kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রশিদ

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



জেএসসি প্রস্তুতি সংখ্যায় প্রকাশিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মডেল প্রশ্নের সৃজনশীল অংশের উত্তরের বাকি অংশ

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

উত্তর : টেলিমেডিসিন হলো টেলিফোনের সাহায্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ পদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো সমস্যায় টেলিফোনের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে।

বিজ্ঞানের যে কয়টি শাখা দ্রুত উন্নতি করেছে চিকিৎসাবিজ্ঞান তার মধ্যে অন্যতম। তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসেই এখন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব। তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে ডাক্তাররা আর অনুমানের ওপর নির্ভর করেন না। একজন রোগী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরীর সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় জরুরি। আর এ কাজটি করা যায় প্রযুক্তির সাহায্যে। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ডাটাবেইসে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যখন কোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন করতে হয়, সেটাও তথ্য-প্রযুক্তির কারণে সঠিক হয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে নতুন নতুন যন্ত্রপাতিও তৈরি হচ্ছে। দেশের কোটি কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি সম্ভব হয় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে নিখুঁত পরিকল্পনা আর তা কার্যকরের মাধ্যমে। তথ্য-প্রযুক্তির কারণে অন্য মাত্রায় গবেষণা সম্ভব হয়েছে। আগে শুধু রোগের উপসর্গ কমানো হতো এখন সত্যিকারের রোগের কারণটিই খুঁজে বের করে সেটিকে অপসারণ করা হবে। শুধু তা-ই নয়, এখন যে রকম সব মানুষ একই ওষুধ খায়, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা করে তার শরীরের উপযোগী ওষুধ তৈরি হবে; এমনকি ভবিষ্যতে হাজার মাইল দূরে থেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্জনরা রোগীকে অপারেশন করতে পারবেন। তাই বলা যায়, চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসিটির ভূমিকা অপরিসীম।

 

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

উত্তর : টপোলজি—একটি নেটওয়ার্কের অন্তর্গত কম্পিউটারগুলো জুড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিকে বলা হয় নেটওয়ার্ক টপোলজি।

স্টার টপোলজি : কোনো নেটওয়ার্কে সব কম্পিউটার যদি একটা কেন্দ্রীয় হাবের (Hub) সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে সেটাকে বলে স্টার টপোলজি। এটা তুলনামূলকভাবে একটা সহজ টপোলজি এবং অনুমান করা যায়, কেউ যদি খুব তাড়াতাড়ি সহজে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়, তাহলে সে স্টার টপোলজি ব্যবহার করবে। এই টপোলজিতে একটা কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকি নেটওয়ার্ক সচল থাকে। কিন্তু কোনোভাবে কেন্দ্রীয় হাব নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্কটাই অচল হয়ে পড়বে। স্টার টপোলজিতে কম্পিউটারগুলোকে স্টারের মতোই সাজাতে হবে, তা কিন্তু সত্যি নয়।

 

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

উত্তর : মডেম একটি নেটওয়ার্ক যন্ত্র। টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো মডেম। Modem শব্দটি তৈরি হয়েছে Modulator-এর Mo Demodulator Dem-এর এই দুটি অংশের সমন্বয়ে। মডেম তার দ্বারা সংযুক্ত বা তারবিহীন প্রযুক্তিতে ব্যবহূত হতে পারে। এটি কম্পিউটারের ভেতরেও থাকতে পারে আবার বাইরেও থাকতে পারে। বর্তমানে DSL ও Wi-Fi মডেম বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। মডেম সিগন্যাল আদান-প্রদানে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাটা পাঠাবার জন্য বহনকারী সিগন্যাল দরকার হয়। আর মডেম এ ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ এবং অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে প্রেরণ করে। কম্পিউটার ডিজিটাল সংকেত তৈরি করে। তখন এর সঙ্গে সংযোগকারী মডেমের মডুলেটর অংশ এই ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে রূপান্তর করে প্রেরণ করে। এরপর প্রাপক কম্পিউটারে সিগন্যাল পৌঁছালে প্রাপক কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত মডেমের ডিমডুলেটরের অ্যানালগ সংকেতকে কম্পিউটারের উপযোগী ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়। এ মডেম প্রাপক ও প্রেরক উভয়ের ক্ষেত্রেই টেলিফোন লাইন ও কম্পিউটারের মাঝে যুক্ত থাকে। এ কারণে প্রেরক ও প্রাপক কোনো কম্পিউটারের জন্যই ডাটা বা তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণে কোনো অসুবিধা হয় না। মডেমের ব্যবহার নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে সিগন্যাল আদান-প্রদান সহজ। এভাবে মডুলেটর ও ডিমডুলেটরের মাধ্যমে মডেম নেটওয়ার্কে সিগন্যাল আদান-প্রদান করে।

 

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

উত্তর : কম্পিউটার ভাইরাস—কম্পিউটার ভাইরাস হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন।

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ : কাজের ধরনের ভিত্তিতে কম্পিউটার ভাইরাসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

যেমন—ক. অনিবাসী ভাইরাস খ. নিবাসী ভাইরাস।

অনিবাসী ভাইরাস : কোনো কোনো ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠার পর অন্য কোনো প্রগ্রামকে সংক্রমণ করে, সেটি খুঁজে বের করে। তারপর সেগুলোকে সংক্রমণ করে এবং পরিশেষে মূল প্রগ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

এগুলোকে বলা হয় অনিবাসী ভাইরাস (Non-Resident Virus)

নিবাসী ভাইরাস : অন্যদিকে কোনো কোনো ভাইরাস সক্রিয় হওয়ার পর মেমোরিতে স্থায়ী হয়ে বসে থাকে। যখনই অন্য কোনো প্রগ্রাম চালু হয়, তখনই সেটি সেই প্রগ্রামকে সংক্রমিত করে। এ ধরনের ভাইরাসকে বলা হয় নিবাসী ভাইরাস (Resident Virus )

কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য : কম্পিউটার ভাইরাসের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়—

i. এটি একটি ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা পুনরুৎপাদনে সক্ষম।

ii. এটি এক কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে অন্য কম্পিউটারে সংক্রমিত হতে পারে।

iii. কম্পিউটার ভাইরাস নানা ধরনের ক্ষতি সাধন করে থাকে। যেমন—কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া, হঠাৎ হ্যাং হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন রিবুট নেওয়া ইত্যাদি।

iv. বেশির ভাগ ভাইরাসই ব্যবহারকারীর অজান্তে তার সিস্টেমের ক্ষতি সাধন করে।

v. ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সংক্রমিত হতে পারে না।

vi. বিভিন্ন রকম ভাইরাসের ক্ষতি করার ক্ষমতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

 

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

উত্তর : ই-মেইল কথাটির মানে হলো ‘ইলেকট্রনিক মেইল’ বা ইলেকট্রনিক চিঠি। ই-মেইলের মাধ্যমে আমরা কোনো লেখা বা ছবি অন্য যেকোনো ই-মেইল ঠিকানায় ইলেকট্রনিকভাবে পাঠাতে পারি। ই-মেইল ঠিকানা খুলতে গেলে প্রথমেই আমাদের ঠিক করতে হবে কোন ই-মেইল সেবাদাতার মাধ্যমে ই-মেইল ঠিকানা খুলব। ই-মেইল ঠিকানা খোলার জন্য অনেক জনপ্রিয় সাইট রয়েছে। যেমন : ইয়াহু-মেইল, জি-মেইল, হট-মেইল ইত্যাদি। ই-মেইল ঠিকানা খোলার জন্য প্রথমে কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে হবে। এরপর কম্পিউটারের ওয়েবব্রাউজারটি চালু করে পছন্দের সেবাদাতা সাইটটিতে প্রবেশ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ ইয়াহুর সার্ভিস ব্যবহার করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

ইয়াহুর ওয়েব ঠিকানায় যেতে হবে : http://www.yahoo.com

‘Mail’

লেখার ওপর ক্লিক করতে হবে। নিচের দিকে যেখানে ‘Create Account’ লেখা সেখানে ক্লিক করতে হবে।  ‘Create Account’-এ ক্লিক করলে একটি ফরম আসবে।

ফরমটি পূরণ করতে হবে। এবং সব তথ্য ইংরেজিতে দিতে হবে। First name লেখা বক্সে নামের প্রথম অংশ লিখতে হবে এবং last name

লেখা অংশে নামের শেষ অংশ লিখতে হবে।

‘Yahoo username’ লেখা বক্সে Yahoo ID দিতে হবে।

আইডির দৈর্ঘ্য ৪-৩২ ক্যারেক্টারের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে ইয়াহুর পরামর্শ দেখা যেতে পারে।

আইডিটি সহজ-সরল ও বোধগম্য রাখার চেষ্টা করতে হবে।

আইডি লেখার নমুনা : [email protected]

একটি পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হবে। পাসওয়ার্ডটি ৬-৩২টি বর্ণ, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের মধ্যে রাখতে হবে।

সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হলে ‘Create Account’ ক্লিক করতে হবে। এ কাজগুলো সঠিকভাবে হয়ে গেলে একটি E-mail ID খোলা হয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা