্রন সংখ্যা = ১৭

আবার

B মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা = ১১

ঘ মৌলটি সোডিয়াম (Na)

    এবং এর ইলেকট্রন সংখ্যা = ১১.

এখন,

Na এর ইলেকট্রনবিন্যাস = ২, ৮, ১

অর্থাৎ এর বহিঃস্থ কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা = ১, আবার IC এর ইলেকট্রনবিন্যাস = ২, ৮, ৭

অর্থাৎ এর বহিঃস্থ কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা = ৭

আমরা জানি, কোনো একটি মৌলকে স্থিতিশীল হতে হলে তার বহিঃস্থ কক্ষপথ যতগুলো ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে, ঠিক ততগুলো দ্বারা পূরণ হতে হবে।

এখন ঘধ এর বহিঃস্থ কক্ষপথে ইলেকট্রন আছে ১১টি এবং এই তৃতীয় কক্ষপথে ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা ১৮টি। তাই Na পরমাণুটি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য ১টি ইলেকট্রন বর্জন করবে এবং ধনাত্মক আয়ন গঠন করবে।

     Na-e-Na+

তখন Na+ এর ইলেকট্রনবিন্যাস হয় ২, ৮, যা নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাস ঘব এর অনুরূপ। এভাবে ঘধ পরমাণুটি স্থিতিশীল হয়। আবার Cl এর সর্ববহিঃস্থ তৃতীয় কক্ষপথে ইলেকট্রন আছে ৭টি এবং এই কক্ষপথের ধারণক্ষমতা ১৮। তাই ঈষ পরমাণুটি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করবে এবং ঋণাত্মক আয়ন গঠন করবে।

     Cl+e-Cl-

এই C1- এর ইলেকট্রনবিন্যাস ২, ৮, ৮, যা নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাস অৎ এর অনুরূপ। এভাবে CI পরমাণুটি স্থিতিশীল হয়।

এখন এই দুটি বিপরীতধর্মী আয়ন পরস্পরকে আকর্ষণ করবে এবং পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    

এভাবে Na ও Cl পরমাণু যুক্ত হয়ে NaCl অণু গঠন করে।

৩। ক) রাসায়নিক বিক্রিয়া : যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট নতুন এক বা একাধিক পদার্থ উৎপন্ন হয় তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে।

খ) ডাল্টনের পরমাণুবাদ :

পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কিত ডাল্টনের মতবাদটিই ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। ডাল্টন বলেন—

‘পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা এবং একে আর ভাঙা যায় না।’

যদিও পরবর্তী সময়ে এটি প্রমাণিত হয় যে পরমাণু অবিভাজ্য বা ক্ষুদ্রতম কণিকা নয়। পরমাণু বিভাজ্য এবং একে ভাঙলে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন পাওয়া যায়।

গ) উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি হলো—

     Cu+A = CuSO4+H2

বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করি—

     Cu+H2SO4 = CuSO4+H2

এই বিক্রিয়াটিতে দেখা যাচ্ছে যে কপার সালফিউরিক এসিড থেকে হাইড্রোজেনকে অপসারণ করে নিজে সে জায়গা দখল করে কপার সালফেট তৈরি করেছে। তাই বিক্রিয়াটি হবে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।

আমরা জানি,

যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থ কোনো যৌগ হতে কোনো মৌলকে অপসারণ করে নিজে সে জায়গা দখল করে নতুন যৌগ গঠন করে তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।

যেহেতু, বিক্রিয়াটিতে কপার মৌলটি সালফিউরিক এসিড যৌগ হতে হাইড্রোজেন মৌলটিকে অপসারণ করে নিজে সে জায়গা দখল করে কপার সালফেট যৌগ উৎপন্ন করেছে। কাজেই উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।

ঘ) উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি হলো—

     Cu+A CuSO4+H2

বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করে পাই—

   

৪. H2SO4 ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি করে। যেমন—

            H2SO4+2NaOHNa2SO4+2H2O

৫. H2SO4 এর পাতলা জলীয় দ্রবণ টক স্বাদযুক্ত।

৬. H2SO4 এর জলীয় দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে।

৭. H2SO4 এরা জলীয় দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবাহী।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, H2SO4 তথা সালফিউরিক এসিড একটি এসিড।

৪। ক) ডিসি প্রবাহ : যে তড়িৎ প্রবাহ চলার সময় দিক পরিবর্তন করে না, তথা একই দিকে প্রবাহিত হয় তাকে ডিসি প্রবাহ বলে।

খ) ফিউজ : ফিউজ হলো টিন ও সিসার সংকর ধাতুর তৈরি ছোট নতুন তার, এর রোধ বেশি কিন্তু গলনাঙ্ক কম। ফলে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি প্রবাহ গেলে এটি উত্তপ্ত হয়ে গলে যায় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কোনো যন্ত্রাংশে নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি তড়িৎ যেতে পারে না। ফলে যন্ত্রাংশটি সুরক্ষিত থাকে। এ কারণে ফিউজকে নিরাপত্তা ফিউজও বলা হয়ে থাকে।

গ) আমরা জানি,

ঘ) রফিকের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে একটি বাল্ব নষ্ট হলেও অন্যগুলো জ্বলে। অর্থাৎ সংযোগটি সমান্তরাল সংযোগ; অন্যদিকে খামারের সংযোগে একটি বাল্ব নষ্ট হলে অন্য কোনো বাল্বই জ্বলে না, অর্থাৎ সংযোগটি শ্রেণিসংযোগ।

আমরা জানি, যে সংযোগের ক্ষেত্রে সব যন্ত্রাংশের এক প্রান্তগুলো একটি সাধারণ বিন্দুতে এবং অপর প্রান্তগুলো অপর একটি সাধারণ বিন্দুতে যুক্ত থাকে তাকে সমান্তরাল সংযোগ বর্তনী বলে। আর যে বর্তনী সংযোগের ক্ষেত্রে একটি যন্ত্রাংশের শেষ প্রান্তে দ্বিতীয়টির প্রথম প্রান্ত, দ্বিতীয় যন্ত্রাংশের শেষ প্রান্ত তৃতীয়টির প্রথম প্রান্তের সঙ্গে এভাবে পরপর যুক্ত থাকে তাকে শ্রেণিসংযোগ বর্তনী বলে।

সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে বিভব পার্থক্য একই থাকে কিন্তু তড়িৎ প্রবাহ ভিন্ন হয়। এতে বাতিগুলোর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় জ্বলে। সিরিজের ক্ষেত্রে বিভব পার্থক্য ভিন্ন হয় কিন্তু তড়িৎ প্রবাহ একই থাকে। ফলে বাতিগুলোর প্রথমটির থেকে দ্বিতীয়টি কম উজ্জ্বল, তৃতীয়টি আরো কম হয়ে থাকে।

সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে আলাদা সুইচ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু শ্রেণিসংযোগে যায় না।

সমান্তরাল সংযোগে একটি বাতি নষ্ট হলেও অন্যগুলো জ্বলে। শ্রেণিসংযোগের ক্ষেত্রে একটি নষ্ট হলে অন্যগুলোও অকার্যকর হয়ে যায়।

 চিত্র : শ্রেণিসংযোগ             চিত্র : সমান্তরাল

      বর্তনী                   সংযোগ বর্তনী

 

সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বাতির জন্য আলাদা সুইচ থাকে আর শ্রেণির ক্ষেত্রে সব একই সুইচ দ্বারা জ্বলে। ফলে সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রেই শুধু প্রয়োজন মতো বাতি ও পাখা চালান যায়, যা শ্রেণিতে সম্ভব নয়।

কাজেই এটি নিশ্চিত করে বলা যায়, বাসাবাড়িতে সমান্তরাল সংযোগ উপযোগী; কিন্তু উপাসনালয়, মিলনায়তন, খামার—এ রকম ক্ষেত্রে শ্রেণিসংযোগই উপযোগী।

 

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল টেস্টের সৃজনশীল উত্তরের বাকি অংশ ছাপা হবে আগামী সংখ্যায়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা