kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ সমাধানসহ

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর গতকালের সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা মালিবাগের সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সুলতানা নুসরত জাহান

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৪ মিনিটে



জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল প্রশ্নের উত্তরের বাকি অংশ সমাধানসহ

৪ নম্বর প্রশ্নের (ক)-এর উত্তর

সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও বিশ্বজনীনতার বোধ সৃষ্টি হয়।

৪ নম্বর প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর

ভাষার মাধ্যমে ব্যক্তি তার মনের ভাব প্রকাশ করে বলে ভাষাকে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বলা হয়।

ভাষার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সঙ্গে ভাববিনিময় করতে পারে বলে ভাষাকে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বলা হয়। সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ভাষার মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়। একে অন্যকে জানা কিংবা নিজের দেশ ও সমাজ এবং বহির্জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, শিক্ষা গ্রহণ—সবই চলে ভাষার মাধ্যমে। বস্তুত ভাষা শৈশব থেকে ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে। ভাষার মাধ্যমে নিজ চিন্তা-চেতনা দৃষ্টিভঙ্গি অপরের কাছে প্রকাশ করা যায়। বিভিন্ন তথ্য ভাষার মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা হয় বলে ভাষাকে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বলা হয়।

৪ নম্বর প্রশ্নের (গ)-এর উত্তর

জিসানের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে টেলিভিশন সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

ব্যক্তির সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সামাজিকীকরণ প্রয়োজন। কাঙ্ক্ষিত ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে সমাজের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি, আদর্শ, অভ্যাস আয়ত্ত করতে হয়। এগুলো আয়ত্ত করার পেছনে অনেক উপাদান কাজ করে। তেমনি একটি উপাদান হলো গণমাধ্যমের টেলিভিশন। মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপনকে এটি নানাভাবে প্রভাবিত করে।

উদ্দীপকে জিসান টেলিভিশনের তথ্য ও শিক্ষামূলক নানা ধরনের অনুষ্ঠান দেখে এ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, যা তার জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করছে, পাশাপাশি তাকে আনন্দ ও শিক্ষা দিচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান জিসানের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। সে ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছে, বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে, আধুনিক উদ্ভাবন সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছে, যার ফলে সে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারছে।

৪ নম্বর প্রশ্নের (ঘ)-এর উত্তর

আধুনিক বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে টেলিভিশন সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম।

জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পরিবেশন করা হয় যেসব মাধ্যমে তাকে বলা হয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন আধুনিক বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপনকে এটি নানাভাবে প্রভাবিত করে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ওপর টেলিভিশনের প্রভাব খুব বেশি। এই প্রভাব ইতিবাচক ও নেতিকবাচক দুই রকমই হতে পারে।

উদ্দীপকে জিসান টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে এ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্য সংগ্রহ তার জ্ঞানকে বৃদ্ধি করছে, যা তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জিসানের ভালো ছাত্র হওয়ার পেছনে এই তথ্য সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এভাবে টেলিভিশন আকর্ষণীয় শিক্ষা ও তথ্যমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে তা মানুষকে আলোকিত করে তুলতে পারে।

যেহেতু টেলিভিশন একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম, তাই এর মাধ্যমে আপন দেশ ও সংস্কৃতি বহির্বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করা যায়। এতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান করে মানুষ বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে। নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নবীন প্রজন্মের মানুষকে পরিচিত করে তোলার মাধ্যমে টেলিভিশন তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে পারে। এর ফলে সামাজিকীকরণের কাজটি সহজ হয়।

৫ নম্বর প্রশ্নের (ক)-এর উত্তর

সেন রাজারা দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে এসেছিলেন।

 

৫ নম্বর প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর

ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আসার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য।

ইউরোপের কোনো কোনো দেশে খনিজ সম্পদের আবিষ্কার, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বিস্তার এবং কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিকাশের ফলে অর্থনীতি তেজি হয়ে উঠেছিল, এর ফলে চতুর্দশ শতক থেকে ইউরোপে যুগান্তকারী বাণিজ্য বিপ্লবের সূচনা হয়, ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত সামগ্রীর জন্য বাজারের সন্ধানে তারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। বাংলার সিল্ক, মিহি কাপড়, মসলা, বাংলার ধনসম্পদ ইত্যাদির আকর্ষণে বাণিজ্যের  উদ্দেশ্যে ইউরোপীয়রা ভারতবর্ষে আগমন করে।

৫ নম্বর প্রশ্নের (গ)-এর উত্তর

‘ক’ নম্বর তালিকার ধাপগুলো অর্থাৎ কলকাতা মাদরাসা, সংস্কৃত কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে।

ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে, যা বাংলায় নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এর একটি বাড়তি লক্ষ্য ছিল চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে রাজ্য হারানো ক্ষুব্ধ মুসলমানদের সন্তুষ্ট করা। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দুদের জন্য ১৭৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সংস্কৃত কলেজ। অবশেষে ১৮৫৭ সালে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে থাকে। হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে রীতিমতো আন্দোলন শুরু হলো, বিধবা বিবাহের পক্ষে মত তৈরি হয়। জ্ঞানচর্চায় সীমিত হলেও কার্যকর জোয়ার সৃষ্টি হয়। এভাবে ইংরেজদের প্রচলিত আধুনিক শিক্ষা বাংলায় নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

৫ নম্বর প্রশ্নের (ঘ)-এর উত্তর

১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৮৬১ সালে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতা ব্রিটিশ রাজার হাতে চলে যায়।

১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শাসনের প্রায় ১০০ বছর পরে ইংরেজ অধ্যুষিত ভারতের বিভিন্ন ব্যারাকে সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিদ্রোহে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের স্বাধীনচেতা শাসকরাও যোগ দেন। কিন্তু উন্নত অস্ত্রের সঙ্গে চাতুর্য ও নিষ্ঠুরতার যোগ ঘটিয়ে ইংরেজরা এ বিদ্রোহ দমন করে। এ ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করে ভারতবর্ষে কম্পানির শাসন আর সম্ভব নয়, ফলে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৮৬১ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে ব্রিটিশ সরকার। এর ফলে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা কর্তৃক একজন মন্ত্রীকে ভারত সচিব পদে মনোনীত করা হয়। লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন। এভাবেই ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও ওড়িশার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শাসনক্ষমতা দখল করে নেয়। প্রথমে বাংলা ও পরে সমগ্র ভারতবর্ষ দখল করে নেয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি। গোটা ভারতকে তারা উপনিবেশ অর্থাৎ শোষণের ক্ষেত্র বানিয়ে নেয়। এর ঠিক ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালে সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়, যাতে ভারতবাসী সমর্থন জানায়, ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসন বাতিল করে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে সমগ্র ভারতের শাসন ক্ষমতা দখল করে।

৬ নম্বর প্রশ্নের (ক)-এর উত্তর

ইউনেসকো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

 

৬ নম্বর প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর

পাকিস্তান সরকার বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে ডা. মালিক মন্ত্রিসভা গঠন করে।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ষড়যন্ত্র শুরু করে। আওয়ামী লীগসহ পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণ ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে যখন দেশব্যাপী ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে, তখন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে গণহত্যা চালিয়ে আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি দমার পাত্র নয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে, তখন বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে পাকিস্তান সরকার সামরিক গভর্নর টিক্কা খানকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় বেসামরিক ব্যক্তি ডা. আবদুল মোতালিব মালিককে গভর্নর নিযুক্ত করে এটা বোঝানোর জন্য যে বাঙালি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।

৬ নম্বর প্রশ্নের (গ)-এর উত্তর

মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করে এবং পেশাজীবীরা চাকরির মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যোগদান করার মাধ্যমে অবদান রাখে।

১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির ন্যায্য দাবি পূরণ না করে পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র ২৫শে মার্চের গণহত্যা বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দেয়। বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্বে প্রচার করেন। এতে বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিরা গণহত্যার প্রতিবাদে ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখে।

১৯৭১ সালের মাঝামাঝি গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সাংবাদিকরা বাংলাদেশে এলে পাকিস্তান সরকার কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা সফর করিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন লেখানোর ফন্দি আঁটে। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। নিজ চোখে সব দেখে তাঁরা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা, গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পত্রিকা ও বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে অবহিত করেন। তাঁদের মধ্যে অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস, বিবিসির সাংবাদিক মার্কটালি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রচার করে গেছেন। দেশে অবরুদ্ধ থেকেও একাত্তরের শহীদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হকের মতো অনেক সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন। এদিকে প্রবাসী বাঙালিরা ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা সভা-সমাবেশ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও অর্থ সংগ্রহ করেন। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।

৬ নম্বর প্রশ্নের (ঘ)-এর উত্তর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পৃথিবীর বৃহৎ কয়েকটি দেশ যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন এবং প্রতিবেশী ভারত বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ষড়যন্ত্র শুরু করলে আওয়ামী লীগ অসহযোগ আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আন্দোলন স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ২৫শে মার্চ গণহত্যা চালালে বহির্বিশ্বে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে, অন্যদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে বিভ্রান্ত করে তাদের পক্ষে দেশ দুটিকে অবস্থান নেওয়ার।

ভারত সরকার ২৫শে মার্চ থেকে সংঘটিত পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার নিন্দা করে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। ভারতের মাটিতে বাঙালি যুবকদের সশস্ত্র ট্রেনিং দেওয়া হয়। কলকাতায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ নামে এই সরকারের বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সহায়তা করে। এ ছাড়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী, নেতা ও কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ বাহিনী গঠন করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে এবং ১৬ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। আবার তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগোর্নি বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে যৌথ বাহিনী যাতে সামরিক বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত মহাসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর পাঠায়। সোভিয়েত ইউনিয়নও পাল্টা নৌবহর পাঠায়। পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধবিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতেও জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্ব স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসে। এতে বিশ্বজনমত গঠন হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। যার ফলে জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে এবং বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে পাকিস্তান সরকারকে বাধ্য করে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিলেও তাদের জনগণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আমাদের সহযোগিতা করে। এভাবে বহির্বিশ্বের বিশেষ অবদানের কারণে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়।

৭ নম্বর প্রশ্নের (ক)-এর উত্তর

যেখানে পুরনো ইতিহাস ও ঐহিত্য সম্পর্কে ধারণা প্রদানের জন্য পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয় তাকে জাদুঘর বলে।

৭ নম্বর প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর

বৃহত্তর ময়মনসিংহের জমিদারদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ময়মনসিংহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। স্থানীয় দর্শনার্থীরা যাতে ওই প্রত্ননির্দশনস্থলে পুরাকীর্তিগুলো থেকে পাওয়া প্রত্ননিদর্শনগুলো দেখে ওখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে, তার জন্য স্থানীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরে ১৯৬৯ সালে জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শশীলজ পুরাকীর্তি অত্যন্ত সুন্দর একটি স্থাপনা। এর প্রত্নসম্পদ ময়মনসিংহ জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় জনগণ এ প্রত্নসম্পদ থকে মুক্তাগাছার জমিদারদের জীবনযাপন প্রণালী, ব্যবহার্য জিনিস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

৭ নম্বর প্রশ্নের (গ)-এর উত্তর

‘ক’ নম্বরের ঐতিহাসিক স্থানটি হলো ঢাকার সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্ক।

বাংলাদেশে প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনামল ঔপনিবেশিক যুগ হিসেবে পরিচিত। ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে অনেক জমিদারবাড়ি, বণিকদের আবাসিক ভবন, অফিস-আদালত ভবন, রেলস্টেশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপত্য তৈরি হয়েছিল। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকার নবাব আব্দুল গনি সদরঘাট এলাকায় বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি পার্ক তৈরি করে ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার নামে এর নাম দেন ভিক্টোরিয়া পার্ক। তার আগে জায়গাটির নাম ছিল আন্টাঘর ময়দান, যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৮৫৭ সালের প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কম্পানি বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করে। ধীরে ধীরে তারা পুরো ভারতের শাসনক্ষমতা দখল করে অন্যায়, অত্যাচারের নির্মম ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে। এর ঠিক ১০০ বছর পর ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এ দেশীয় সৈন্যরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু করে। ইংরেজরা একে সিপাহি বিদ্রোহ বলে আখ্যা দেয়। উন্নত অস্ত্র ও দক্ষ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চাতুর্য ও নিষ্ঠুরতার যোগ ঘটিয়ে ইংরেজরা এ বিদ্রোহ দমন করে। বিদ্রোহী সৈন্যদের যারা ঢাকায় ইংরেজদের হাতে বন্দি হয় তাদের ইংরেজরা এই আন্টাঘর ময়দানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়। এ ঘটনার ঠিক ১০০ বছর পর ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। ভারতবর্ষের শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামে পার্কটির নাম হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।

৭ নম্বর প্রশ্নের (ঘ)-এর উত্তর

‘খ’ নম্বরের স্থানটি সোনারগাঁ ঐতিহাসিক স্থানকে নির্দেশ করছে—সুলতানি আমলে যার খ্যাতি থাকলেও পরবর্তী মোগল যুগে এর গুরুত্ব কমে যায়। কারণ সুলতান আমলে সোনারগাঁ বাংলার রাজধানী ছিল।

দিল্লির মুসলিম সুলতানরা পুরো বাংলাকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করেন। যার একটি ছিল পূর্ব বাংলার সোনারগাঁ। ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁর শাসনকর্তা ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির মুসলমান সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ওই সময় বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ থাকায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগপর্বে এর গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছিল।

সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ থাকায় একে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। ওই সময় মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। মসলিন শাড়ি এতই সূক্ষ্ম ছিল যে তা নিয়ে কিংবদন্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁর পানাম এলাকাটি বেছে নেন। পরবর্তী সময়ে মোগল আমলে সোনারগাঁ রাজধানী হিসেবে না থাকায় এর গুরুত্ব কমে যায়।

 

 জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল টেস্টের সৃজনশীল উত্তরের বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা