kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ১-৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর আগে ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা মালিবাগের সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সুলতানা নুসরত জাহান

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৩ মিনিটে



জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

সাঁওতাল

[গতকালের পর]

৮ নম্বরের (ক)

পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকে ভূমিধস বলে।

৮ নম্বরের (খ)

গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।

বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেল, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ও ওজোন গ্যাস মিলে পৃথিবীর চারপাশে চাদরের মতো যে আচ্ছাদন তৈরি করে তাকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে। সূর্যের তাপ এই চাদর শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায়। ফলে পৃথিবী ঠাণ্ডা হয়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণভাবে মহাশূন্যে মিলিয়ে না গিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। এভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।

৮ নম্বরের (গ)

উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে, যা সংঘটিত হওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী।

কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুর্যোগ দুই ধরনের—প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।

উদ্দীপকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমির গঠন, জলবায়ু, নদী-নালা এই প্রাকৃতিক উপাদানের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণকেও দায়ী করা যায়। মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন; গাছপালা নিধন, জলাভূমি ভরাট, নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ, নদীর উপকূলের গাছপালা কেটে ফেলা ইত্যাদির জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে। বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। জলবায়ু তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। শুকনা মৌসুমে নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে খরা দেখা দিচ্ছে আবার বর্ষা মৗসুমে জলাভূমি ভরাট করায় বন্যা দেখা দিচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘটে, তেমনি বন উজাড়করণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।

৮ নম্বরের (ঘ)

উদ্দীপককে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষেতের ফসল, ঘরবাড়ি, জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। প্রাকৃতিক মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যেকোনো দেশ বা সমাজের জন্য ভয়াবহ ও ক্ষতিকর। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষেতের ফসল, গাছপালা, গবাদি পশু, মাছের খামার, শিল্প-কারখানা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের দেশের নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, প্রতিবেশী জনগোষ্ঠী সর্বোপরি দরিদ্র জনগোষ্ঠী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বায়ু ও পানি দূষিত হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ সময় মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। ২০০৭ সালে সংঘটিত সিডর এবং ২০০৯ সালে আইলায় আক্রান্ত বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সহায়-সম্বল হারিয়ে আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফসল, বৃক্ষসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনি জনজীবন আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। হাজার হাজার মানুষ বসতবাড়ি, সহায়-সম্বল হারিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়। আমাদের দেশে শহরকেন্দ্রিক বস্তি গড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

৯ নম্বরের (ক)

নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে তিনজন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ১৩ জন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত।

৯ নম্বরের (খ)

যে বিভাগ আইন বিভাগের প্রণীত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন করে তাকে শাসন বিভাগ বলে।

রাষ্ট্রের শাসনসংক্রান্ত কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব শাসন বিভাগের। ব্যাপক অর্থে শাসন বিভাগ বলতে রাষ্ট্রের শাসন কাজে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বোঝায়। এ অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে গ্রামের একজন চৌকিদার পর্যন্ত সবাই শাসন বিভাগের অংশ। তবে প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়েই শাসন বিভাগ গঠিত। সে বিভাগ আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করে এবং সে অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে, স্বাধীনতা, সার্বভৗৈমত্ব রক্ষা করে এবং বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তাকে শাসন বিভাগ বলে।

৯ নম্বরের (গ)

বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্য সব ধর্ম ও ধর্মের অনুসারীদের সমান মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলা হয়।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধান এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার কতগুলো মূলনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মূলনীতিগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। এই মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। বাংলাদেশে বাঙালি জাতি হিসেবে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করছে। ধর্ম যার যার কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ সবার। সবাইকে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ধর্মনিরপেক্ষতাকে তাই রাষ্ট্রীয় মূলনীতি করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাদে জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত আর বাংলাদেশে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশি। একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় ভিন্নমতের কারণে যাতে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং রাষ্ট্র যাতে কোনো ধর্মের প্রতি পক্ষপাত না করতে পারে এ জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সবার ধর্ম পালন যাতে নির্বিঘ্ন হয় তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাষ্ট্র। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈদ-পার্বণে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা যেমন একাত্মতা প্রকাশ করে, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে মুসলমান ও অন্য ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহণ করে একাত্মতা প্রকাশ করে। সরকারের তরফ থেকে কারো ধর্ম পালনে বাধা প্রদান করা হয় না; বরং সরকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। তাই বলা যায়, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ’।

৯ নম্বরের (ঘ)

উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে তুলে ধরা হয়েছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়।

বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে নিজস্ব সমাজ ও সংস্কৃতি। রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে এই ঐক্য ও সংহতি যাতে বজায় থাকে, তার জন্য রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সমাজতন্ত্রকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী মানুষদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রীয় মূলনীতি করা হয়েছে।

উল্লিখিত মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়ে থাকে, এ কারণে বাংলাদেশে বসবাসরত প্রত্যেক নাগরিক ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করছে, দেশের মানুষের জন্য, দেশ গঠন করার জন্য শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করছে। রাষ্ট্রের সব কাজে নাগরিকদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কারণে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা পাচ্ছে। এ মূলনীতিগুলো প্রত্যেক নাগরিক মেনে চলার ক্ষেত্রে সচেতন রয়েছে।

১০ নম্বরের (ক)

সাঁওতাল সমাজের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েত।

১০ নম্বরের (খ)

সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ ও জীবনের প্রয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো বাঙালিদের পোশাক ও খাদ্য গ্রহণ করছে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে এবং সেসব সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো বহুকাল ধরে বাঙালিদের সঙ্গে এই ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে। জীবনের প্রয়োজনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো যেমন বাঙালিদের অনেক কার্যাবলি গ্রহণ করেছে, তেমনি বাঙালিরাও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতির অনেক উপাদান গ্রহণ করেছে। এভাবে মানুষে মানুষে আন্তঃসম্পর্কের ভিত রচিত হয়েছে।

১০ নম্বরের (গ)

উদ্দীপকে ‘ক’ চিহ্নিত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা আঞ্জি থামি পড়ে তারা হলো মারমা, যাদের সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। মারমা শব্দটি ‘ম্রাইমা’ শব্দ থেকে এসেছে। এরা বেশির ভাগই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। মহিলারা ‘আঞ্জি’ নামে ব্লাউজজাতীয় পোশাক পরে, এ ছাড়া তারা ‘থামি’ পরে।

মারমাদের সামাজিক জীবন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যময়। তাদের পার্বত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা। প্রতি মৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে। মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় ‘রোয়া’ এবং গ্রামের প্রধানকে ‘রোয়াজা’ বলে। মারমা পরিবারে পিতার স্থান সর্বোচ্চ হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। মারমা সমাজে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়েদের মতামতকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

১০ নম্বরের (ঘ)

উদ্দীপকের ‘খ’ চিহ্নিত অঞ্চলে সাঁওতাল এবং ‘গ’ চিহ্নিত অঞ্চলে রাখাইনরা বসবাস করে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলেও তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় সাঁওতালরা বসবাস করে। ধারণা করা হয়, সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের এসব অঞ্চলে আসে। রাখাইনরা বাংলাদেশের পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় বসবাস করে। বর্তমান মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে রাখাইনরা এ দেশে এসেছে।

সাঁওতালরা অস্ট্রালয়েড নৃ-গোষ্ঠীর লোক। এদের প্রধান খাদ্য ভাত। সাধারণত সাঁওতালরা মাটির ঘরে বাস করে। তাদের বাড়ির দেয়াল মাটির তৈরি এবং তাতে খড়ের ছাউনি থাকে। সাঁওতালরা তাদের ঘরবাড়ি খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। অন্যদিকে রাখাইনরা নদীর পার ও সমুদ্র উপকূলের সমতল ভূমিতে বাস করে। এরা মাচা পেতে ঘর তৈরি করে। তাদের কারো ঘর গোলপাতার ছাউনি। আবার কারো ঘর টিনের হয়ে থাকে। সাঁওতালদের নিজস্ব উৎসবাদির মধ্যে ‘সোহরাই’ এবং ‘বাহা’ উল্লেখযোগ্য। তাদের সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো ‘ঝুমুর নাচ’, বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা ‘ঝিকা’ নাচ করে। অন্যদিকে রাখাইনরা গৌতমবুদ্ধের জন্মবার্ষিকী, বৈশাখী পূর্ণিমা, বসন্ত উৎসব করে থাকে। চৈত্রসংক্রান্তিতে ‘সাংগ্রাই উৎসব’ পালন করে। সাঁওতাল মেয়েরা শাড়ি এবং পুরুষরা লুঙ্গি পরে। মেয়েরা হাতে, গলায় পিতল বা কাঁসার গয়না পরে, পুরুষরা গলায় মালা ও হাতে বালা পরে থাকে। অন্যদিকে রাখাইন পুরুষরা লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে। ধর্মীয় ও লোকজ অনুষ্ঠানে মাথায় পাগড়ি পরে। মেয়েরা লুঙ্গি ও ব্লাউজ পরে।

বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক জীবন বাঙালিদের থেকে যেমন স্বতন্ত্র, তেমনি প্রত্যেক নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিও বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাদের সংস্কৃতিগত পার্থক্যই তাদেরকে একে অপর থেকে ভিন্নতা দান করেছে।

১১ নম্বরের (ক)

বর্তমানে বাংলাদেশের দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে চায়ের চাষ হচ্ছে।

১১ নম্বরের (খ)

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ওষুধশিল্প দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে ওষুধশিল্পকে সম্ভাবনাময় শিল্প বলা হচ্ছে।

একসময় আমাদের প্রচুর অর্থ খরচ করে বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করতে হতো। এখন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ওষুধ কম্পানি তৈরি হয়েছে, যারা দেশের ওষুধ চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে। একই সঙ্গে বিদেশে ওষুধ রপ্তানিও করছে। এ কারণেই বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে ওষুধের সম্ভাবনার কথা সবাই এখন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে এবং ওষুধশিল্পকে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১১ নম্বরের (গ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি গার্মেন্ট বা পোশাকশিল্প নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অত্যন্ত দ্রুত শিল্পায়ন ঘটছে। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী তৈরি করছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গার্মেন্ট বা পোশাকশিল্পের সঙ্গে এখন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী, যারা নিজেদের দারিদ্র্য ঘোচাতে গার্মেন্টশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

উদ্দীপকে কোহিনূরের মতো বিপুলসংখ্যক নারী—যারা নিজেদের দারিদ্র্য ঘোচাতে গার্মেন্টে যুক্ত হয়েছে। অনেকে কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অধিকতর দক্ষতা অর্জন করছে। নিজেদের সন্তানদের তারা লেখাপড়া শেখানোর মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থারও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। পোশাক কারখানায় কাজ করার মাধ্যমে পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। এতে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে।

১১ নম্বরের (ঘ)

সব মানুষকে একমাত্র কৃষি সচ্ছলতা দিতে সক্ষম নয় বলে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বাংলাদেশের অধিক শিল্পায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হলেও আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি। সেই তুলনায় প্রাকৃতিক সম্পদও সীমিত, বাংলাদেশের মাটি উর্বর হলেও কৃষি উৎপাদন জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, তাই শুধু কৃষি এই বিপুল পরিমাণ জনগণের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে না। অন্যদিকে শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিও সম্ভব। শিল্পায়নের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির উৎপাদন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। ফলে কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এখন শিল্পায়নের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

উদ্দীপকে পোশাকশিল্পের অগ্রযাত্রার ফলে কোহিনূরের মতো বিপুলসংখ্যক নারী পোশাকশিল্পে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, শুধু কৃষি আর্থিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থান দিতে সক্ষম নয়। অর্থনৈতিক সচ্ছলতার সঙ্গে সামাজিক উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে কারণে দ্রুত দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন বা উন্নতি ঘটাতে হলে শিল্প বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। শিল্পায়নের ফলে শিল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন কৃষক বেশি ফসল ফলাচ্ছে। নিজের চাহিদা পূরণ করে বাজারে ফসল বিক্রি করে নিজের অন্যান্য চাহিদা মেটাচ্ছে, আবার অন্যদিকে শিল্প বিকাশের ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

সুতরাং পরিকল্পিতভাবে শিল্পায়ন করা হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। তেমনি কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। অর্থনৈতিক উন্নতিই দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক। সে কারণে দ্রুত দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন বা উন্নতি ঘটাতে হলে শিল্প বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। তাই বলা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বাংলাদেশের অধিক শিল্পায়ন প্রয়োজন।

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞান মডেল টেস্টের সৃজনশীল উত্তরের বাকি অংশ ছাপা হবে আগামী সংখ্যায়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা