kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

ডিএনএ

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ডিএনএ-এর কথা উল্লেখ আছে]

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডিএনএ

মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্যাবলি তাঁদের সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয় যে বংশগতি বস্তুর মাধ্যমে তার একটি ডিএনএ (DNA)। অন্যগুলো হলো—ক্রমোজম, জিন ও আরএনএ। ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড বা ডিএনএ হচ্ছে নিউক্লিক এসিড। এটি জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। ডিএনএর যে অংশ বংশগত তথ্য বহন করে সেগুলোকে জিন বলে।

সুইস রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ মিশার ১৮৬০ সালে প্রথম ডিএনএ শনাক্ত করেন। তিনি মূলত ডিএনএ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে কাজে নামেননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, শ্বেত রক্তকণিকার প্রোটিনের উপাদান আলাদা ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা। মিশার এর পরিবর্তে এমন এক পদার্থের সন্ধান পান, যা এনজাইম সহযোগে বিশ্লেষিত হয় না এবং যার মধ্যে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি। তিনি বুঝতে পারেন এটি প্রোটিন না হলেও প্রোটিনের মতোই কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ। মিয়েশ্চার এর নাম দেন নিউক্লিইন। নিউক্লিইন থেকে পরবর্তী সময়ে নিউক্লিক এসিড এবং অবশেষে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড বা ডিএনএ নামে পরিচিতি পায়। এরপর মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ইংরেজি বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে প্রথম ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স বা দ্বি-সূত্রী কাঠামোর বর্ণনা দেন। এ কাজের জন্য তাঁরা নোবেল পুরস্কার পান। প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে। ব্যাকটেরিয়ায় কোষের সাইটোপ্লাজমে ডিএনএ থাকে। ডিএনএতে পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, নাইট্রোজেনঘটিত বেস বা ক্ষার ও অজৈব ফসফেট থাকে। এই তিনটি উপাদানকে একত্রে ‘নিউক্লিওটাইড’ বলে। ডিএনএ হাজার হাজার নিউক্লিওটাইডের বা নিউক্লিক এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। প্রকৃত কোষে ডিএনএ সূক্ষ্ম সুতার মতো; কিন্তু আদি কোষের ডিএনএ সাধারণত গোলাকার। এর দৈর্ঘ্য কয়েক মাইক্রন থেকে কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।  

ডিএনএ বংশগতির ধারক ও বাহক। এর মাধ্যমে জীবের বংশানুক্রমিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা