kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত বাংলা মডেল টেস্টের উত্তর

বাংলা মডেল টেস্টের সৃজনশীল অংশের ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ট্যাবলয়েডে ছাপা হয়েছে। আজ বাকি অংশ দেওয়া হলো। উত্তর লিখেছেন ঢাকা কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক লুৎফা বেগম

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৩ মিনিটে



ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত বাংলা মডেল টেস্টের উত্তর

২। ক) ‘আবহমান’ শব্দের অর্থ হলো—যা আগে ছিল এবং এখনো আছে।                              

খ) নববর্ষ উৎসব ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর নতুন গুরুত্ব ও তাৎপর্য লাভ করে।       

শামসুজ্জামান খান রচিত ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের নববর্ষ উৎসব ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর নতুন গুরুত্ব ও তাৎপর্য লাভ করে। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে বৈশাখী ও কারুপণ্য মেলা এবং গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকা পহেলা বৈশাখের দিনে লাখো মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ছেলেরা এবং নানা রঙের শাড়ি পরে নারীরা এই অনুষ্ঠানকে বর্ণিল করে তোলে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলের গান, লোকসংগীত ও বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে সমবেত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। আনন্দময় ও সৌহার্দপূর্ণ এই পরিবেশ আধুনিক বাঙালির জীবনের এক গৌরবময় অধ্যায়।

গ) উদ্দীপকের পলাশতলা গ্রামের গৃহবধূদের পালনীয় আচার-অনুষ্ঠান ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের প্রাচীন আঞ্চলিক মাঙ্গলিক ‘আমানি’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে—নববর্ষের ‘আমানি’ প্রধানত কৃষকের পারিবারিক অনুষ্ঠান। চৈত্র মাসের শেষ দিনের সন্ধ্যারাতে গৃহকর্ত্রী এক হাঁড়ি পানিতে স্বল্প পরিমাণ অপক্ব চাল ছেড়ে দিয়ে সারা রাত ভিজয়ে তার মধ্যে একটি কচি আমের পাতা যুক্ত ডাল বসিয়ে রাখেন। পহেলা বৈশাখের সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে গৃহকর্ত্রী সেই হাঁড়ির পানি সারা ঘরে ছিটিয়ে দেন। পরে সেই ভেজা চাল সবাইকে খেতে দিয়ে আমের ডালের কচি পাতা হাঁড়িতে ভিজিয়ে বাড়ির সবার গায়ে ছিটিয়ে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে বাড়ির সবার কল্যাণ হবে। নতুন বছর হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির।

উদ্দীপকের পলাশতলা গ্রামের গৃহবধূদের শুকনো চাল ও নিমপাতা ভেজে সবাইকে খেতে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের কৃষক পরিবারের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের উপর্যুক্ত বক্তব্যকে নির্দেশ করে।

ঘ) নববর্ষ শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসই না, সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও দিন—এই দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের মূলভাবকে ধারণ করেছে।

‘বাংলা নববর্ষ’ বাঙালির খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ইতিহাস, বিশেষ করে নববর্ষ উদ্্যাপনের ইতিকথা মিশে আছে। নববর্ষের দিন নবাব-জমিদাররা পুণ্যাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন। এ ছাড়া হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষ এ উৎসবকে প্রাণে ধারণ করেছে। পাহাড়ি অবাঙালি জনগোষ্ঠীও বৈসাবি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের মতো করে নববর্ষ অনুষ্ঠান উদ্্যাপন করে। সূচনার পর থেকে নববর্ষ পালনে নানা মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। তবে এ অনুষ্ঠানকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করায় সে আয়োজন দেশময় ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্দীপকে পলাশতলা গ্রামের গৃহস্থ বধূদের যে আচার পালনের কথা বলা হয়েছে, তাতে মানুষের কল্যাণ কামনার দিকটি উদ্ভাসিত হয়েছে।

তাই বলা যায়, নববর্ষে নানা উৎসব-অনুষ্ঠান উদযাপন করা হলেও এটি একই সঙ্গে মানুষের কল্যাণ কামনারও দিন।

৩। ক) ‘শ্লোক’ হলো—সংস্কৃত ভাষায় রচিত দুই চরণে অন্ত্যমিল যুক্ত এবং প্রায়ই চার লাইনে বিভক্ত কবিতা বা কবিতাংশ।

খ) যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগেই পাওয়া যায় ভারতীয় আর্য ভাষার তিনটি স্তর।

হুমায়ুন আজাদ তাঁর ‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধে বলছেন যে যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগেই ভারতীয় আর্য ভাষার যে তিনটি স্তর পাওয়া যায়, তার প্রথম স্তরটির নাম বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দ এ ভাষার কাল। তারপর পাওয়া যায় সংস্কৃত, যা খিস্টপূর্ব ৮০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দের দিকে ব্যাকরণবিদ পাণিনির হাতে চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়। বৈদিক ও সংস্কৃতকে বলা হয় প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা। প্রাকৃত ভাষাগুলোকে বলা হয় মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ ভাষাগুলো কথ্য ও লিখিত ভাষারূপে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত থাকে। প্রাকৃত ভাষাগুলোর শেষস্তরের নাম অপভ্রংশ, অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে। বিভিন্ন অপভ্রংশ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে নানা আধুনিক ভারতীয় আর্য ভাষা—বাংলা, হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি, পাঞ্জাবি প্রভৃতি ভাষার।

গ) উদ্দীপকের ইংরেজি শিক্ষকের অনুসন্ধানে উন্মোচিত বাংলা ভাষার শব্দের গতিপথ ‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধের সঙ্গে যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো বাংলা ভাষার উদ্ভবের ইতিহাস।

‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে—সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দই বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। উনিশ শতকের একদল লোক তাই মনে করতেন ওই সংস্কৃত ভাষাই বাংলার জননী। বাংলা সংস্কৃতের মেয়ে। তবে দুষ্টু মেয়ে, যে মেয়ে মায়ের কথামতো না চলে চলে অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে উনিশ শতকেরই আরেক দল লোক ছিলেন, যাঁরা মনে করতেন বাংলার সঙ্গে সংস্কৃতের সম্পর্ক বেশ দূরের। অর্থাৎ সরকারি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলার উদ্ভব ঘটেনি। ঘটেছে অন্য কোনো ভাষা থেকে। সংস্কৃত ছিল সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষের লেখার ভাষা। তা কথ্য ছিল না। মানুষ কথা বলত নানা রকম ‘প্রাকৃত’ ভাষায়। তারা বিশ্বাস করত যে সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার।

উদ্দীপকের ইংরেজি শিক্ষকও লক্ষ করেন যে মানুষ সংস্কৃত ভাষায় কথা না বলে অন্য ভাষায় কথা বলত। তাই তিনি বাংলা শিক্ষকের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধের উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) সাদৃশ্যগত দিকটিতে অল্প কথায় ‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে—সাধারণ মানুষ কথা বলত প্রাকৃত ভাষায়। এ প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। এ সম্পর্কে ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বাংলা, আসামি আর ওড়িয়া ভাষা। তাই বাংলার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আসামি ও ওড়িয়ার। আরো কয়েকটি ভাষার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা রয়েছে বাংলার সঙ্গে। কারণ সেগুলোও জন্মেছিল মাগধী অপভ্রংশের অন্য দুটি শাখা থেকে। ওই ভাষাগুলো হচ্ছে মৈথিলি, মাগধী, ভোজপুরিয়া। জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনও মনে করেন বহু প্রাকৃতের একটির নাম মাগধী প্রাকৃত। এই মাগধী প্রাকৃতের পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অবশ্য একটু ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন গৌড়ী প্রাকৃতের পরিণত অবস্থা গৌড়ী অপভ্রংশ থেকে উৎপত্তি ঘটে বাংলা ভাষার।

উদ্দীপকের ইংরেজি শিক্ষকও অনুসন্ধানে উন্মোচন করেন যে মানুষের মুখের ভাষা থেকেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে, সংস্কৃত ভাষা থেকে নয়।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়, বাংলা ভাষার জন্ম যে দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহৃত ভাষা অর্থাৎ প্রাকৃত থেকে তা ‘বাংলা ভাষার জন্ম কথা’ প্রবন্ধের উপর্যুক্ত বক্তব্যে সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

৪। ক) মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্যের নাম বীরাঙ্গনা।

খ) কবি আপন মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসেন বলেই আশা করেন যে দেশমাতৃকা তাঁকে ক্ষমা করে দেবে।

‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবি দেশকে মা হিসেবে কল্পনা করে নিজেকে ভেবেছেন তার অধম সন্তান। মা যেমন সন্তানের কোনো দোষ মনে রাখেন না, তেমনি দেশমাতৃকাও তাঁর সব ভুল গুণ হিসেবে ধরে তাঁকে ক্ষমা করে দেবে, কবি এটাই আশা করেন।

গ) উদ্দীপক দুটিতে ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবির স্বদেশ প্রেমের দিকটি ফুটে উঠেছে।   

‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবির স্বদেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে মা হিসেবে কল্পনা করে নিজেকে ভেবেছেন তার অধম সন্তান। কবি প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশমাতৃকার স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে চান। তিনি জানেন, জন্ম মাত্রই মৃত্যু মানুষের অনিবার্য পরিণতি। কিন্তু দেশমাতৃকা যদি কবিকে মনে রাখে, তবে তিনি মৃত্যুকেও ভয় পান না। কবি মনে করেন তাঁর এমন কোনো গুণ নেই, যাতে তিনি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে স্মরণীয় হতে পারেন। তবে দেশ মাতা তাঁর ভুলগুলোকে গুণ হিসেবে ধরলেই তিনি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকতে পারবেন।

উদ্দীপকের কবিরাও স্বদেশের প্রকৃতিকে ভালোবেসে বারবার এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছেন। উদ্দীপকের কবিদের এই স্বদেশপ্রীতির দিকটিই ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

ঘ) বিদেশের ঐশ্বর্য ও জৌলুস সত্ত্বেও নিজ দেশের প্রতি মনের গভীরে আগ্রহবোধ উদ্দীপকদ্বয় ও ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় বিদ্যমান।

‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় বলা হয়েছে যে কবি তাঁর দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তাই প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে অমরত্ব লাভের বাসনা করেন। কবি জানেন যে মনুষ্য সমাজে সেই ধন্য লোকে যাকে প্রাতঃস্মরণীয় করে রাখে। কবি মনে করেন, তাঁর কোনো গুণ না থাকলেও দেশমাতৃকা গর্ভধারিণী মায়ের মতো তাঁকে ক্ষমা করে অমরত্ব দান করবেন। দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন বলেই বিনয়ী কবি নিজেকে গুণহীন, অধম ভেবে দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকতে চান।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবি এ দেশের ধূলিকণাকে যেমন সোনার চেয়ে মূল্যবান মনে করেছেন, প্রথম কবিও তেমনি বাংলাকে ভালোবেসে জনমে জনমে এ দেশে ফিরে আসতে চেয়েছেন।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার মূল চেতনা একই ধারায় প্রবাহিত।

৫। ক) ‘খত’ শব্দের অর্থ হলো—ঋণপত্র, ঋণের দলিল।                               

খ) ভিটে মায়ের বাহ্যিক পরিবর্তন দেখে উপেন তাকে ধিক্কার দিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার দরিদ্র প্রজা উপেনের শেষ সম্বল সাত পুরুষের ভিটেখানি জমিদার দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া হয়ে উপেন পনেরো-ষোল বছর গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘুরলেও পৈতৃক ভিটার টানে আবার নিজ গ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু গ্রামের সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও তার ভিটেখানির পূর্বশ্রী সে আর কোথাও খুঁজে পায় না। জমিদারের হাতে পড়ে তার ভিটেখানির লক্ষ্মী শ্রী সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে বলে মনের দুঃখে সে ভিটে মাকে ধিক্কার দেয়।                    

গ) উদ্দীপকের কালু শেখ ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার উপেনের সঙ্গে ভিটেমাটি হারানোর দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার দরিদ্র কৃষক উপেন অভাব-অনটনে বন্ধক দিয়ে তার প্রায় সব জমিই হারিয়েছে। বাকি ছিল মাত্র দুই বিঘা জমির ভিটেখানি। কিন্তু জমিদার তাঁর বাগান দৈর্ঘ্য-প্রস্থে সমান করার জন্য জমিখানি কিনে নিতে চায়। উপেন সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সে জমি বিক্রি করতে না চাওয়ায় জমিদারের ক্রোধের শিকার হয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে জমিদার তার সে ভিটেখানি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া হয়ে উপেন বাধ্য হয় পথে নামতে।

উদ্দীপকের বর্গাদার কালু শেখ হালের বলদ কেনার জন্য চৌধুরী সাহেবের ছেলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেয়। যথাসময়ে টাকা শোধ করতে গিয়ে জানতে পারে, সে নাকি ভিটেখানি বন্ধক রেখে উক্ত টাকা নিয়েছে। নিরক্ষরতার কারণে কালু শেখ ভিটেমাটি হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার উপেনের পৈতৃক ভিটে হারানোর কাহিনির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার উপেন জন্মভূমির টানে আবার নিজ ভিটায় ফিরে এসে ‘চোর অপবাদে অভিযুক্ত হয়ে’ তার জীবনকাহিনিকে মর্মস্পর্শী করেছে।

‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার উপেন জমিদারের ক্রোধের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বছর পনেরো-ষোল সাধু বেশে গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘোরে। কিন্তু কিছুতেই ভিটেমাটির স্মৃতি ভুলতে না পেরে একদিন নিজ গ্রামে ফিরে আসে। তার পৈতৃক ভিটেখানি জমিদারের কবলে পড়ে নিশ্চিহ্ন হলেও প্রাচীরের কাছে ছোটবেলার স্মৃতিবিজড়িত আমগাছটি দেখে সে পরম শান্তি অনুভব করে। সেই আমগাছের ছায়াতলে বসে শ্রান্ত-ক্লান্ত উপেন যখন ছোটবেলার স্মৃতি মনে করছিল, তখন হঠাৎ বাতাসের ঝাপটায় দুটি পাকা আম তার কোলের কাছে পড়ে। আম দুটিকে সে জননীর স্নেহের দান মনে করে গ্রহণ করে। কিন্তু তখনই মালি ছুটে এসে তাকে আমচোর বলে গালাগাল করে জমিদারের কাছে ধরে নিয়ে যায়। জমিদারের কাছে সে আম দুটি ভিক্ষা হিসেবে চাইলে জমিদার তাকে সাধুবেশী চোর বলে মিথ্যা অপবাদ দেয়।

অন্যদিকে উদ্দীপকের বর্গাচাষি কালু শেখ শুধু নিরক্ষরতার কারণে কাগজের লেখা পড়তে পারেনি বলে ভিটেমাটি হারিয়েছে, পরবর্তী সময়ে তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, ভিটে হারানোর দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার উপেনের পরিণতি আরো বেশি মর্মস্পর্শী, যা কবিতার শেষাংশে উপেন চোখের জলে উচ্চারণ করেছে—

‘এই ছিল মোর ঘটে তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ,      আমি আজ চোর বটে।’

৬। ক) বাঙালি পল্টন ১৯১৯ সালে ভেঙে দেওয়া হয়।

খ) কবি নারী-পুরুষকে মানুষ হিসেবে দেখেন বলে ভেদাভেদ করেন না।

‘নারী’ কবিতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘নর-নারী’ উভয়কেই মানুষ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, পৃথিবীতে মানবসভ্যতা বিনির্মাণে নারী ও পুরুষের অবদান সমান। সাম্যবাদী কবি নারী-পুরুষের সমান অধিকারে আস্থাবান বলে দুইয়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করেন না।

গ) নারীর যোগ্য সম্মান ও অধিকার প্রাপ্তির দিক থেকে উদ্দীপকের রুবিনার সঙ্গে ‘নারী’ কবিতার নারীর বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

‘নারী’ কবিতায় বলা হয়েছে, মানবসভ্যতার বিনির্মাণে নারীর সমান অবদান থাকাসত্ত্বেও তারা সর্বপ্রকার স্বীকৃতি পাওয়া থেকে বঞ্চিত। এ পৃথিবীতে পাপ-তাপ, বেদনা-অশ্রু, যা কিছু এসেছে তা নারী-পুরুষ উভয়েই এনেছে। অথচ পৃথিবীতে সংঘটিত বড় বড় বিজয় অভিযানে শুধু পুরুষের অবদানই স্বীকৃত হয়েছে, মায়ের স্নেহ-মমতা, বোনের সেবা ও বধূদের সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়ার কথা ইতিহাসের কোথাও লেখা নেই। পুরুষের বিজয়ের পেছনে নারীর প্রেরণা, শক্তি সব সময়ই থাকাসত্ত্বেও বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে অথবা ইতিহাসে তাদের অবদান বরাবরই অলিখিত রয়ে গেছে।

অন্যদিকে উদ্দীপকের রুবিনা সামান্য গৃহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও স্বামীর কাছ থেকে যোগ্য সম্মান ও অধিকার পায়। তার এই অধিকার ও সম্মান প্রাপ্তির সঙ্গে ‘নারী’ কবিতার নারীদের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ) বৈসাদৃশ্যগত দিকটিতে কবি নারীর অধিকার ক্ষুণ্ন না করে তাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছেন।

‘নারী’ কবিতার কবি সাম্যবাদী মানসিকতায় বিশ্বাসী। মানবসভ্যতার বিনির্মাণে নারী-পুরুষের অবদান সমান হলেও নারীর অবদান সব থেকেই অস্বীকৃত হয়েছে। কিন্তু এখন দিন এসেছে সমঅধিকারের। তাই নারীর ওপর আর নির্যাতন করা চলবে না, তার অধিকার ক্ষুণ্ন করা চলবে না। এ সত্য জানা সত্ত্বেও এখনো যদি কেউ নারীকে অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে তাকেই অবরুদ্ধ হতে হবে। অন্যের ওপর নিপীড়ন চালালে নিজেকেও নিপীড়িত হতে হবে, এটাই এ যুগের ধর্ম।

উদ্দীপকের আখতার সামান্য দিনমজুর হওয়া সত্ত্বেও সংসারে স্ত্রীর অবদান স্বীকার করে তাকে প্রাপ্য সম্মান দেয়।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, নারীর অধিকারকে ক্ষুণ্ন না করে নারী-পুরুষ সবাইকে সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে হবে সম্মিলিতভাবে—এই বার্তাটিই ‘নারী’ কবিতার কবি দিতে চেয়েছেন।

 

[নির্মিত অংশের উত্তরের জন্য পাঠ্য বই অনুসরণ করো]

 

ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত ইংরেজি মডেল টেস্টের উত্তরের বাকি অংশ ছাপা হবে আগামী সংখ্যায়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা