kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবম-দশম শ্রেণি - বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি - বাংলা প্রথম পত্র

প্রতিবেদন

মনে করো, তুমি মুহিত। ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকার জামালপুর জেলার স্টাফ রিপোর্টার। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে একখানা প্রতিবেদন প্রণয়ন করো।

নারিকেলি বাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা : বাসচালক পলাতক

মুহিত, স্টাফ রিপোর্টার, কালের কণ্ঠ, জামালপুর।

১১ আগস্ট, শনিবার, ২০১৯

 

১১ আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২ ঘটিকায় জামালপুর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নারিকেলি বাজারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ ২২ জন নিহত ১৫ জন আহত হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা ‘প্রগতি’ বাসটি (ঢাকা-খ-২৫৩০) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নারিকেলি বাজারের পার্শ্ববর্তী বটগাছের সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খেয়ে উল্টে পড়ে যায়। প্রচণ্ড শব্দ ও মর্মান্তিক চিৎকার শুনে বাজারের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। বাসযাত্রীদের ৩০ জনকে আহতাবস্থায় জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দুর্ঘটনাস্থলে বাসচালক ও হেলপারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নারিকেলি বাজার থেকে টেলিফোনে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজন ও হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান জেলা শিক্ষা কম অফিসার আবুল হাসান। তিনি জানান, হয়তো তাঁর মতো বাসচালক ও হেলপারও বেঁচে আছে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে শিক্ষা অফিসার জানান, প্রগতি বাসটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ২৫ জন। কিন্তু ঈদের ঠিক দুদিন আগে অতিরিক্ত আয়ের লোভে ড্রাইভার ও হেলপার সব স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠানামা করিয়েছে। এর ফলে যাত্রা বিলম্ব ঘটেছে। পরিবহন সিন্ডিকেটের নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে জরিমানা দিতে হয়। তাই পথে যাত্রীদের নিষেধ অমান্য করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষা অফিসার জানান, তাঁর অক্ষতভাবে বেঁচে থাকাটাই তাঁর নিজের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়।

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিউরে ওঠেন। জমাট বাঁধা রক্ত, দুমড়ানো-মোচড়ানো বাস—সব মিলিয়ে মর্মান্তিক এক দৃশ্য। তবে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে নিহতদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার খবর ওই পরিবারে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় জনগণ বাসচালক ও হেলপারকে খুঁজে বের করে তাদের চরম শাস্তির দাবি জানায়। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে সরকার ও বাস মালিক সমিতির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা