kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা মালিবাগের সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সুলতানা নুসরত জাহান

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



২ নম্বরের (ক) প্রশ্নের উত্তর

এসডিজির আরেক নাম ‘আমাদের ধরিত্রীর রূপান্তর : টেকসই উন্নয়ন ২০৩০ এজেন্ডা’।

 

২ নম্বরের (খ) প্রশ্নের উত্তর

কোনো অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনকে উন্নয়ন বলে।

সাধারণভাবে উন্নয়ন বলতে বোঝায় কোনো কিছু শুরু থেকে ক্রমেই পরিপূর্ণতা লাভ করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। অর্থনৈতিক অবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এবং সামাজিক উন্নয়কে সম্মিলিতভাবে উন্নয়ন বলা হয়। উন্নয়ন হলো একটি সামগ্রিক ধারণা, যেখানে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না।

 

২ নম্বরের (গ) প্রশ্নের উত্তর

উদ্দীপকে ঢাকা শহরের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা টেকসই উন্নয়নের পরিপন্থী।

টেকসই উন্নয়ন হলো একটি সামগ্রিক ধারণা, যেখানে মানুষের চাহিদা পূরণ করতে প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হবে, তবে নিঃশেষ হয়ে যাবে না বা ক্ষতি হবে না। যে উন্নয়নের ফলে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের পরিপন্থী বলা হয়; যা উদ্দীপকের ঢাকা শহরের চিত্র থেকে বোঝা যায়।

আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে জনসংখ্যার চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে সীমিত আয়তনে বিপুল জনসংখ্যার ভার বহন করতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। টেকসই শহরে সুপরিকল্পিত বনভূমি, সুপেয় পানি, পরিশুদ্ধ জলাশয়, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, পার্ক, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকবে, যা ঢাকা শহরে বিলুপ্ত হতে বসেছে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গাছপালা কেটে দালানকোঠা নির্মাণের ফলে বন উজাড় করা হচ্ছে। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি ঘটছে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখছে, এতে জীবন ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা টেকসই উন্নয়নের পরিপন্থী।

 

২ নম্বরের (ঘ) প্রশ্নের উত্তর

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের নগরায়ণ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন, কারণ এর ফলে জীবন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, ক্রমাগত প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, ভোগ-বিলাসিতাসহ সভ্যতার অগ্রগতির কারণে জলাবায়ু তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। এতে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে চলেছে এবং গ্রিন হাউস প্রভাব আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। মানুষ ও প্রাণিকুল পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় ক্রমে বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

উদ্দীপকে ঢাকা শহরের মতো বিশ্বব্যাপী নগরায়ণ আর উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় অক্সিজেন সরবরাহকারী বনভূমি বিলুপ্ত হচ্ছে। জলাশয় ভরাট হচ্ছে একের পর এক। শ্বাসরোধকারী নগরায়ণে আমাদের জীবন ও প্রাণিকুল বিপন্ন হয়ে পড়ছে বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের নগরায়ণ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। বিশ্বের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি জলবায়ু কেন পরিবর্তন হচ্ছে, আর এর ফলে কী কী হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পিত জীবনব্যবস্থার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে বিপন্ন করছে।

উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উপাদানকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা বলছেন। এগুলো হলো জনগণ, ধরিত্রী, সমৃদ্ধি, শান্তি ও অংশীদারি। অপরিকল্পিতভাবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন না করে আমরা যাতে সচেতনভাবে পরিবেশ ও জলবায়ুর কথা চিন্তা করে উন্নয়নে কাজ করি তবে তা জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি আনবে এবং একটি নিরাপদ ধরিত্রী বজায় রাখতে সাহায্য করবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ শান্তিময় ধরিত্রীর জন্য উদ্দীপকের মতো অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

 

৩ নম্বরের (ক) প্রশ্নের উত্তর

সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আঞ্চলিক সংস্থা গড়ে উঠেছে।

৩ নম্বরের (খ) প্রশ্নের উত্তর

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার কমিয়ে আনার জন্য সরকার নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাল্যবিয়ে রোধের জন্য বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কোটা প্রথা চালু করা হয়েছে, যাতে নারীরা শিক্ষিত হয়ে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

 

৩ নম্বরের (গ) প্রশ্নের উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থা FAO, যা খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহায্য প্রদান করে থাকে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার FAO সারা বিশ্বে ক্ষুধার বিরুদ্ধে কাজ করছে। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের মাধ্যমে বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে না। উপরন্তু বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রায়ই খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যার মোকাবেলায় একটি খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে FAO দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহায্য দেয়। এ ছাড়া FAO খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা ও কৃষির উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে থাকে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করে। ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খুদে ও প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয় সংস্থাটি।

 

৩ নম্বরের (ঘ) প্রশ্নের উত্তর

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের জনসংখ্যাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি অর্থাৎ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল UNFPA বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নে সহায়তা করছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির পুরো নাম The United Nations Population Fund. বাংলায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল। এটি জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশগুলোর জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের সহায়তা করে। কারণ জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এই দুটি ধারণা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি দেশের জনসংখ্যার ওপর সে দেশের উন্নয়ন অনেকটাই নির্ভর করে।

অতিরিক্ত জনসংখ্যা যেকোনো দেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবেলায় ইউএনএফপিএ দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে ইউএনএফপিএ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

ইউএনএফপিএর পরামর্শ ও সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে, ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে এসেছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান সচেতনতার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ। তাই ইউএনএফপিএ বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া, নারীর ক্ষতায়ন প্রভৃতি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে। এই সংস্থার সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ চালু হয়েছে। এভাবে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান ও দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে ইউএনএফপিএ কাজ করে যাচ্ছে।

 

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় মডেল টেস্টের সৃজনশীল উত্তরের বাকি অংশ ছাপা হবে আগামী সংখ্যায়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা